ডেকে নিয়ে ৩ স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্ঠা, আটক ২ স্কুলছাত্র


Published: 2019-09-07 20:44:11 BdST, Updated: 2019-09-19 15:21:19 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: বরগুনার বামনা উপজেলার রামনা শেরেবাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া তিন ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে দুই স্কুল শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার সকাল নয়টায় রামনা লঞ্চঘাট এলাকার সিকদার বাড়ীর পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে ওই তিন স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, উত্তর রামনা গ্রামের মো. খলিলুর রহমান খানের ছেলে ও রামনা শের-ই বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. মিলন খান (১৬) এবং একই গ্রামের মো. খালেক হাওলাদারের ছেলে ও হলতা ডৌয়াতলা সমবায় বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. সুজন হাওলাদার (১৬)। এ ঘটনায় ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে বামনা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নির্যাতিতা স্কুল ছাত্রীরা জানায়, তারা তিনজনে মিলে গোপনে একটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করতো। এ ঘটনাটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র মিলন খান জানতে পারে। বিষয়টি মিলন খান তার বন্ধু সুজন হাওলাদার জানায়। গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় ছুটির পরে ওই ছাত্রীদের কাছে থাকা মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয় তারা। ওই ফোনটি ফিরে পেতে মিলন ও তার সহযোগী সুজন ছাত্রীদের কাছে এক হাজার টাকা দাবী করে। ছাত্রীরা ওই টাকা দিতে রাজি হলে তাদেরকে টাকা নিয়ে রামনা লঞ্চঘাট এলাকার সিকদার বাড়ির একটি পরিত্যক্ত টিনের ঘরে আসতে বলে।

ছাত্রীরা তাদের মোবাইল ফোন ফেরত নিতে শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে সেখানে যায়। সেখানে ওৎ পেতে থাকা মিলন ও সুজন তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদেরকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ছাত্রীরা সংখ্যায় তিনজন হওয়ায় তারা ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

ছাত্রীরা অভিযোগ করে আরো বলেন, অভিযুক্তরা ধর্ষণ করতে না পারলেও আমাদের উপর শারীরিক নির্যাতন চালায় ও তাদের ফোন দিয়ে কয়েকটি ছবি তোলে। এই ঘটনাটি কাউকে জানালে ওই ছবি বিকৃত করে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়া হুমকী দেয় তারা। পরে আমরা সেখান থেকে পালিয়ে বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষকদের কাছে ঘটনা খুলে বলি।

রামনা শেরেবাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নির্মল চন্দ্র রায় বলেন, বিদ্যালয়ে এসে তিন শিক্ষার্থী কান্নাকাটি করে। পরে তাদের কাছ থেকে বিষয়টি জেনে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দশম শ্রেণির ছাত্র মিলন খানকে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরী কক্ষে আটক করা হয়। পরে বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত কর। বামনা থানা পুলিশ বিদ্যালয়ে এসে অভিযুক্ত ওই স্কুল ছাত্র মিলন খানকে বিদ্যালয় থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।

বামনা থানার ওসি এসএম মাসুদুজ্জামান বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে পুলিশ তাৎক্ষনিক গ্রেপ্তার করেছে। এ ঘটনায় নির্যাতিত ছাত্রীদের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আগামীকাল গ্রেপ্তারকৃতদের বরগুনা আদালতে সোপর্দ করা হবে।


ঢাকা, ০৭ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।