যে কারণে বিয়ে করেননি এপিজে আবদুল কালাম


Published: 2018-11-01 10:09:17 BdST, Updated: 2019-06-18 05:17:11 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: পৃথিবীর সফল মানুষের আত্মজীবনী একটু বিরল প্রকৃতির হয়ে থাকে। সমাজের দশটা সাধারণ মনুষের বেড়ে উঠা ব্যাক্তিদের মতো নয়। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত এপিজে আবদুল কালাম সফল ব্যাক্তিদের মধ্যে একজন। ছোট সময় থেকে বেড়ে উঠার প্রতিটি স্তরেই যেন এক একটা বাধার প্রাচীর ডিঙানোর এই মনোবল ও সক্ষমতাই তাঁর জন্য এবং জাতির জন্য সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক হয়ে উঠে।

শিশু-কিশোর থেকেই তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী মনবল নিয়ে বেড়ে উঠেন। শত বাঁধা পিছনে ফেলে দারিদ্রতার কষাঘাতে নিজেকে শিক্ষায় দীক্ষায় উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হয়েছে তাকে। আত্মজীবনে কত কিছু মনে চাওয়া আর কত কাজই না করতে চাইলেই তা থেকে বিরত থাকতে হয়েছে তার কোন হিসেব নেই। ভবিষতের চিন্তা মাথায় রেখে ক্ষনিকের লাভটা দূরে ঠেলে দিতে সমাজের আর দশজন না পারলেও একজনকে তা পেতেই হয়।

সময় সাক্ষী ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত এপিজে আবদুল কালাম চিরকুমার ছিলেন। তাকে নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। এবার এখানে জানতে পারেবন যে কারণে এপিজে আবদুল কালাম বিয়ে করেননি। বড় হওয়ার প্রচন্ড ইচ্ছা শক্তিই জীবনকে অর্থবহ ও গুরুত্বপূর্ণ করে গড়ে তুলে। মাত্রাতিরিক্ত বড় হওয়ার স্বপ্নই তাকে নারীত্বের স্বাদ গ্রহণ করা থেকে বিরত রাখতে সাহায্য করেছে। অনেকেই হয়তে ভাবতে পারে তবে কি তাহলে নারীদের কি তার এসব সাফল্যের বাঁধা মনে করতেন?

এর উত্তর হিসেবে যা পাওয়া যায় তা হলো, না! তিনি তা মনে করতেন না। কারণ নারী পুরুষের ভেদাভেদ ভুলে সবাই কে মানুষের বিবেচনায় সকলের মঙ্গল কামনায় মহা মানুষীরা নিস্বার্থ ভাবে কাজ করেছেন। আর যার সুফলতা সকলেই সমভাবে ভোগ করতে পারছি। তবে ইতিহাস ঘাটলে যা পাওয়া যায় আর তাহলো, হারানের ভয় থেকে অথবা ব্যর্থতা না মেনে নিতে চাওয়া থেকে তার অবিবাহি থাকার কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



ভারতের তামিলনাড়ুর রামেশ্বরমে এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম হয়েছিল কালামের। ছোট থেকেই অভাবের সংসারে বেড়ে ওঠা। একটা সময় আর্থিক টানাটানির জন্য খবরের কাগজ বিলি করেও নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাতে হয়েছে তাকে।

ভারতের তামিলনাড়ুর রামেশ্বরমে এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম হয়েছিল কালামের। ছোট থেকেই অভাবের সংসারে বেড়ে ওঠা। একটা সময় আর্থিক টানাটানির জন্য খবরের কাগজ বিলি করেও নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাতে হয়েছে তাকে।

প্রবল জেদ ও ইচ্ছাশক্তিতে ভর করেই তিনি জীবনে সফল হয়েছিলেন। দেশের প্রতি নিবেদিত প্রাণ মানুষটি আজীবন প্রতিকূলতাকে জয় করার মন্ত্র শিখিয়েছেন সকলকে। রামেশ্বরমের ছোট্ট পরিবার থেকে রাইসিনা হিল পর্যন্ত তার যাত্রাপথ কিন্তু এত সহজ ছিল না। প্রবল জেদ ও ইচ্ছাশক্তিতে ভর করেই তিনি জীবনে সফল হয়েছিলেন।

দেশের প্রতি নিবেদিত প্রাণ মানুষটি আজীবন প্রতিকূলতাকে জয় করার মন্ত্র শিখিয়েছেন সকলকে। রামেশ্বরমের ছোট্ট পরিবার থেকে রাইসিনা হিল পর্যন্ত তার যাত্রাপথ কিন্তু এত সহজ ছিল না।

কালামের বাবা কাঠের নৌকা তৈরি করতেন। সেই নৌকা তিনি ভাড়া দিতেন মৎসজীবীদের। কালামরা পাঁঁচ ভাই ও পাঁচ বোন ছিলেন। কালামের বাবা কাঠের নৌকা তৈরি করতেন। সেই নৌকা তিনি ভাড়া দিতেন মৎসজীবীদের। কালামরা পাঁঁচ ভাই ও পাঁচ বোন ছিলেন।

