‘মেঘের মানচিত্র’


Published: 2018-12-22 13:11:58 BdST, Updated: 2019-06-21 04:26:31 BdST

ফারহানা নিশি : মানুষটার চোখ থেকে অনবরত জল গড়াচ্ছে। একটা সরকারি হাসপাতালের চার তলার বারো নাম্বার ওয়ার্ড। ছয় নাম্বার বেড। আমি এসে তার মাথার পাশের চেয়ারে বসে আছি অনেকটা সময় হলো, তিনি টের পাননি। তার চোখ থেকে একবিন্দু জল গড়িয়ে চিবুকের নিচে এসে থেমে আছে। কোথা থেকে আসা একফোঁটা রোদের টোকায় বিন্দুটি থেকে রশ্মি ছড়াচ্ছে হিড়কের গায়ে আলোর মতো। আমি তাকিয়ে আছি। এক অদ্ভুত অনুভূতি কাজ করছে, যার নাম আমার জানা নেই।

খানিকক্ষণ বাদে পাশে কারো অস্তিত্ব অনুভব করে একরকম কসরত করেই বাঁ দিকে ফিরলেন। দৃষ্টি ক্লান্ত; গোধূলির শেষ রঙ নিভে যাবার মতো ফর্সা গোল মুখখানি দীর্ঘদিনের অসুস্হতায় ফ্যাকাশে হয়ে আছে। ঠোঁট জোড়া রক্তশূণ্য, চোখেও তাই- শিরা দেখা যাচ্ছে না। কী হয়েছে সেদিনের মানুষটার চেহারা, মানুষ বেঁচে থাকতেও কতোভাবে পাল্টায়...! তিনি আমার দিকে অসহায়ের মতো চেয়ে রইলেন। খানিক বাদেই চোখে পড়লো আধো-গড়ানো হিড়ক বিন্দুটা চিবুক থেকে গড়িয়ে গলায় পড়ছে... আমি চোখ ফিরিয়ে নিলাম। বুকের ভেতরটায় হঠাৎ একটা শ্যাওলা ধরা পাথর নেমে এলো আমার। উঠে যেতে নিতেই দুর্বল হাতে হাতটা চেপে ধরলেন তিনি। আমার হৃদয়ে তখন ঝড়ো হাওয়া বইছে। দুমড়ে মুচড়ে দিতে চাইছে সব। তাও বাধ্য হয়ে বসে পড়লাম। মনের চাপ লুকিয়ে রাখতে জোর করে ঠোঁট দুটো দুদিকে প্রসারিত করলাম। আমি অভিনয় করতে জানি না- নিশ্চয়ই আমার অভিনয় ভালো হয়নি। তাই হয়তো তিনি আমার হাতটা তার গালের নিচে নিয়ে চেপে ধরলেন। টপাটপ কয়েক ফোঁটা গরম জল গড়িয়ে পড়লো হাতের তালুতে। আমিই প্রথমে মুখ খুললাম- "সব ঠিক হয়ে যাবে। চিন্তা করবেন না।" তিনি সে কথার জবাবে কিছু না বলে নির্নিমেষ চোখে আমার দিকে তাকিয়ে দুর্বল কণ্ঠে প্রশ্ন করলেন, "আজও এই গরমে এতোটা পথ হেঁটে এসেছো!" আমি বিস্মিত হলাম। এই প্রশ্নের সম্মুখীন যেন না হতে হয় তাই হাসপাতালে ঢুকে প্রথমেই একটা ফ্যানের নিচে দাঁড়িয়ে ঘাম শুকিয়ে এসেছি। মুখ হাতেও পানি দিয়ে এসেছি। তার তো বোঝার কথা নয়! আমাকে ভাববার অবকাশ না দিয়ে তিনিই জবাবটা দিলেন, বললেন- "চৌদ্দ বছর ধরে তোমাকে দেখছি। তোমার প্রতিটা বিষয় আমার জানা। গরম লাগলেই তোমার কান লাল হয়ে যায় আর অনেকক্ষণ ধরে সেটা থাকে, তুমি লক্ষ করেছো কখনো?" আমি কোনো উত্তর পেলাম না, এ প্রশ্নের জবাব আমার কাছে নেই। মানুষটাকে আমি বরাবরই এড়িয়ে চলেছি। খুব প্রয়োজন না হলে কখনোই তার সামনে যাইনি, সেরকম প্রয়োজনও হয়নি তেমন। তবুও আমার এতো ছোটখাটো বিষয়গুলো তার দৃষ্টিগোচর হয়েছে!
