ভালবাসার ছোট গল্প


Published: 2019-10-29 21:01:21 BdST, Updated: 2019-11-14 20:29:26 BdST

জাহিদুল ইসলামঃ সময়টা ২০১৪ সালের দিকে যখন আমি দশম শ্রেণিতে পড়ি। সময়টা ছিল প্রচন্ড শীতকাল। ফজরের নামাযটা পড়ে, শীতে আবহাওয়া নিজের মাঝে নেওয়ার জন্য প্রতিদিনের মতো হাটতে বের হলাম।

হঠাৎ এক বৃদ্ধ আমাকে ডাকলো “এই বাছা কোথায় যাচ্ছিস, আমি হাটতে পারছি না, একটু সাথে নিয়ে যা, ধর আমাকে ”

আমি তার কাধটা ধরে সামনের দিকে চলতে লাগলাম। এরপর চলার পথে তার সাথে অনেক কাথাপোকথন হলো, সেটাই শেয়ার করতে আজ লিখতে বসে পড়লাম।

বৃদ্ধাঃ কি রে তুই কাকে বেশি ভালবাসিস। বাবাকে নাকে মা কে ?
আমিঃ কাওকে না।
বৃদ্ধাঃ কেন রে, বাবা মা কে ভালবাসিস না।

আমিঃ ভালবাসি তো সবাইকে, তবে এটা একটা লেভেল অনুসারে।
বৃদ্ধাঃ হা হা হা, তোর কথা শুনে ভালই মজা পেলাম। এবার তাহলে তোর লেভেল গুলোই শুনি।

আমিঃ আমাকে যে সৃষ্টি করেছে তাকে সবচেয়ে বেশি ভালবাসি। সে আমার মালিক। আর সে তো আমার বাবা মায়ের কাছে কিছুদিনের জন্য রেখে গেছে।

সময় হলে সে আবার আমাকে তার কাছে নিয়ে যাবে। সময়টা হয়তো আজ কিংবা কাল।
বৃদ্ধাঃ তোর কথা শুনে আশ্চর্য হলাম। এমন চিন্তা আসলে আজকাল কেও করে না। তুই তো অনেক ছোট এসব তোর মাথায় কি করে আসে। যাইহোক এবার তাহলে ভালবাসার পরের লেভেল গুলা বল দেখি।

আমিঃ অবশ্যই এরপর আমার সৃষ্টার প্রিয় বন্ধুকে ভালবাসি। নাম মনে হয় বলতে হবে না। যিনি অনেক অত্যাচার আর জুলুমের মাঝেও প্রিয় ধর্ম ইসলাম প্রচার করে গেছেন। তেমনি ভাবে তার প্রচার করা ধর্মকে অনেক ভালবাসি।

যাই হোক হযরত মুহাম্মদ সঃ এর ভালবাসার সাথে কখনও আল্লাহ তা’আলার প্রতি ভালবাসাকে তুলনা করতে যাবেন না। এটা শিরকের অন্তরভুক্ত হবে। এ ধরনের ভালবাসা মাত্রা দিয়েও তুলনা করতে যাবেন না। সেটা মারাত্মক অন্যায়ও বটে।

বৃদ্ধাঃ তোর কথা যতই শুনছি আর বেশি আমি আশ্চর্য হচ্ছি। এরপর তাহলে কি তোর বাব মা কে ভালবাসিস ?
আমিঃ জ্বি, এবার হয়তো ঠিক ধরতে পেরেছেন। সৃষ্টিকর্তা আমাকে তাদের কাছে আমানত রেখেছেন। তাদের কেও আমার জীবনের চেয়েও বেশি ভালবাসি।

যদিও বা কখনও বলতে পারি না ! মা তোমাকে আমি জীবনের অনেক ভালবাসি, বাবা তোমাকে আমি অনেক অনেক ভালবাসি। যারা আমার জন্য প্রতিটা সময় দোয়া করেন। আমি তো কখনও অসুস্থ হলেও বলি না যে আমি অসুস্থ আছি।

কারন সে সময় তাদের মনে যন্ত্রনা শুরু হয়ে যায়। মা প্রতিদিন সবার শেষে বাড়ির খাবার খায়। কেন জানেন, যদি কখনও খাবারের কমতি হয়ে যায়। আর বাবা তো প্ররিশ্রম করে, এটা বললে হয়তো আমার ভুল হবে। কারন প্রতিটা বাবা প্রতিনিয়ত পরিবারের জন্য যুদ্ধ করে যাচ্ছে। যে যুদ্ধে পরাজয়ের কোন প্রকার স্থান নেই।

কথা গুলো বলতে বলতে কিভাবে যেন আমার চোখ দিয়ে পানি বের হতে শুরু হলো আমি আসলে বিষয়টা নিজেও বুঝতে পারলাম না। হয়তো এটা আবেগি কান্না।
বৃদ্ধাঃ কি রে কান্না করছিন কেন ! তোর এর পরের লেভেল গুলো বলবি না।

আমিঃ হুম, বলবো তো। এরপর যারা আমাকে দেখতে পারে না, মানে যারা আমার কোন বিষয় পছন্দ করে না, তাদের কে ভালবাসি।
বৃদ্ধাঃ কেন রে, এটা আবার কেমন কথা।

আমিঃ এর কারন হচ্ছে সমাজের যেসকল ব্যক্তিরা আমাকে দেখতে পারে না। হয়তো তারা একদিন তাদের ভুল বুঝতে পারবে এবং ভুলের জন্য অনুতপ্ত হবে। এ আশা থেকে সবসময় তাদের জন্য দোয়া করি। এরাই তো প্রকৃত ফ্যান। যাদের বোঝার ভুলকে আমি সংষোধন করে আমি সঠিক ভাবে চলতে পারি।

বৃদ্ধাঃ তাই নাকি রে। এরপরের লেভেলে তাহলে কারা আছে।
আমিঃ হুম , এবার তারাই আছে। যারা আমার প্রতিটা বিপদে এগিয়ে আসে। যাদের কাছে কষ্টের কথা গুলো শেয়ার করতে পারি। যারা অন্ধের মতো আমাকে বিশ্বাস করে যায়। এরাই আমার কাছের বন্ধু, ভাই, বোন।

বৃদ্ধাঃ হুম, তোর কথা শুনে অনেক ভাল লাগলো রে। আমরা মনেহয় বাড়ির কাছে চলে এসেছি। আবার কাল কথা হবে। ভাল থাকিস। সবাইকে ভাল রাখিস। আল্লাহ হাফেজ।
আমিঃ আবার কাল কথা হবে। ইনশাআল্লাহ।।

লেখকঃ অলস (মা আদর করে ডাকে)

 

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।