সরকারি চাকরি : টিউশনি ছেড়েও তোমাকে পাওয়া হলো না!


Published: 2018-06-24 09:36:02 BdST, Updated: 2019-06-18 05:40:04 BdST

মো. মাসুদ রানা : অনিতার বিয়ে হওয়ার প্রায় ছয় মাস হয়ে গেল। এই ছয় মাসে সে একদিনও আমার খোঁজ নেয়নি। সে আমাকে একটা ফোন কল কিংবা ফেসবুকে মেসেজ পর্যন্ত করেনি। অথচ এই মেয়েটাই আমার কতটা না কেয়ার নিত! আমি টিউশনি করাতে যখন যেতাম, তখন তাকে বলতাম, 'অনিতা, আমি টিউশনি শেষ করে দুই ঘন্টা পর তোমার সাথে কথা বলব।' অনিতা বলত, 'আমি তোমার সাথে কথা না বলে এক মূহুর্ত থাকতে পারবনা। শেষ পর্যন্ত টিউশনিতে গিয়েও তার সাথে মেসেঞ্জারে চ্যাট করতাম। আর এ কারণে গার্ডিয়ানের কাছে কথাও শুনতাম। শেষ পর্যন্ত অনিতার কারণে টিউশনিটাও চলে গেছে আমার।

অনিতা আমাকে একটা হাতঘড়ি ও কয়েকটা চাকরির প্রস্তুতির বই কিনে দিয়েছিল। সেগুলো দিয়ে বলেছিল আমায়, ভাল করে পড়াশোনা করে তাড়াতাড়ি একটা জব ম্যানেজ করে আমায় ঘরে তুলিও... আমি তোমাকে ছাড়া সুখী হতে পারবনা। তবে কী বিয়ের পর অনিতা এখন অসুখী রয়েছে?

অনিতা হিন্দু আর আমি মুসলিম।
আমাদের পরিচয় হয় কোন একজনের বাড়িতে। আমি সেখানে ছাত্রী পড়াতে গিয়েছিলাম। তারপর দু'জনের নম্বর আদান প্রদান-কথাবার্তা ও সর্বশেষ প্রেম। মেয়েটা বাসা থেকে আমার কাছে পালিয়ে আসতে চেয়েছিল। তখন আমি অনার্স থার্ড ইয়ারে পড়ি। আমি তাকে কিভাবে বিয়ে করি এই মুহূর্তে? আমার বাবাকে অনিতার কথা বলছিল আমার একজন খুব কাছের বন্ধু+ভাগনে। বাবা রাজিও ছিলেন। বাবা বলতেন, হিন্দু মেয়েকে মুসলিম করে বিয়ে করলে সওয়াব পাওয়া যাবে। আর আমার বাবা একজন ধর্মানুরাগী মানুষ। সবদিক দিয়েই যখন ভাল চলছিল, তখন অনিতার বাবা তার জন্য পাত্র ঠিক করলেন। ছেলে সরকারি চাকরি করে। এমন পাত্র হাত ছাড়া করা যাবেনা। সেদিন দুজনই অনেক কাঁদলাম। চোখমুখ ফুলে গেল। পরদিন বিয়ে হয়ে গেল অনিতার। আর এখন সে তো সংসার করছে অন্যের সঙ্গে...।
হয়তবা আমাকে ভুলেই গেছে সে।

আর আমি তাকে এখনো ভুলতে পারিনি। যদিও তাকে ভোলার জন্য অনেক চেষ্টা করছি। তার দেওয়া হাত ঘড়িটা এক বন্ধুকে দিয়ে দিয়েছি। আর জবের বইগুলো এক বড় ভাইকে দিয়েছি পড়ার জন্য। আমি আর ঐ বইয়ে পড়াশোনা করতে পারবনা।

এভাবেই আমার খুব কাছের এক বন্ধু শেয়ার করেছিল তার দুঃখগুলো। সে আমাকে কয়েকটা প্রশ্ন করছিল।

--আচ্ছা মাসুদ তুই বলতো, যে মেয়েটা আমার সাথে কথা না বলে এক মুহূর্ত থাকতে পারতনা সে আজকে কিভাবে মাসের পর মাস কাটাচ্ছে?

আমিতো আমার ভালবাসার প্রতি সৎ ছিলাম, তবে আমরা এক হয়ে গেলাম না কেন? তবে কি সত্যিকারের ভালবাসাগুলো কখনই পূর্ণতা পায়না?

আমি তাকে কি বলব ভেবে পাচ্ছিলাম না। তবে তাকে বললাম,
-দোস্ত, আসলে কি জানিস মেয়েরা খুব দ্রুত পরিস্থিতির সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়। অনিতা যখন তোকে ভালবেসেছে তখন হয়ত সে সত্যিকার অর্থেই ভালবেসেছিল। এখন হয়ত বাসেনা। আর সত্যিকার ভালবাসাগুলো খুব কমই পূর্ণতা পায়...। কারণ আমি এমন অনেক ছেলে মেয়েকে দেখছি যারা তাদের কাঙ্ক্ষিত লোকটিকে মন থেকে খুব করে চায়। কিন্তু তারা তাকে কখনই পায়না। জানিনা এটি কি কারণে হয়।

তবে একটা বিষয় কি জানিস, 'বোকা মানুষগুলোই সত্যিকার ভালবাসাগুলো রেখে মিথ্যা ভালবাসায় জড়িয়ে পড়ে যেমনটা তারা লোহাকে স্বর্ণ ভেবে ভুল করে। এবং সম্পর্কের কোন এক পর্যায়ে গিয়ে তারা প্রতারিত হয়। প্রতারিত হওয়ার পর যখন কোন একজন তাকে সৎ উদ্দেশ্য নিয়েই প্রস্তাব করে। তখন তারা আর কাউকেই বিলিভ করতে পারেনা। তারা ফিরিয়ে দেয়, অপমান করে সত্যিকারের প্রেমিক/প্রেমিকাদের।

হয়তবা তুই ঠিক কিংবা বেঠিক।
-আচ্ছা বাদ দে এসব কথা...তবে একটা কথা মনে রাখ, 'love does not need to be perfect, it just needs to be true'. এটাই মেনে নে। আর আরো কিছু সময় যেতে দে। দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে। কারণ, 'টাইম ইজ দ্য গ্রেটেস্ট হিলার ডিয়ার, সো ডন্ট বি আপসেট, এভরিথিং উইল বি ওকে... কিপ হ্যাপি ইউরসেলফ। আই থিংক, ইউ উইল ওভারকাম ইট
--থ্যাংক য়্যু দোস্ত
-ওয়েলকাম

Md Masud Rana (জিরো টু ইনফিনিটি)
DVM, HSTU.

ঢাকা, ২৪ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।