"আহির!" ডাক শুনেই সম্বিত ফিরে পেয়ে তার দিকে তাকালাম। তিনি চোখ অন্য দিকে সরিয়ে কম্পিত কণ্ঠে বললেন, "আমাকে বাসায় নিয়ে চলো। এখানে আর ভালো লাগছে না। দৈহিক অসুস্থতা কাটিয়ে কী হবে! মনের অসুখ যে সারবে না আর, তারচেয়ে বরং নিজের ঘরেই জীবনের বাকি দিনগুলো অতিবাহিত করি। এখানে এতো রোগী আর অডিকোলনের গন্ধে দম নিতে কষ্ট হয়, মনে হয় মৃত্যু যেন হাতছানি দিয়ে ডাকে আমায়।" আমি জীবনে এই প্রথম তার কপালে হাত রাখলাম। তার প্রতিটা কথা আমার ভেতরে তীরের মতো বিঁধছে। কণ্ঠের আর্দ্রতা চেপে কোনোরকমে তাকে অভয় দেয়ার উদ্দেশ্যে বললাম, "এভাবে ভেঙে পড়বেন না, জীবন এতোটাও মূল্যহীন নয়। আপনাকে বেঁচে থাকতে হবে, আপনি বাঁচবেন।" তিনি দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে প্রশ্ন করলেন- "কার জন্যে? দেখতে দেখতে পৃথিবীর খাতায় চারটি যুগের নাম লিখিয়েছি, কেউ তো কারো নয়- তুমি ভাবো মানুষ মানুষে..?!" প্রশ্নটা শুনে আমি আরো আহত হলাম, গলার ভেতরটায় যেন কিছু একটা দলা পাকিয়ে গেলো। আমার কাছে এ প্রশ্নেরও কোনো উত্তর নেই; তার সেই অসহায় দৃষ্টির সামনে আমি দুর্বল বোধ করছি প্রবল। চোখে চোখ রাখার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলছি, প্রথমবারের মতো আমার তার প্রতি খুব মায়া কাজ করছে। তার শান্ত কণ্ঠে যে প্রচণ্ড রকমের আর্তনাদ আমি শুনছি- তা আমাকে তীব্রভাবে অনুশোচনাবোধে পিষে ফেলতে চাইছে। আমি নিজেকে সামলাতে পারছি না। তাকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে কোনোরকমে "আসছি" বলে বেরিয়ে পড়লাম।

হাসপাতালের দেখতে যাওয়া মানুষটা আমার সৎ মা। তাকে কখনোই আমি মা বলে ডাকিনি। বরাবরই তার প্রতি একধরনের চাপা ক্ষোভ কাজ করেছে আমার। যদিও চাপা থাকেনি, আমার প্রতিটা কাজেই সেটা তিনি টের পেতেন আমি বুঝতাম। হয়তো কষ্টও পেতেন। কিন্তু আমি তাতে একটুও অনুতপ্ত হইনি কোনোদিন। কারণ আমার সবসময় মনে হয়েছে এটাই তার প্রাপ্য।

