এসএসসির ফল প্রকাশ, হার্ট অ্যাটাকসহ প্রাণ গেল ৯ শিক্ষার্থীর!


Published: 2019-05-07 13:37:08 BdST, Updated: 2019-05-23 03:18:03 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ফল প্রকাশের পর থেকে এপর্যন্ত ৯ শিক্ষার্থীর প্রাণ গেছে। এরমধ্যে ৮ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। আর এক শিক্ষার্থী হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছে। এদের মধ্যে এক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ না পাওয়ায় এবং বাকীরা ফেল করায় আত্মহত্যা করেছে বলে জানা গেছে।

নান্দাইলে এক বিষয়ে ফেল করায় ট্রেনের নিচে ঝাঁপ : ময়মনসিংহের নান্দাইলে এসএসসি পরীক্ষায় এক বিষয়ে ফেল করে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে রাকিবুল ইসলাম নামে এক ছাত্র। সে বীর বেতাগৈর ইউনিয়নের বীরকামটখালী জেবি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল।

জানা যায়, বীরকামটখালী গ্রামের বুলবুল মিয়া ও রাশিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ছিল মো. রাকিবুল ইসলাম। সোমবার পরীক্ষায় ফলাফল প্রকাশের পর সে এক বিষয়ে ফেল করেছে জেনে গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশন থেকে দুই কিলোমিটা দুরে চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে। এদিকে একমাত্র ছেলে রাকিবুলের আত্মহত্যার খবর শুনে মা-বাবা বারবার মূর্চ্ছা যাচ্ছেন। গফরগাঁও রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক শহিদুল ইসলাম আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দ্বিতীয়বার পরীক্ষায় ফেল করায় প্রাণ দিল মুলাদির ছাত্রী : দ্বিতীয়বার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল হ্যাপি আক্তার। এবারও সে পাস করতে পাস করতে পারেনি। তাই অভিমানে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে সে। এর আগেরবার পরীক্ষার সময় তার মায়ের মৃত্যু হওয়ায় ফল খারাপ হয়েছিল বলে জানা গেছে। বরিশালের মুলাদি উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের উত্তর বালিয়াতলী গ্রামের মন্টু বেপারীর ওই মেয়ে সোমবার রাতে আত্মহত্যা করেছে। সে সফিপুর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী ছিল।

মুলাদী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সাইদ আহমেদ তালুকদার জানান, ২০১৮ সালে এসএসসি পরীক্ষার সময়ে মা মারা যাওয়ায় হ্যাপি আক্তার ৪ বিষয়ে অকৃতকার্য হয়। ২০১৯ সালে সে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পুনঃরায় ফেল করায় হতাশ হয়ে পড়ে। সবার অজান্তে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে সে।

ধামরাইয়ে তিনবার ফেল করায় ছাত্রীর আত্মহত্যা : পরপর তিনবার এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করায় ঢাকার ধামরাইয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে ফারজানা আক্তার নামে এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার সোমবাগ ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফারজানা সোমবাগ ইউনিয়নের চাপিল গ্রামের ফারুক হোসেন মেয়ে। ধামরাই থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল লতিফ জানান, দুপুরে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল দেখার পর ওই শিক্ষার্থী নিজের কক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। সে এর আগেও দুইবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল। এবার তৃতীয়বারের মতো পরীক্ষা দিয়েও ফেল করায় আত্মহত্যা করেছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে গ্যাসের ট্যাবলেট খেয়ে ছাত্রের আত্মহত্যা : ঠাকুরগাঁওয়ে সাহাব উদ্দীন (১৬) নামে এক ছাত্র আত্মহত্যা করেছে। সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সাহাব উদ্দীন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার লালাপুর জঙ্গলবাড়ী গ্রামের একরামুল হকের ছেলে। সে মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মধুপুর নয়াদিঘী এম রফিক আলিম মাদরাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। সে ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। ওই মাদরাসার নৈশ্যপ্রহরী নুরুল ইসলাম জানান, সোমবার দুপুরে ফলাফল পাওয়ার পর বিকেলে গ্যাসের ট্যাবলেট খায় সাহাব উদ্দীন। পরে পরিবারের লোকজন তাকে হাসপাতালে নেয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তার মৃত্যু হয়।