কেন বিয়ে করেননি? জীবদ্দশায় একাধিকবার তাকে এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। সব সময়ই তিনি এমন প্রশ্ন সহাস্যে এড়িয়ে যেতেন। বিয়ের প্রসঙ্গ উঠলেই অস্বস্তি বোধ করতেন কালাম।

কেন বিয়ে করেননি? জীবদ্দশায় একাধিকবার তাকে এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। সব সময়ই তিনি এমন প্রশ্ন সহাস্যে এড়িয়ে যেতেন। বিয়ের প্রসঙ্গ উঠলেই অস্বস্তি বোধ করতেন কালাম।

২০০৬ সালে একবার সিঙ্গাপুরে বক্তৃতা দেওয়ার সময়ও একই প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় তাকে। কালাম সেই সময় প্রশ্ন এড়াতে বলে যান, আশা করব আপনারা সবাই ভালো জীবনসঙ্গী পাবেন। আসলে তার এমন কথার আড়ালেই লুকিয়ে ছিল উত্তর।

২০০৬ সালে একবার সিঙ্গাপুরে বক্তৃতা দেওয়ার সময়ও একই প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় তাকে। কালাম সেই সময় প্রশ্ন এড়াতে বলে যান, আশা করব আপনারা সবাই ভালো জীবনসঙ্গী পাবেন। আসলে তার এমন কথার আড়ালেই লুকিয়ে ছিল উত্তর।

‘জীবনে এতদূর পর্যন্ত অনেক কষ্টে এগিয়েছি। বিয়ে করলে সেটা সম্ভব হত না। হয়তো এর অর্ধেক রাস্তাও এগোতে পারতাম না। দেশের জন্য এত কাজও হয়তো করা হত না।’ একবার এক বিশ্লেষককে এমন কথাই বলেছিলেন কালাম।

‘জীবনে এতদূর পর্যন্ত অনেক কষ্টে এগিয়েছি। বিয়ে করলে সেটা সম্ভব হত না। হয়তো এর অর্ধেক রাস্তাও এগোতে পারতাম না। দেশের জন্য এত কাজও হয়তো করা হত না।’ একবার এক বিশ্লেষককে এমন কথাই বলেছিলেন কালাম।

সঠিক জীবনসঙ্গী খুঁজে পাননি। তাই বিয়ে করার ইচ্ছে তার কখনও হয়নি। তা ছাড়া নিজের কাজ ও দেশের চিন্তা নিয়ে ডুবে থাকতেন তিনি। তাই বিয়ে, সম্পর্ক নিয়ে ভেবে ওঠাও হয়নি তার। কালামকে যারা চেনেন তারা এমনই দাবি করেন।

সঠিক জীবনসঙ্গী খুঁজে পাননি। তাই বিয়ে করার ইচ্ছে তার কখনও হয়নি। তা ছাড়া নিজের কাজ ও দেশের চিন্তা নিয়ে ডুবে থাকতেন তিনি। তাই বিয়ে, সম্পর্ক নিয়ে ভেবে ওঠাও হয়নি তার। কালামকে যারা চেনেন তারা এমনই দাবি করেন।

২০১৫ সালের ২৭ জুলাই সোমবার মেঘালয়ের শিলংয়ে আই আই এমে এক সেমিনারে ভাষণ দিতে গিয়ে হূদরোগে আক্রান্ত হন ড. কালাম। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। শিলং থেকে গুয়াহাটি হয়ে দিল্লিতে পৌঁছায় তার মরদেহ। দিল্লি থেকে বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে মাদুরাই পৌঁছে দেয়া হয় দেহ। সেখান থেকে তার শহর রামেশ্বরমে। মরদেহের সঙ্গে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকর।

১৯৩১ সালের ১৫ অক্টোবর রামেশ্বরমে এ পি জে আবদুল কালাম দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা নৌকা চালাতেন। শৈশবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে খবরের কাগজ বিলি করতেন কালাম। পরে বিজ্ঞানে তাঁর অসামান্য কৃতিত্বের জন্য বারবার সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়েছেন। ভারতের পরমাণু বিজ্ঞানে উত্তরণ তাঁরই হাত ধরে। ইসরো, ডি আর ডি ও-তে কর্মরত ছিলেন বিভিন্ন সময়ে।

বিজ্ঞানে তাঁর অবদানের জন্য প্রথমে পদ্মভূষণ ও পরে ভারতরত্ন সম্মানে ভূষিত হন। রাষ্ট্রপতি হিসেবেও তাঁর মেয়াদ ছিল স্মরণীয়। তিনি ছিলেন জনতার রাষ্ট্রপতি। পড়ুয়াদের বিশেষ পছন্দ করতেন। খ্যাতিমান বিজ্ঞানী হলেও শিক্ষকতা ছিল তাঁর প্রিয় কাজ। আর তাইতো পড়াতে পড়াতেই চিরবিদায় নেন কালাম।

 

ঢাকা, ১ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।