আমার মা ছিলেন পৃথিবীর সবচেয়ে সহজ ও সরল মানুষদের একজন। নিজের জন্মদাত্রী বলে বলছি না, মানুষ হিসেবে বলছি। তিনি সত্যিই অসাধারণ একজন ছিলেন। সবসময় ধর্মের পথে থেকেছেন। সকলের সাথে ভালো ব্যবহার করেছেন। কেউ কোনোদিন তাকে নিয়ে কোনো খারাপ মন্তব্য করতে পারেনি। বই পড়তে খুব ভালোবাসতেন তিনি। শরৎচন্দ্র, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, বুদ্ধদেব বসু, আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথের মতো অসাধারণ লেখকদের বই তাকে পড়তে দেখেছি। আর আট- দশজন মহিলার মতো টেলিভিশন বা রঙ মাতানো বহুমুখী গুজব গল্পেও আগ্রহী ছিলেন না তিনি, কিংবা এক প্রতিবেশীর কাছে আরেক প্রতিবেশীর সমালোচনা করাও তার ধাতে ছিলো না। অবসর সময়টায় বই পড়তেন, নতুবা দখিনের বারান্দায় টবে লাগানো চারাগুলোর যত্ন নিতেন। ভীষণ অমায়িক, শান্ত একজন মানুষ ছিলেন। আর তাঁর যে বিষয়টা দেখে আমি সবচেয়ে অবাক হয়েছি, সেটা তাঁর সহন ও ধৈর্য্য ক্ষমতা। আদতে এই দুটো ভালো গুণাবলী হলেও আজ বুঝতে পারি- এই দুটোই ছিলো তার দুর্বলতা, আজ মনে হয় এ দুটি তাঁর মধ্যে না থাকলে হয়তো কিছুটা ভালো হতো। অন্তত এক বুক কষ্ট নিয়ে তাকে পৃথিবী ছাড়তে হতো না...

মা যতোটা ভালো ছিলেন, ঠিক ততোটাই বিপরীত মানুষ হচ্ছেন বাবা। তিনি আমার জন্মদাতা- ভাবতেই নিজেকে ছোট লাগে, ঘেন্না লাগে- মনে হয় আমার শরীরে তাজা লাল রক্ত নেই, যা আছে তা কালো জলের জীবাণু। বুঝতে শেখার পর থেকে আমি শুধু তার খারাপ রূপটাই দেখে এসেছিতো, তাই শ্রদ্ধা জন্মানোর সুযোগও হয়নি। নেশা করেন, মিথ্যেতো বলতেই হয়, মানুষের সঙ্গে করেন রূঢ় আচরণ। আর সবচেয়ে বেশি পাপ যা করেছেন এ জীবনে, তা হচ্ছে- আমার মাকে করেছেন জগতের সর্বোচ্চ কষ্টের অধিকারীদের একজন। এর কারণ শুধুমাত্র এই যে- তিনি তার স্বামীকে বরাবর নোংরা কাজে বাধা দিতেন। রাতের পর রাত বাইরে কাটাতেন, জুয়া খেলে সব টাকা উড়িয়ে শেষ রাতে টলতে টলতে ঘরে ফিরতেন। তার অইটুকুন ছেলে, সরল স্ত্রী কী খেয়ে আছে, কেমন আছে তা একবারও জানার প্রয়োজন মনে হতো না তার। তার মগজটায় ছিলো একটা বিশাল অঞ্চল যেখানে আমি ও আমরা স্থান পাইনি কোনদিনই। মনে হতো আমরা তার পরিবারের কেউ না- কোনো সম্পর্ক নেই, খুব দূরের কেউ হয়তো।

