‘শিক্ষার্থী সহযোগিতা সংগঠন’ টিফিনের টাকায় মানবসেবা যেভাবে


Published: 2019-05-06 13:37:28 BdST, Updated: 2019-05-22 01:12:12 BdST

পাবনা লাইভঃ মানুষ মানুষের জন্যে। জীবন জীবনের জন্যে। এখন মানব সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেয়ার মানুষের অভাব নেই। কেউ বড়। আবার কেউ ছোটা। কিন্তু টার্গেট একটাই। আর এই কাজের প্রতি এই ছোট বয়সে হয়েছে আগ্রহী এটা আমাদের গর্বের বিষয়। আমরা সত্যি অভিভূত। ওরা নিজেদের টিফিনের জমানো টাকায় কেনা চিকিৎসাসামগ্রী গতকাল একটি ফার্মেসিতে হস্তান্তর করে। ওরা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী।

জানাগেছে পাবনার বেড়া পৌর এলাকার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ওরা। সংখ্যায় প্রায় ২৫। অন্যান্য শিক্ষার্থীর মতো ওরাও বাড়ি থেকে টিফিনের টাকা নিয়ে ক্লাসে আসে। কিন্তু সেই টাকায় টিফিন না কিনে প্রতিদিনই তা জমিয়ে রাখে।

কেবল তা–ই নয়, স্কুলে যাতায়াতের জন্য পাওয়া টাকাও জমানোর চেষ্টা করে ওরা। কেউ কেউ রিকশায় না উঠে যত দূর পারে হেঁটেই যাতায়াত করে। আর এভাবে জমানো টাকায় দুস্থদের নানাভাবে সহায়তা করে যাচ্ছে ওরা। এটা তাদের মিশন ভিশন।

মানবসেবার জন্য ওরা ‘শিক্ষার্থী সহযোগিতা সংগঠন’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও গড়েছে। প্রায় তিন বছর ধরে সংগঠনের শিক্ষার্থীরা নিজেদের জমানো টাকায় অন্তত ১০ জন হতদরিদ্র অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা করিয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছে এই কাজ তারা আমরন করে যাবে। তারা মানুষের সেবায় নিজেদের বিলিয়ে দিতে চায়। তারা এটাও আশা করে সমাজের সকলে যদি আজ এগিয়ে আসতো তাহলে সমাজ আজ বদলে যেতো।

বেড়া পৌর এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বই, খাতা, কলম কিনে দিয়েছে। এরই মধ্যে দুস্থদের চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়ের জন্য ওরা বেশ কিছু ওষুধ কেনার পাশাপাশি রোগ নির্ণয়ের জন্য রক্তচাপ, ডায়াবেটিস মাপার যন্ত্র এবং থেরাপি ও নেবুলাইজার যন্ত্র কিনেছে। ওই যন্ত্র কেবল অসহায় ও দরিদ্রদের জন্যেই ব্যবহৃত হবে। ‍

এসব যন্ত্র ও ওষুধ গতকাল রোববার তারা পৌর এলাকার কানাইবাড়ি মোড়ে অবস্থিত ‘যায়েদ মেডিকেল হল’ নামের একটি ফার্মেসিতে রেখেছে। সেখান থেকে দুস্থ রোগীরা বিনা মূল্যে ডায়াবেটিস, রক্তচাপ মাপাতে পারবেন। এ ছাড়া দুস্থ রোগীরা বিনা মূল্যে কিছু ওষুধও পাবেন বলে জানিয়েছে উদ্যেক্তারা। তাদের এই কমকান্ড গোটা এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। 

বৃহস্পতিবার সকাল নয়টায় শিক্ষার্থীরা ফার্মেসিটির মালিকের কাছে এসব যন্ত্রপাতি হস্তান্তর করে। বিষয়টি জানতে পেরে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য বেড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ জিল্লুর রহমান সেখানে উপস্থিত হন।

এমন সেবামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের সাধুবাদ জানান।
শেখ জিল্লুর রহমান বলেন, ‘টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে ওরা যে মহৎ উদ্যোগ হাতে নিয়েছে, তা অনুকরণীয়। ওদের কর্মকাণ্ডের খবর পেয়ে অভিভূত হয়ে আমি এখানে এসেছি।

আমি চাই, ওদের দেখে অন্যরাও দুস্থদের পাশে গিয়ে দাঁড়াক।’যায়েদ মেডিকেল হল ফার্মেসির মালিক রাশেদুল ইসলাম ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, অর্থের অভাবে চিকিৎসা না হতে দেখে কয়েক দিন আগে ওরা দুই হাজার টাকা খরচ করে এক দুস্থ রোগীকে সুস্থ করেছে। এ ধরনের কাজ ওরা নিয়মিত করছে।

ওদের সমর্থন জানাতে ও কাজে শামিল হতে তিনি তাঁর দোকানে ওদের দেওয়া চিকিৎসাসামগ্রী রেখেছেন। এগুলো দিয়ে প্রকৃত অসহায় মানুষদের চিকিৎসা দেওয়া হবে। বেড়া পৌর এলাকার মানিক মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল বারী ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, ‘সপ্তাহ দুয়েক আগে ওরা আমার বিদ্যালয়ে এসে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনা মূল্যে বই, খাতা ও কলম বিতরণ করেছে।’

তিনি আরও বলেন আমি সব সময় তাদের উৎসাহিত করেছি। বলেছি তোমাদের ওই অনুভূতি যেন সারা জীবন ধরে রাখতে পার তার জন্যে দোয়া থাকবে। তোমরা এগিয়ে যাও তোমাদের সঙ্গে আমরাও আছি।

ঢাকা, ০৬ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।