কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার এখন কৃষিতেই


Published: 2018-10-19 21:36:31 BdST, Updated: 2018-11-14 15:59:04 BdST

ওলী আহম্মেদ: বাংলাদেশের একটা ছেলে কিংবা মেয়ে, বয়স ৬-৭ বছর। তাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, তুমি বড় হয়ে কি হতে চাও। এটা নিশ্চিত যে শতকরা ৯০ ভাগই উত্তর দিবে সে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। বিচ্ছিন্নভাবে বাকি কয়েকজন উত্তর দিবে ডিফেন্স অফিসার কিংবা পাইলট। এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভূমিকা রাখে তাদের হবু ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা পাইলটদের আব্বু-আম্মুরা। এটা ভাবার সুযোগ নেই যে, এ মহান পেশাগুলো নিয়ে বিষেদাগার করা হচ্ছে।

কিন্তু একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখা উচিত এই ৬-৭ বছরের শিশুদের ওপর জোরপূর্বক এসব লক্ষ্য ঠিক করে দেওয়া বাবা-মা হিসেবে আপনার দায়িত্বের মধ্যে পড়েনা, বরং বাবা-মা হিসেবে দায়িত্ব থাকবে সেই ছোট বয়সেই সন্তানের সঠিক মানসিক বিকাশে ভূমিকা রাখা, তাকে সঠিক পরিবেশে বড় করে নিজের মতে করে প্রকৃতি-পৃথিবীটাকে ভাবতে শেখানো।

তার বিশেষ বিশেষ গুণগুলোর দিকে এই ছোট বয়সেই নজর দেয়া সাথে সাথে সেই গুনগুলোর সঠিক বিকাশে সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। এতে করে যখন এই ছোট্ট শিশুটি বড় হয়ে হতাশায় ভুগবেনা, কেউ তাকে ক্ষুদ্র জ্ঞান করার সুযোগ পাবেনা।

সম্প্রতি এ বছর বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজগুলোতে কারা কারা পড়াশোনার সুযোগ পাবে, তাদের একটি তালিকা প্রকাশ হয়েছে। এ অবস্থায় একাংশ শিক্ষার্থীর উচ্ছ্বাস-আনন্দ অন্যদিকে অন্য এক অংশের বুকের ভেতরে চাপা কষ্ট, যা তাকে প্রতি মুহুর্তেই কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। মেডিকেলে চান্স না পাওয়ার কষ্ট সারাক্ষণই তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে তাদের।
হ্যা, তোমাদেরকেই বলা হচ্ছে তোমরা যারা মেডিকেলে চান্স পাওনি, জাস্ট একটুর জন্য ডাক্তার হওয়ার মতো মহান পেশাকে আলিঙ্গন করতে পারলেনা।

আচ্ছা, তুমি কি সত্যিই সেবা করার ব্রত নিয়ে, মহান পেশা ভেবে ডাক্তার হতে চেয়েছিলে তো? যদি তাই হয়, যদি সেবাই করতে চাও, যদিবা মহান পেশাই খুঁজো তবে এখন তোমাকে সেরকম বা তার চেয়েও বেশি কিছু মহান পেশার সন্ধ্যান দেওয়া হবে।
তবে চোখ খুলে দেখে নাও, কান খুলে শুনে নাও।।

কৃষিবিদ:
কৃষিই কৃষ্টি। কৃষিই সমৃদ্ধি। কৃষিকে ঘিরেই মানুষের সভ্যতার জাগরণ শুরু। ‘কৃষি’ পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর অন্যতম একটি। মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত পরতে পরতে কৃষির বিকল্প নেই। কৃষিই পৃথিবীর মূূল চালিকা শক্তি। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান,

চিকিৎসা, শিক্ষা ও বিনোদনের অধিকাংশ উপাদানই আসে এই কৃষি থেকই। আচ্ছা, খাদ্য ছাড়া তুমি বাঁচবে কি? তোমার প্রয়োজনীয় খাদ্যের একমাত্র উৎসই হলো কৃষি। চিকিৎসা ছাড়া অসুখ সারবে? কখনোই না। অধিকাংশ ঔষধের কাঁচামাল এই কৃষিজাত পণ্যই কিন্তু। এই যে ফ্যাশনেবল কাপড়-চোপড় পড়ে ঘুরাঘুরি কর, তোমার সেই ব্যবহৃত কাপড়ের কাঁচামালও কিন্তু এই কৃষিজাত পণ্যই।

প্রতিদিন যে এত কাগজ ব্যবহার করা হয়- বই, খাতা, কাগজ, টিস্যু পেপার এসবের উৎসও কি বলে দিতে হবে? ক্লান্ত হয়ে, হতাশ হয়ে ঘরে ফিরেই শরীর এলিয়ে দাও কোথাও না কোথাও। হয়তোবা খাট নয়তো শোফায় অন্তত একটা চেয়ারেও। ভেবে দেখেছো খাট, শোফা কিংবা চেয়ারের কাঁচামাল কি? হ্যা সেটাও কৃষি।

এখন তুমি যদি সেই কৃষির সার্বিক বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাও, ভবিষ্যতে তোমার গবেষণার দ্বারা কৃষিকে আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ পাও নিশ্চয়ই খারাপ লাগবেনা তোমার। হ্যা দেশে-বিদেশে কৃষি বিষয়ে পড়ার রয়েছে ব্যাপক সুযোগ। কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে তো আছেই।