টাঙ্গাইলে জিপিএ-৫ না পেয়ে আত্মহত্যা : টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে এসএসসি পরীক্ষায় প্রত্যাশিত জিপিএ-৫ না পাওয়ায় আসফিয়া মুন্না নিপা (১৬) নামে এক শিক্ষার্থী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সোমবার দুপুরে ঘাটাইল পৌরসভা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত নিপা উপজেলার আথাইল শিমুল গ্রামের আরশেদ আলীর মেয়ে। সে উপজেলার আথাইল শিমুল উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নিপার মা-বাবা দুইজনেই চাকরীজীবী। বাবা ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আর মা মধুপুর হাসপাতালে চাকরি করেন। এই দম্পতি তিন মেয়ে নিয়ে ঘাটাইল সদর হাসপাতালের পেছনে একটি বাসায় ভাড়া থাকেন। সোমবার দুপুরে বাসায় ছয় বছরের ছোট বোন ছাড়া আর কেউ ছিল না। এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার পর নিপা জানতে পারে সে তার প্রত্যাশিত জিপিএ-৫ এর পরিবর্তে ৩.৩৯ পেয়েছে। এতে সে ঘরের দরজা বন্ধ করে ধরনার সঙ্গে কাপড় পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেয়।

গাইবান্ধা ফেল করায় প্রাণ দিল ছাত্রী : গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করায় পার্বতী রাণী (১৬) নামে এক ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সোমবার বিকেলে উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম রামচন্দ্রপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পার্বতী রাণী পলাশবাড়ীর কাশিয়াবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। স্থানীয়রা জানান, সোমবার এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর জানতে পারে সে ফেল করেছে। পরে বিকেলে সবার অজান্তে গলায় ফাঁস দিয়ে নিজ ঘরে সে আত্মহত্যা করে।

লক্ষ্মীপুরে প্রাণ দিল ছাত্রী : দাখিল পরীক্ষায় ফেল করায় লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে সুমাইয়া আক্তার (১৭) নামে এক মাদরাসাছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। সোমবার সন্ধ্যায় রামগঞ্জ পৌরসভার টামটা এলাকায় রেহান উদ্দিন মুন্সি বাড়িতে ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ওই ছাত্রী আত্মহত্যা করে। নিহত সুমাইয়া আক্তার মুন্সি বাড়ির আমিন উল্যাহ সরকারের মেয়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুমাইয়া রামগঞ্জ রাব্বানিয়া কামিল মাদরাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। কিন্তু সে গণিতে ফেল মাদরাসায় টানানো ফলাফল তালিকায় তার নাম আসেনি। এতে অভিমান করে সে আত্মহত্যা করে।

নড়াইলে বাবা-মায়ের অসন্তোষে প্রাণ দিল ছাত্রী : নড়াইলে এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় ইলা খান নামে এক ছাত্রী মায়ের ওপর অভিমান করে আত্মহত্যা করেছে। সোমবার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর বিকেলে সে নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে। নিহত ইলা খান সদর উপজেলার শাহাবাদ ইউনিয়নের গারোচোরা গ্রামের আজিজার খানের মেয়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইলা এবার নড়াইল সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। সোমবার ফলাফল প্রকাশের দেখা যায় সে পদার্থ বিজ্ঞানে ফেল করেছে। ফলাফলের পর তার বাবা-মা অসন্তোষ প্রকাশ করে। ইলার মা তাকে ভৎসনা করে বলে ‘আমি বাড়ির বাইরে যাচ্ছি, বাইরে থেকে এসে যেন তোর মরা মুখ দেখি’। এর পর ইলা প্রথমে বিষ পান করে। পরে বাড়ির ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার করে।

পলাশে এসএসসি পরীক্ষার ফল শুনে হার্ট অ্যাটাকে সেরা ছাত্রীর মৃত্যু : ক্লাসে সেরা ছাত্রীদের তালিকায় ছিল রাত্রি দত্ত। তাই তার স্বপ্ন ছিল ভালো ফল করার। সেভাবেই পরীক্ষা দিয়েছিল সে। এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল শুনে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি রাত্রি। হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়েছে। পরীক্ষায় গণিতে ফেল করে ওই ছাত্রী। বিষয়টি মেনে নিতে না পারায় ওই ছাত্রী চলে গেছেন না ফেরার দেশে। নরসিংদীর পলাশে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। রাত্রি ত্ত নামে ওই ছাত্রী পূবালী জুট মিলস উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল। সোমবার বাড়িতে ফেলের সংবা শুনার সাথে সাথে হৃদযন্ত্রের ক্রীয়া বন্ধ হয়ে মারা যায় ওই ছাত্রী।

পুলিশ ও তার পরিবার সূত্রে জানা যায়, পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের ভিরিন্দা গ্রামের পংকজ ত্তের মেয়ে রাত্রি দত্ত এবার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে গণিতে ফেল করে। সে মানবিক শাখার ছাত্রী এবং স্কুলে তার রোল পাঁচ ছিল বলে রাত্রির মা জানান। ক্লাসে সেরা ছাত্রীরে তালিকায় থাকায় তাকে নিয়ে পরিবারের আশা ভরসা একটু বেশিই ছিল। তবে গণিতে ফেল করায় বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি রাত্রি।

পলাশ থানার ওসি মকবুল হোসেন জানান, প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় খবর সইতে না পারায় ওই ছাত্রী মারা গেছে।

ঢাকা, ০৭ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।