ধর্ষণের বিচার চাইতে গিয়ে আবার ধর্ষণের শিকার


Published: 2019-10-04 22:22:05 BdST, Updated: 2019-10-15 02:53:33 BdST

লাইভ প্রতিবেদকঃ ধর্ষণের শিকার এক কিশোরী আইনি সহায়তার জন্য গিয়েছিলেন এক আত্মীয়র কাছে। ওই আত্মীয় তাকে আইনি সহায়তা না করে উল্টো পুনরায় ধর্ষণ করে বিদায় করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে।

উক্ত ঘটনার পর ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়ে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করেছেন অপর এক ব্যক্তি। ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকার ধামরাই উপজেলায়।

ধর্ষণের শিকারে ঐ কিশোরী (১৫) স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া একজন ছাত্রী। তার বাবা অসুস্থ, কোনো কাজ কর্ম করতে পারেন না, মা পোশাকশ্রমিক। এ ঘটনার পর কিশোরীর মা গত ২৫ সেপ্টেম্বর ধামরাই থানায় মামলা করেছেন।

মামলার এজাহার এবং পুলিশ হতে জানা যায়, গত ২৭ জুলাই ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করেন নাহিদ নামের একজন তরুণ। এই ঘটনার পর কিশোরী তার ফুফা আলমগীর হোসেনকে বিষয়টি জানায়। আলমগীর আইনি সহায়তা দেওয়ার কথা বলে গত ২০ আগস্ট নিজ বাড়িতে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন।

আইনি সহায়তা না করে পুনরায় ধর্ষণের শিকার হওয়া মেয়েটি তার মাকে সব ঘটনা খুলে বলে। পরে মেয়েটির মা গত ২৫ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত নাহিদ ও আলমগীরের বিরুদ্ধে ধামরাই থানায় মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর পুলিশ নাহিদকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। বর্তমানে নাহিদ কারাগারে বন্দি আছেন।

কিশোরির মায়ের অভিযোগ, প্রথম ও দ্বিতীয় ঘটনা ঘটার পর থানায় মামলা হওয়ার পর শামীম খান নামের একজন ব্যক্তির সাথে তাদের পরিচয় হয়। তিনি একটি দৈনিক পত্রিকার স্থানীয় সাংবাদিক বলে পরিয়চয় দেন।

সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে গত বুধবার সকালে শামীম খান একটি ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে তাঁদের বাড়িতে যান। সুষ্ঠ বিচারের জন্য একজন বিচারকের কাছে জবানবন্দি দেওয়াবে এই কথা বলে তার মেয়েকে বাড়ি থেকে সাথে করে নিয়ে যান শামীম। এরপর মেয়েকে ধামরাইয়ের একটি রিসোর্টে নিয়ে ধর্ষণ করেন তিনি। পরে মেয়েকে আবার বাড়ির কাছে পৌঁছে দিয়ে পালিয়ে যান শামীম।

কিশোরির মা আরও জানান, বাড়িতে আসার পর থেকেই তার মেয়ে অনেকটা অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে। এতে তার সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে সবকিছু প্রকাশ করে। পরে তার বোন (কিশোরির খালা) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শামীম খানের বিরুদ্ধে ধামরাই থানায় মামলা করেন।

এই ঘটনার পর থেকে শামীম খানকে আর মোবাইলে পাওয়া যাচ্ছে না বলে তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। আজ শুক্রবার সেই রিসোর্টে গিয়ে কোনো কর্মকর্তারই নাগাল পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে সেখানে থাকা নিরাপত্তা কর্মীকে ধর্ষণের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।

এ ঘটনায় স্থানীয় পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, গত বুধবার শামীম খান স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে একজন মেয়েকে নিয়ে রিসোর্টে কয়েক ঘণ্টা সময় কাটিয়েছেন বলে সেই রিসোর্টের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এদিকে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা ক্যাম্পাস লাইভকে জানান, প্রাথমিক তদন্তে কিশোরীকে আগের দুইটি ঘটনাসহ সর্বশেষ শামীম খানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের ঘটনার আলামত মিলেছে। আর এইসব ঘটনায় মামলাও হয়েছে। এখন আসামিদের দ্রুত গেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

ঢাকা, ০৪ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।