করোনায় কিভাবে সময় কাটাচ্ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা


Published: 2020-07-06 12:37:09 BdST, Updated: 2020-08-08 18:20:32 BdST

করোনা ভাইরাস। চীনের উহান হতে শুরু করে তা ছড়িয়ে পড়েছে প্রায় বিশ্বের সব দেশে। বাংলাদেশেও আক্রান্তের সাথে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্য। সরকার লকডাউন তুলে নিলেও এই অবাস্থায় স্কুল কলেজ সহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সসম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে সরকার। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই খুলে দেওয়া হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তারা নানান সমস্যা আর যাতনার মাঝে কেউ বা কেউ বা পড়া শুনার পরিকল্পনা করে ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্নে বিভোর। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা করোনাকালীন কিভাবে সময় কাটাচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ লেখাপড়া নিয়ে কি ভাবছে সেই সব কথা জানাচ্ছেন মুজাহিদ বিল্লাহ

মুক্তা বনিক তুলি, দ্বাদশ শ্রেনী, শেরপুর সরকারী কলেজ। তিনি ক্যাম্পাসলাইভকে খোলামেলা জানালেন, করোনার কারণে আমাদের পড়ালেখা থেমে গেছে,এইচ এস সি এক্সাম কবে হবে এটা জানিনা। এতদিন শুধু এক্সাম নিয়ে চিন্তা করতাম কিন্ত এখন এইচ এস সি এক্সাম সহ এডমিশন নিয়ে টেনশনে আছি। অনলাইনে এডমিশন ক্লাস শুরু হয়েছে। এখন অনলাইন ক্লাস করছি এবং পরীক্ষা দিচ্ছি আবার এইচ এস সি এক্সাম নিয়েও ভাবতে হচ্ছে।

এইচ এস সি এক্সামের জন্য টেস্ট পেপার সলভ করছি। করোনা আমাদের জীবনের রুটিনে পরিবর্তন এনে দিয়েছে।এক্সাম নিয়ে অনেক টেনশনে আছি। একবার শুনছি পরীক্ষার সাবজেক্ট কমাবে আবার নানান ধরনের কথা শুনছি। এই টেনশন নিয়ে আমাদের পড়ালেখা করতে হচ্ছে।সকলের কাছে দোয়াপ্রার্থী।

মো: এ বি এস ওসমান, একাদশ শ্রেনী, শেরপুর সরকারী কলেজ। তিনি ক্যাম্পাসলাইভকে বললেন, করোনা ভাইরাস এক আতংকের নাম। শুরুতে ভেভেছিলাম এটি বাংলাদেশে আসবেন। কিন্ত এরপর করোনা আসার পর সব কিছু বন্ধ হয়ে যায়।আমাদের রুটিনে অনেক পরিবর্তন চলে আসে।সকালে ০৪ঃ ৪৫ এ ঘুম থেকে উঠি তারপর ফজরের নামাজ পড়ি। সকালের দিকে পড়া লেখা করি। তারপর সকাল ৯;৩০ থেকে ১১ টা পর্যন্ত কোরআন পড়ি।

বিকেলের দিকে বিভিন্ন ধরনের গল্পের বই পড়ি। নিয়মিত নামাজ পড়ি। বন্ধু-বান্ধবীদের খুব মিস করি। স্যাররা নিজস্ব ওয়েবসাইটে অনলাইন ক্লাস নিচ্ছে ক্লাস করছি। বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকি যেটা আমাকে ভবিষ্যৎকালে সাহায্য করবে। আল্লাহ সব দ্রুত সুস্থ করে দিক। আবার সকলে বন্ধুরা মিলে কলেজ প্রাঙ্গনে আড্ডা দিতে চায়। সবার জন্য শুভকামনা। বাসায় থাকুন, সুস্থ থাকুন।

 