মা নিজের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে, নানাভাইয়ের দেয়া গয়না বেঁচে এ সংসারটাকে টিকিয়ে রেখেছিলেন। কিছুদিন পর বাসায় ফিরে বাবা জানতেও চাইতেন না আমরা কীভাবে খেয়েছি, টাকা কোথায় পেলাম- উল্টো তরকারীতে লবণ কম হলে আমার সামনেই মাকে চড় বসিয়ে দিতেন। মা কোনো প্রতিবাদ না করে চুপচাপ লবণ এনে দিতেন, আমার দিকে তাকাতেনও না। আমি ওসব দেখে ভয়ে কুঁকড়ে যেতাম, বুক ফেটে কান্না আসতো- কিন্তু বাবার ভয়ে কাঁদার সাহসও পেতাম না। আট বছরের আমি তখন কতোই আর বড়..!? সেই বাল্যকাল থেকেই আমার কাল্পনিক ভাবনায় মানুষটাকে একটা ভয়ানক দানব হিসেবেই দেখে এসেছি। এসব ভেবে আমার মনের অবস্থাও ভয়াবহ হয়ে পড়েছিলো। প্রায়ই মনে হতো, কোনো একদিন বাবা আমাকে আর মাকে খুন করে ফেলবেন গলা কুঁপিয়ে। নানাভাই, নানু কিংবা খালামনি কেউ আমাদের খুঁজে পাবে না আর! সেই মানুষটার আচরণের জন্যে কেউ আমাদের বাসায় আসতে চাইতো না। না কোনো আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী কিংবা মায়ের কোনো পরিচিত কেউ। তাও কখনও নানা-নানু, খালামনিরা যদি আসতেও চাইতেন- মা মানা করে দিতেন নানা অজুহাতে। যেঁচে এনে তাদের অপমানিত হতে দেখতে পারবেন না বলেই হয়তো... আমার এখন ভাবলে আশ্চর্য লাগে কেন মা ওসব সহ্য করতেন..! আমার নানাদের পরিবার বেশ স্বচ্ছলই ছিলো। অর্থাভাব নেই, সেখানে পারিবারিক কোনো দ্বন্দ ঝঞ্জাটও নেই। মা তো চাইলে নির্দ্বিধায় চলে যেতে পারতেন যেখানে বিয়েটা তিনি ভালোবেসে করেননি। পারিবারিকভাবেই হয়েছে। আমার এখনো স্পষ্ট মনে আছে নানাভাই কখনো সে কথা তুললে মা এক মিহি হাসি দিয়ে বলতেন, "আল্লাহর ইচ্ছেতেই সব হয়েছে। তিনি যদি চান আমায় এখানেই ভালো থাকতে দিবেন, নয়তো এভাবেই আমার বাকি জীবন কাটবে।" সবাই মায়ের কথা শুনতো আর বিস্মিত হতো, কেউ কেউ ভাবতো তিনি হয়তো এখন পাগল হয়ে গিয়েছেন। নাহলে কেউই এত যন্ত্রণা স্বেচ্ছায় সহ্য করে না! মা শুনতেন আর হাসতেন। বলতেন যে, "আমারই তো অযোগ্যতা। শত চেষ্টায়ও মানুষটাকে ভালো করতে পারছি না।"

