ভিকারুননিসার আন্দোলন স্থগিত, শ্রেণী শিক্ষক কারাগারে


Published: 2018-12-06 19:13:53 BdST, Updated: 2018-12-13 06:14:01 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: ছয় দফা দাবিতে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করেছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় ৬ দফা দাবির আন্দোলন স্থগিত করে বাড়ি ফিরেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার বিকালের দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়। শিক্ষক এবং গভর্নিং বডির সঙ্গে বৈঠক শেষে এই ঘোষণা দেয়া হয়।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আনুশকা রায় বলেন, আমাদের দাবি প্রায় সবগুলো মেনে নেয়া হয়েছে। তবে আমাদের ছয় দফার মধ্যে ১ ও ৫ দফা তদন্তের বিষয় স্কুল কর্তৃপক্ষের হাতে নেই। এগুলো মন্ত্রণালয় ও সরকারের ব্যাপার, তদন্তের ব্যাপার। তবে ২, ৩, ৪ ও ৬ দফা স্কুল কর্তৃপক্ষ মেনে নিয়েছে। এজন্য সময় দিতে হবে। আমরা আন্দোলন স্থগিত করেছি।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আনুশকা রায় আরো বলেন, কাল থেকে আমরা পরীক্ষায় অংশ নেবো। আমাদের কোনো নির্দোষ শিক্ষক ও শিক্ষার্থী যাতে এই ঘটনায় হেনস্থা না হয় আমরা সেটা চাই। ঘটনার একটি সুষ্ঠু তদন্ত চাই। দোষীরা যাতে বিচারের মুখোমুখি হয়।

এদিকে বৃহস্পতিবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির বরখাস্ত শ্রেণি শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এছাড়া অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন স্কুলটির গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান গোলাম আশরাফ তালুকদার।

এসময় তিনি বলেছেন, আমাদের একজন শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে আমরা সহমর্মিতা প্রকাশ করছি, ক্ষমা চাচ্ছি। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমি বলবো শিক্ষার্থীরা, তোমরা ক্লাসে ফিরে এসো।

জীবন আহমেদ ভিকারুননিসা নূন স্কুলের শিক্ষার্থী অরিত্রি অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া শ্রেণি শিক্ষক হাসনা হেনাকে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা ২০ মিনিটে ডিবি পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করে। এ সময় মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক কামরুল ইসলাম।

আবেদনে তিনি আরও বলেন, শিক্ষিকা জামিনে মুক্তি পেলে সুষ্ঠু তদন্তে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে। অপরদিকে শিক্ষিকার আইনজীবী জাহাঙ্গীর হোসেন তার জামিন চেয়ে আবেদন করেন।

শুনানিতে আইনজীবী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। প্রধান শিক্ষক ওই শিক্ষার্থীর (অরিত্রি) অভিভাবককে ডাকতে বলায় উনি ডেকেছেন। এর বেশি কিছু তিনি জানেন না। তবে রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলী হেমায়েত হোসেন শুনানিতে বলেন, তিনি শিক্ষিকা নামের কলঙ্ক। তার জামিন নামঞ্জুর করা হোক।

 

ঢাকা, ০৬ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।