মো: মোরসালিন, ১০ শ্রেনী, শামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ। তিনি মুক্ত মনেই বললেন, কোভিড ১৯ মহামারীর কারনে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। করোনার কারনে আমাদের স্কুলও বন্ধ আছে। এই অবস্থায় বাসায় বসে বই পড়া সহ অনলাইনে ডিবেট কার্যক্রমে অংশগ্রহন করছি। নিয়মিত নামাজ,কোরআন পড়ছি। পরিবারের সবার সাথে খুব ভাল সময় কাটাচ্ছি।বিভিন্ন ধরনের সাইন্স ফিকশন বই পড়ছি। স্কুলের অনলাইন ক্লাসেও অংশগ্রহন করছি। বিভিন্ন ইংরেজি বাংলা গল্পের বই পড়ছি ও শরীরচর্চা করছি। সবকিছু সুস্থ হয়ে পৃথিবীর বাতাস আবার সুস্থ হয়ে উঠুক এই কামনা। সকলে ভাল থাকুন,সতর্ক থাকুন।

সাদিয়া রহমান জেরিন, ১ম বর্ষ, মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। তিনি বলেন,করোনা ভাইরাস এর নাম অনেক আগে থেকেই শুনতেছিলাম। ভাবতাম হয়তো করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মনে হয় সবাই মারা যায়। তাই অনেক ভয়ে ছিলাম যে,বাংলাদেশ এটা কিভাবে সামলে উঠবে। কিন্তু পরে জানতে পারলাম ২% মানুষ মারা যায় সম্ভবত। ৮ মার্চ প্রথম করোনা সনাক্তের পর অনেক সতর্ক হয়ে গিয়েছিলাম। একদিন কলেজে যাওয়ার পর সবাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ দিয়ে দেওয়ার জন্য অনেক আন্দোলন করেছিলাম অধ্যক্ষের কাছে। যখন সরকার থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ দিয়ে তারপর ২০ মার্চ শেরপুর এ চলে আসি বাবার কর্মস্থলে। কারণ ঢাকাতে অবস্থা খারাপ হতে পারে এর কারণে।

কিন্তু আস্তে আস্তে দিন যাচ্ছিল আর ঘরে বন্ধি হয়ে থাকতে ইচ্ছে করছিল না। ইচ্ছে হচ্ছিল আবার আগের মতো বন্ধুদের সাথে কলেজ এ যায়। স্যার মিসদের অনেক মিস করি,প্রতিদিনের ক্লাস মিস করি।৩ মাস যাবত বাসায় বন্ধি। সকালে ঘুম থেকে দেরিতে উঠি। সকালে নাস্তা করেই অনলাইনে ক্লাস করা শুরু করে দেই। কিন্তু আগে যেমন বন্ধুদের সাথে এক সাথে ক্লাস করতাম এখন আর সেটা হয় না।

ক্লাস শেষে আম্মুকে হেল্প করি, বাসায় কিছু কাজ করি।তবে এই লকডাউনে থেকে অনেক কাজ শিখেছি যা হয়তো লকডাউনে না থাকলে তা সম্ভব হতো না। সারাদিন বাসায় কাটে, ছাদে যাই গাছে পানি দেই। অনেক গুলো গাছও লাগিয়েছি। সান্ধায় বাবা মার সাথে চায়ের আড্ডা ভালই লাগে। আল্লাহ সব কিছু দ্রুত ঠিক করে দিক।সকলে সাবধানে থাকবেন।

জান্নাতুল ফেরদাউস, দ্বাদশ শ্রেনী, নারায়নগঞ্জ সরকারী মহিলা কলেজ। তিনি ক্যাম্পাসলিাইভের সাথে খোলামেলা ভাবে তার অনুভূতির কথা জানালেন, করোনা ভাইরাস এক অদৃশ্য শত্রু। এই ভাইরাস থেকে বাচতে আমাদের ঘরে থাকতে হচ্ছে।তাই সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। এইচ এস সি এক্সাম নিয়ে আমি খুব চিন্তিত, সামনেত দিনে কিভাবে এক্সাম হবে এডমিশন কিভাবে হবে এসব কিছু আমাদের জানা নেই। এইচ এস সি এক্সাম নিয়ে টেনশনে আছি। শুনলাম অনেকেই এডমিশন কোচিং এর ক্লাস শুরু করেছে অনলাইনে। দ্রুত সব কিছু ভাল হয়ে যাক সৃষ্টিকর্তার কাছে এই প্রার্থনা। সবার জন্য সুস্থতা কামনা করছি।