বর্তমানে দেশে বিশেষায়িত ৫ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যেখানে তুমি পাবে কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে পড়ার অপার সুযোগ, স্বপ্ন দেখবে অপার সম্ভাবনার। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি), শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরকৃবি), সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সিকৃবি) ও সদ্য কার্যক্রম শুরু হওয়া খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (খুকৃবি)। দেশের কয়েকটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দুটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ও রাবিতেও এ বিষয়ে পড়াশোনার রয়েছে অফুরন্ত সুযোগ।

কৃষিবিদদের ডিগ্রি:
ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন এগ্রিকালচার B.Sc.Ag.(Hons)
কৃষি অনুষদে পড়তে হলে যে ডিপার্টমেন্ট গুলো চার বছরে তোমার সাথে থাকবে। এক নজরে দেখে নাও তাহলে:
Department of Agronomy
Department of Soil Science
Department of Entomology
Department of Horticulture
Department of Plant Pathology
Department of Agricultural Botany
Department of Genetics and Plant Breeding
Department of Agricultural Chemistry

Department of Biochemistry
Department of Languages
Department of Agroforestry & Environmental science
Department of Biotechnology
Department of Agricultural Engineering
Department of Agricultural Extension and Information System
Statistics
Fisheries

বিজ্ঞান নির্ভর প্রতিটা বিষয়ই অনেক মজা নিয়ে পড়াশুনা করা যাবে, হাতে-কলমে শিখতে পারবে এর প্রতিটি বিষয়। পড়াশোনার চাপ একটু বেশি হলেও অনেক আনন্দ নিয়ে পড়তে পারবে। কৃষির বিভিন্ন বিষয় ও দিক নিয়ে এমএস ও পিএইচডি করার সুযোগও রয়েছে দেশেই।

বিদেশেও রয়েছে উচ্চশিক্ষার বিশাল সুযোগ। উচ্চশিক্ষার জন্য প্রতি বছর প্রচুর শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান, জার্মান, নেদারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও ভারতে যাচ্ছে। একজন কৃষিবিদ হিসেবে তুমিওএ সুযোগ কাজে লাগাতে পারবে।
পড়াশোনা শেষে চাকুরির ক্ষেত্রের কথা ভাবছো?

বাংলাদেশের মতো কৃষিপ্রধান দেশে কৃষিবিদদের সরকারি-বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্র কোন অংশে কম নেই। কৃষিতে স্নাতক (সম্মান) শেষ করে বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের (বিসিএস) চাকরি করার সুযোগ তো আছেই। পাশাপাশি বিসিএস (কৃষি) ক্যাডারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীনে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়নে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা পদ সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করার সুবিধা রয়েছে। এছাড়া ইতোমধ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে কৃষিবিদ নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে কৃষিবিদদের কর্মক্ষেত্র আরও বৃদ্ধি করারও সিদ্ধান্ত সরকার।এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার সুযোগও হাতছাড়া হবেনা।

সরাসরি সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনেও রয়েছে চাকুরীর সুযোগ। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট, ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট, চা গবেষণা কেন্দ্র, মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র, বন গবেষণা কেন্দ্র, মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বন গবেষণা কেন্দ্র, লাইভস্টক কর্পোরেশন , পানি উন্নয়ন বোর্ড, রেশম উন্নয়ন

বোর্ড ও চিনিকল সংস্থায় প্রশাসনিক দায়িত্বে কৃষিবিদদের চাকুরীর বিরাট ক্ষেত্র আছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন এফএও, ইউএসএআইড, ডিএফআইডি, ড্যানিডা, সিডা, উইনরক, ইরি, আাইএফডিসি ও অক্সফাম জিবির মতো প্রতিষ্ঠানেও রয়েছে কৃষিবিদদের বিশেষ অগ্রাধিকার।

বেসরকারি ক্ষেত্রের কথা বলতে গেলে ব্র্যাক, স্কয়ার, অ্যাগ্রোভেট, সিনজেনটা, লালতীর, নীলতীর, ন্যাশনাল অ্যাগ্রোকেয়ার, প্রশিকা, আশা, এসিআই, কৃষিবিদ গ্রুপ, আরডিআরএস, ইস্পাহানী ও অ্যাকশন এইডের মতো প্রতিনিধিত্বকারী অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে বেসরকারি বীজ কোম্পানিগুলোতে রয়েছে কৃষিবিদদের যথেষ্ট চাহিদা। বেসরকারি পেস্টিসাইড ও ইনসেক্টিসাইড কোম্পানিগুলোতেওরয়েছে কৃষিবিদদের দারুণ কাজের ক্ষেত্র । চাকুরি না করতে চাইলে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা যাবে বিভিন্ন লাভজনক কৃষিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানও, যেখানে তোমার অধীনে চাকুরী করবে হাজারো মানুষ।

সুতরাং, সব হতাশা ঝেড়ে ফেলে সময় এখন সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের। তোমার পদচারণায় উন্মুখ হয়ে আছে দেশের কৃষি অনুষদগুলো। তোমাকে স্বাগতম!

 

ঢাকা, ১৯ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।