রম্যগল্পঃ সুপ্রসন্ন কপালনতুন টিউশনি: ও পাঁচ বার হার্ট অ্যাটাক!


Published: 2019-06-28 20:13:38 BdST, Updated: 2019-10-21 23:57:32 BdST

সাজীব বাবুঃ নতুন টিউশনি পেয়েছি। একেবারে খারাপ না। বেতনও ভালোই। আসল কথা এ যুগে টিউশনি পাওয়াটা ভাগ্যের ব্যাপার। বুঝতে বাকি রইল না কপাল আমার সুপ্রসন্ন।

ছাত্র আমার সেভেন এ পড়ে। নাম তার জিদান।তবে দেখতে একেবারে নাদুসনুদুস। সপ্তাহে তিন দিন পড়াতে হবে এমন চুক্তি করা হলো।

প্রথম দিনে গেলাম পড়াতে। কিন্তু ঘটনা এমন হলো যে,আন্টি এমন ভাবে নিয়মকানুন বলছে আমাকে যেন আমি ওনার ছেলেকে না ওনার ছেলে আমাকে পড়াবে।

ঢং। ঢক গিলে সহ্য করে নিলাম। টিউশনি পাওয়াটা ভাগ্যের ব্যাপার বলে কথা।

সপ্তাহ দুই হতে চললো পড়াচ্ছি। কিন্তু কি অদ্ভুত ব্যাপার ছেলেটা এতদিনে একটিবারো ঠিক মতো কথা বলেনি। ওফৃফ কি অস্বস্তি একা বকবক করেই চলেছি। নিজেকে বিটিভির সংবাদপাঠক মনে হতে লাগলো।

তবে হ্যাঁ একদিন সে তার আঠালাগানো মুখটা খুলেছিল। সম্ভবত ঐ দিন কপাল আমার সুপ্রসন্ন হয়েছিল আবারো।

-- স্যার,আজকে একটু তারাতারি ছুটি দিতে হবে। মার্কেটে যাবো আপুর সাথে।
-- আপু! কি নাম আপুর? কোন ক্লাসে পড়ে? কি করে? কোথায় থাকে?.....

-- স্যার ওতো কিছু বলতে পারবোনা। আপুর নাম আদ্রিশা ফাহমি। এবার অনার্স সেকেন্ড ইয়ার। এবার তাড়াতাড়ি ছুটি দেন স্যার।
-- ওরে থাম থাম। একটু ভাবতে দে।

ওয়াও কি অপরুপ নাম। নামের উপরেই তিন বার ক্রাস খেলাম। অর্থাৎ দুইবার হার্ট অ্যাটাক করলাম। [এখানে সূত্রটি হলো প্রতি দেড়বার ক্রাস= এক হার্ট অ্যাটাক]

সাথে সাথে কল্পনার রাজ্যে বিচরণ করলাম। গৌধুলি বিকেল। সূর্য ডুববে ডুববে ভাব তবুও না ডুবে দাঁড়িয়ে আছে। লালটুকটুকে নীল আকাশ।

এদিকে আমি আর ফাহমি দু'জন দু'জনের হাত ধরে হাঁটছি। চারিদিকে পাখিদের কলরব।দু'জনে হাঁটতে হাঁটতে পরিবার পরিকল্পনাও করে নিলাম এবার নির্জন এক জায়গায় মুখে মুখ আর ঠোঁটে ঠোঁট রাখতে যাবো এমন সময় বজ্জাত ছেলেটা দিল সব তছনছ করে। সবই যেন ভেস্তে গেল!

