ধর্ষণের ভিডিও প্রচারের ভয় দেখিয়ে চাঁদাও দাবি করে তারাস্কুল পড়ুয়া প্রেমিকাকে ৩ বন্ধু মিলে ধর্ষণ, প্রেমিক আটক


Published: 2020-10-14 18:27:38 BdST, Updated: 2020-10-22 23:31:28 BdST

লাইভ প্রতিবেদকঃ কক্সবাজারের মহেশখালীতে প্রেমিকসহ তিনজন মিলে গণধর্ষণ করেছে এক স্কুল ছাত্রীকে। পরে ধর্ষণের ভিডিও প্রচারের ভয় দেখিয়ে ওই ছাত্রীর পরিবারের কাছে চাঁদাও দাবি করে তারা। তবে এ ঘটনায় স্থানীয়দের সহায়তায় প্রেমিক এবাদুল্লাহকে আটক করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। বুধবার (১৪ অক্টোবর) এ ঘটনায় আটক এবায়দুল্লাহ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-ওসি মো. আবদুল হাই বলেন, রোববার রাতে মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের দেবাঙ্গপাড়ায় এ ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় গ্রেফতার যুবক মো. এবায়দুল্লাহ বড় মহেশখালী ইউনিয়নের গুলগুলিয়া পাড়ার মোহাম্মদ আলী ওরফে নবাব মিস্ত্রির ছেলে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, বড় মহেশখালী ইউনিয়নের দেবাঙ্গপাড়ার ওই কিশোরীর সঙ্গে একই ইউনিয়নের পাশের গুলগুলিয়া পাড়ার আলী আহম্মদের ছেলে নুরুল হাকিমের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ১১ অক্টোবর রাতে ওই কিশোরীকে ফোনে করে বাড়ি থেকে ডেকে আনে তারা।

ওসি বলেন, পরে ওই কিশোরী প্রেমিক উল্লিখিত স্থানে পৌঁছালে নুরুল হাকিমের সঙ্গে খায়রুল আমিন ও মোহাম্মদ এবায়দুল্লাহ নামে আরও ২ যুবককে দেখতে পায়। একপর্যায়ে তারা ৩ বন্ধু মিলে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে। পরে ওই কিশোরী বাড়ি ফিরে ঘটনাটি তার মাকে জানায়।

এদিকে ঘটনার পরদিন সোমবার রাতে জড়িতরা ভিডিও ধারণের তথ্য জানিয়ে ওই কিশোরীর পরিবারের কাছ থেকে মোবাইল ফোনে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে আসছিল বলে জানান বড় মহেশখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় ইউপি সদস্য এরফান উল্লাহ।

এরফান বলেন, তিনিসহ (স্থানীয় ইউপি সদস্য) স্থানীয়রা ওই কিশোরীর পরিবারকে পরামর্শ দেন ঘটনায় জড়িতদের টাকা নিতে আসার জন্য। এতে গত ১২ অক্টোবর রাতে দেবাঙ্গপাড়া সংলগ্ন স্থানীয় এক বিলে টাকা নিতে আসে তারা।

এ সময় টাকা নিতে আসলে স্থানীয়দের ফাঁদে পড়ে মোহাম্মদ এবায়দুল্লাহ ও খায়রুল আমিন নামের দুই যুবক। এলাকাবাসী তাদের ধরে ফেলে। তবে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি আশরাফুল ইসলাম রাশেল জোর খাটিয়ে খালাতো ভাই দাবি করে খায়রুল ইসলামকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে এবায়দুল্লাহকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায় বলে জানান স্থানীয় ইউপি সদস্য।

এ ঘটনায় ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে আসামি করে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে থানায় মামলা করেন বলে জানিয়েছেন ওসি আবদুল হাই।

আবদুল হাই বলেন, গ্রেফতারকৃত যুবককে মহেশখালীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আলী আকবরের আদালতে নেয়া হলে সে ঘটনায় জড়িত থাকার ব্যাপারে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলছে।

ঢাকা, ১৪ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।