শৈশবে আমি খুবই ভালো ছাত্র ছিলাম। তখনকার পরীক্ষার খাতাগুলো দেখে নিঃসন্দেহে সবাই এ কথাই বলবে। বাবা তো কোনোদিন আমার পড়ালেখার খোঁজও নিতেন না, পড়ালেখা ছেড়ে দিলেই হয়তো তার কাছে ভালো লাগতো। এত সংকট, কষ্টের মাঝেও শুধুমাত্র আমার মায়ের চেষ্টাতেই পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। বাসার পাশের কোনোরকমের এক সরকারি স্কুলে পড়তাম আমি। হেড টিচার আমার পড়াশোনার ভালো ফলাফল দেখে বলেছিলেন একটা ভালো স্কুলে ভর্তি করাতে। তিনিই ভর্তি পরীক্ষার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। আমি উত্তীর্ণ হলাম। মা আমায় জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেছিলেন সেদিন। কারণটা তখনও আমার ছোট্ট মস্তিষ্ক ঠাওর করতে পারেনি। ভয় হলেও মনে হয়েছিলো বাবা এ কথা শুনলে হয়তো আমাকে ভালোবাসবেন, মায়ের মতো আদর করবেন। তাই সাহস করে সেদিন রাতে খবরটা তাকে জানাতে যাই। রুমে ঢুকতেই এক উৎকট গন্ধ নাকে এসে লাগে। কোনোরকমে নিঃশ্বাস বন্ধ করে তাকে কথাটা বলি। মাতাল অবস্থায় চোখগুলো কেমন ছোট করে আমার দিকে তাকিয়ে ইশারায় কাছে ডাকলেন। আমি তার কাছে গেলাম, ঠিক তখনই বিভৎস চেহারায় আমার ঘাড়ে শক্ত একটা চাপ দিয়ে বলেন, "লাট সাহেবের বাচ্চা পড়াশোনা করে উকিল হবি!" বলেই দানবের মতো পুরো ঘর কাঁপিয়ে হাসতে শুরু করেন। ভয়ে আমার গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছিলো। হাতের চাপে ঘাড়ের দিকটায় মনে হচ্ছিলো হাড় ভেঙ্গে যাচ্ছে। কোনোরকমে ঝটকা মেরে হাতটা সরিয়ে রুম থেকে ছুটে বেরিয়ে আসি। আমার চোখমুখ দেখে মা বুঝে গেলেন, ছুটে এসে বুকে চেপে ধরলেন, আমি ঝরঝর করে ফেলতে লাগলাম জগতের সবচেয়ে সস্তা অথবা সবচেয়ে মূল্যবান নোনা জল। সাথে মায়ের নিঃশব্দ কান্নার কম্পনও টের পেলাম।

এভাবেই কেটে গেলো বেশ অনেকক্ষণ। অসহায় মা আর তার ছেলের কষ্টের ভাগীদার কেউ ছিলো না তখন। সারা ঘর জুড়ে ছিলো নিশ্চুপ-অশান্ত হাহাকার- আর নিঃসঙ্গতার গাঢ় নীল ছায়া। খেতে ইচ্ছে করছিলো না, তবুও মা জোর করে একটু ডাল মাখানো ভাত খাইয়ে দিয়েছিলেন। খাবেন খাবেন করে নিজেই খাননি সেদিন। শোওয়ার পর মাকে জড়িয়ে ধরে বললাম "মা একটা গল্প শোনাও।" ভুতের গল্পই শুনতে চাইতাম সবসময়। ভয় লাগতো তবুও একরকম উত্তেজনা ছিলো। গল্পের একসময় সেই ভয়ানক দৈত্যের দানবীয় বর্ণনা এলো। মাকে প্রশ্ন করলাম, "ওই দৈত্যটাই কি বাবা?" মা ক্ষণিকের জন্যে স্তম্ভিত হয়ে গেলেও পরক্ষণেই নিজেকে সামলে হাসতে লাগলেন, বললেন, "ধুর বোকা! বাবারা তো একটু রাগীই হয়। তাই বলে কি দৈত্য হবে নাকি! আমার বাবাও তো আমাকে ছোটবেলায় কতো বকেছেন, রেগেছেন। কিন্তু একটা সময় আবার ঠিকই ভালোবেসেছেন..." বলে মা একটু দম নিলেন। আমার ভালো লাগতো না, অভিমানী মুখ করে বলতাম "নানাভাই তো এখনও মাঝেমধ্যে তোমায় বকে। কিন্তু সে রাগ আর বাবার রাগ তো এক না..?! বাবা কেমন যেনো পিশাচ হয়ে যায়। চোখ বড়ো হয়ে বেড়িয়ে যেতে নেয়, জিহ্বা বের হয়ে যায়- মনে হয় মুখের ভিতর রক্ত লেগে আছে। মা আমার এরকম লাগে কেন? আমার ভয় লাগে খুব!" মা চুলে বিলি কেটে দিতে দিতে বলেছিলেন, "সব ঠিক হয়ে যাবেরে একদিন- দেখিস!"

চলবে...

লেখক, ফারহানা নিশি
শিক্ষার্থী, ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ

ঢাকা, ২২ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।