আহা হা হা। কি রোমান্টিক কল্পনা ভাবতেই আবার ভাবতে ইচ্ছা করছে। কিন্তু সে উপায় কি আর আছে। ছুটি ছুটি করে মাথা খারাপ করে দিলো। দিলাম ছুটি। জিদানের বাসা থেকে বিদায় নিয়ে সোজা মেসে চলে এলাম।

ডাউনলোড করলাম অনেকগুলো নায়কের বিভিন্ন স্ট্যাইলের হরেকরকম ছবি। পছন্দমতো ছবির মতো সাজুগুজু রাত থেকেই শুরু করে দিলাম। প্রেমে পড়েছি বলে কথা। একটু তো স্টাইলিশ হতেই হবে।

কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন স্টাইল নিয়ে পড়াতে যাচ্ছি আমার হার্ট অ্যাটাকের দেখা মিলবে এই আশায়। কিন্তু হতাশায় জর্জরিত হয়ে অর্ধ ছ্যাঁকা খেয়েই পড়ানো শেষ করে চলে এসেছি।

মাসের প্রায় শেষ হতে চললো। এদিকে হাতে তেমন টাকা নাই।স্টাইলিশ সাজতে যেয়ে বিভিন্ন প্রসাধনী কিনতে অনেক টাকা গেছে। আজ বেতন চাইবো এমন মন-মানসিকতা নিয়ে পড়াতে গেলাম।

বাসায় ডুকতেই দেখলাম ঘরগুলো আজ বেশ সাজানো গুছানো। কিছু একটা হয়েছে বুঝেছি কিন্তু কি হয়েছে তা এই অম্লেটে ডুকাতে পারিনি। যেকারণে আমার গুণধর ছাত্রের কাছে জিজ্ঞাসা করলাম সে আমাকে কিছু না বলে উঠলো
--আপু........
--এই এই ..এই ছেলে আপুকে ডাকছো কেন।
--আপু স্যার এসেছে।

এমন কথা শুনে তো মনের লাড্ডু ফাটলো। মনের মধ্যে নাগিন ড্যান্স লেগে গেছে। তবে হ্যাঁ বাইরে আমি ঠিকই স্মার্ট সেজে আছি।
-- স্যার ঐ দেখেন আপু আসছে। আমার আপু।

পেছন ফিরে তাকাতেই হাত থেকে কলম পড়ে গেল। নীল শাড়ি চোখে কাজল দেখে তো আমি অপলক তাকিয়ে আছি। ওয়াওওওও..ফাহমিকে দেখে তো আরো সাড়ে সাত বার ক্রাস খেয়ে বসে আছি।

সূত্র মতে দাঁড়াল পাঁচ হার্ট অ্যাটাকের সমতুল্য। টোটার দাঁড়াল সাত হার্ট অ্যাটাক। পেশার হাই। খুব বিপদে আছি। মিষ্টি মিঠাই দিয়ে মুচকি হেসে ভিতরে চলে গেল।

এগেইন দুইবার ক্রাস। আমার মুখের চমকপ্রদ হাসি দেখে ছাত্র বলে উঠল
-- স্যার থামেন। আজ আপনার কপাল সুপ্রসন্ন বুঝতে পেরেছি। তাই একটা সারপ্রাইজ রেখেছি। দিবো?

-- (মনের পাঙ্খা খুলে গেছে মনে হয়) হ্যাঁ দা দা না।
-- এই নেন স্যার ..
-- কিসের কার্ড এটা! দেখেতো বিয়ের কার্ডই মনে হচ্ছে। তা বাবু কার বিয়ের কার্ড এটা!
-- স্যার আমার আপুর। জামাই বড় একটা চাকরি করে। বিসিএস ক্যাডার।

কথাটা শোনার সাথে সাথে মাথার উপর বর্জ্রপাত হওয়ার উপক্রম হলো। কিন্তু পাশ কেটে মনের উপর বর্জ্রপাত ঘটলো। গতকাল পেশার মেপেছিলাম। হাই পেশার।

বুকটা ধুকপুক ধুকপুক করছে। কখন কি হয় এই ভেবে কোনোরকম বুকে হাত চাপা দিয়ে কাউকে কিছু না বলেই বাসা থেকে বেরিয়ে চলে এলাম। তারপর থেকে আর জিদানকে পড়াতে যাইনি। এদিকে মাসের বেতনটাও নেওয়া হয়নি।

মনে মনে ঠিক করলাম এবার থেকে আগামি টিউশনিতে অগ্রিম বেতন নেবো।


লেখাঃ সাজীব বাবু

ঢাকা, ২৮ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।