অর্পিতা রায়, একাদশ শ্রেণী, শেরপুর সরকারি মহিলা কলেজ। তিনি ক্যাম্পাসলােইভকে বলেন,করোনা! করোনা নিয়ে প্রথমত তেমন সিরিয়াস ছিলাম না শুনতেছিলাম যে চীনে এই করেনার জন্য প্রচুর লোকজন মারা যাচ্ছে কিন্তু আমি প্রথমত ভেবেছিলাম এটা বোধহয় বাংলাদেশে আসবে না বা ছরাবে নাহ সবকিছুই সাভাবিক ছিলো কলেজে যেতাম বন্ধুদের সাথে চলাফেরা করতাম কিন্তু হঠাৎ যখন শুনি বাংলাদেশেও করোনা দেখা দিয়েছে তখন থেকে বাসার বাহিরে যাওয়া নিষেদ এবং তার কিছু দিন পরেই লকডাউন আর প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয় তখন থেকেই সবকিছু যেম থমকে গেছে।

আগের মতো সুস্থ পরিবেশ যেন হারিয়ে গেছে যেমন আগের মতো কলেজে যেতে পারছি নাহ বন্ধুদের সাথে সময় কাটাতে পারছি না কিন্তু এদিকে করোনার মহামারির জন্য কিন্ত বেশ ভালো সময় পরিবারকে দিতে পারছি,যেমন পরিবারের সবার সাথে বসে কিছুক্ষণ গল্প করছি একসাথে বসে টিভি দেখছি।

এখন সময় কাটানোর সবথেকে আসল যে জিনিসটা হচ্চে মোবাইল। মোবাইল দিয়ে অনলাইন ক্লাস করছি আবার বিভিন্ন ফানি ভিডিওস দেখেও সময় কাটাচ্ছি। কিন্ত কলেজে গিয়ে ক্লাস করার মজাটা খুবই মিস করছি এবং কি কলেজের প্রতিটি ম্যাডাম-স্যারদেরকেও মিস করছি। আগের মতো সুস্থ পরিবেশে ঘোরাফেরা মিস করছি।

এখন বাসায় সময় কাটানো খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুসময় বই নিয়ে কিছুসময় টিভি নিয়ে আবার কিছুসময় মোবাইল নিয়েই কাটটে আমার সময়। দ্রুত সবকিছু সুস্থ হয়ে উঠবে এই প্রত্যাশায়।

হুমাইয়া তাজবিহা হৃদি, শেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। তিনি নানান আক্ষেপের কথা জানালেন। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের কারনে আমদের পড়ালেখা থেমে গেছে। সামনে আমাদের এস এস সি পরিক্ষা। কিন্তু চিন্তার বিষয় হলো আমরা CGP a 4 এ দিব নাকি GPA 5 এ দিব? আমাদের কি এক বছর পিছাবে? বাসায় বসে সবার সাথে সময় কাটাচ্ছি। আম্মুর কাজে সাহায্য করছি। অনলাইনে ক্লাস করছি। ছোট ভাই বোনদের নিয়ে সময় কাটাচ্ছি। স্কুল কবে খুলবে সঠিক জানি না। তবে প্রিটেস্ট হবে নাকি শুধু টেস্ট হবে এখনও বুজতে পারছি না। স্কুল খুলার পর কি আমদের ক্লাস হবে নাকি আমাদের এক্সাম হবে সেটাও জানিনা। এখন এসব টেনশন নিয়ে অনলাইনে ক্লাস করার সাথে সাথে এস এস সি টেস্টপেপার সলভ করতেছি।

তানজিলা তাসনিম তুলি, দশম শ্রেণি, শেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের কথা যখন প্রথম শুনেছিলাম তখন ততটা গুরুত্ব দেয় নি। ভেবেছিলাম এটা দ্রুত চলে যাবে কিন্তু এটা মহামারি আকারে এমন রুপ ধারন করলো যে স্কুল/কলেজ সব বন্ধ হয়ে গেল যা আমাদের জন্য খুবই খারাপ অবস্থার সৃষ্টি করেছে। স্কুল বন্ধ হওয়ায় প্রথমে বাসায় সময়টা কাটছিল না। কিন্তু এখন বই পড়ে, টিভি দেখে, আব্বু আম্মুর সাথে গল্প করে সময়টা কাটাচ্ছি, কিন্তু স্কুলের ক্লাসগুলো খুব মিস করতেছি। বন্ধুদের মিস করতেছি। এখন শুধু একটা অপেক্ষায় বসে আছি যে স্কুল কবে খুলবে।

ঢাকা, ০৬ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।