বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ ব্যাঙ বিজ্ঞানী সাজিদ আলীর আক্ষেপ!


Published: 2017-05-01 14:14:48 BdST, Updated: 2018-07-19 23:15:49 BdST

এম সাজিদ আলী হাওলাদার। ফিনল্যান্ডে PHD শেষে এখন Postdocs করছেন। তিনি বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ ব্যাঙ বিজ্ঞানী। বাংলাদেশের গর্ব। চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্ব। বন্ধুকে নিয়ে গর্ব করতে বুকের ছাতি দুই ইঞ্চি ফুলে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা দীর্ঘ সময় একসাথে চমৎকার কিছু বছর কাটিয়েছি।

কত হৈ-হোল্লড়, আড্ডাবাজি, ঘোরাঘুরি... কত কি! হাজার হাজার স্মৃতি! অনেকদিন পর তার সাথে ফোনে কথা হল এবং ফোন রাখার পর তার জন্য অনেক খারাপ লাগছে। আমরা দূর থেকে কত কি-ই না ভাবি। বিদেশে বড় বড় ডিগ্রি নিচ্ছে। কত আরাম আয়েশের রঙিন জীবন। কিন্তু দেশ ছেড়ে যখন একটা মানুষ অচিন দেশে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পরিবেশে নির্জনে একা একা জীবন কাটায় তখন সেই-ই কেবল জানে তার জীবন আসলে কত সুখের।

আমাকে সে বলছিল "আমি যদি আমেরিকা, লন্ডন কিংবা অস্ট্রেলিয়াতেও আজকে থাকতাম তাও কিছু মানুষের কোলাহল পেতাম। বাঙালি একটা সংস্পর্শ পেতাম। কিন্তু এইখানে আমি ফিনল্যান্ডের যেখানে থাকি সেখানে জনমানব নেই বললেই চলে। ভার্সিটির student house এ থাকি বলে কিছুটা মানুষের সাড়া-শব্দ পাই। আর না হলে মাইলের পর মাইল শুণ্য বিরানভূমি। পাহাড়, গাছ-পালা। মাঝে মধ্যে জানালা দিয়ে তাকালে রাস্তায় দুয়েকটা গাড়ী দেখা যায়। ছোট্ট একটা শহর। সন্ধ্যা হলে রাস্তায় মানুষতো দূরের ব্যাপার একটা কুকুরও দেখা যায় না। ভূতের বাড়ির মত দূরে দূরে কিছু বাড়িতে হাল্কা আলো দেখা যায়। আর প্রচণ্ড ঠান্ডাতো আছেই। এখানে বাঙগালি খুবই কম। বাংলা বলা হয় না অনেকদিন। বাংলায় কথা বলতে মনটা ছটফট করতে থাকে। দেশে কত মানুষ। কত হৈ চৈ! আর আমার পড়ে থাকতে হয় নির্জনতার মধ্যে। দেশে চলে আসতে চাই কিন্তু আমার পড়াশোনা যে বিষয়, রিসার্চ এসব বাংলাদেশে তেমন নেই বললেই চলে।

কিসের চাকরি করবো! কোথায় চাকরি করবো! আর দেশের ভার্সিটিতেতো এখন পলিটিক্যাল লবিং ছাড়া শিক্ষক নিয়োগও হয় না। এত ডিগ্রি এত পড়াশোনা নিয়ে এসে বেকার হয়ে পড়ে থাকতে হবে। কিন্তু তাও আমি দেশে ফিরে আসবো। দেখি যদি কিছু হয় হবে আর তা না হলে আর কি করা, ফিরে যাবো! ফিরে গেলেও আর ফিনল্যান্ড আসার ইচ্ছা নেই। আমেরিকা কিংবা ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়ার দিকে যাব। তাও কিছু মানুষের ভীড়ে থাকতে পারবো। তার সাথে দুই ঘন্টা অনেক বিষয় নিয়ে কথা হল। সব কিছু লেখা অনেক সময়ের ব্যাপার। কিন্তু যে ব্যাপারটা আমার সবচেয়ে দু:খজনক মনে হয়। এত সুনাম এত বড় বড় ডিগ্রি নিয়েও এই ছেলে দেশে বিভিন্ন জায়গায় এপ্লাই করেও ডাক পায়নি।

যে মেধা, শিক্ষা, গবেষণা সে দেশের কাজে লাগাতে চেয়েছিল সেই দেশ কী তাকে সেই সুযোগ দিতে পেরেছে? এই দেশে মানহীন সাধারণ দুইটা সার্টিফিকেট নিয়ে শুধুমাত্র রাজনৈতিক লবিং দিয়ে কত মানুষ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক গবেষক সেজে গেছে অথচ এই সাজিদ এত বড় বড় ডিগ্রি আর সারা বিশ্বে সুনাম ছড়িয়েও নিজের দেশে একটা চাকরির এপ্লাই করেও ডাক পায় না..! কেন তাহলে এই দেশে মেধাবী জন্মাবে, কেন এই দেশে মেধাবীরা থাকবে! চাকরির জন্য কামড়া কামড়ি করে হতাশ হওয়ার জন্য!

আমি তাকে বললাম " দেশে ফেরার দরকার নাই। এই দেশে কিছু পাবা না। এই দেশ মেধাবীদের জন্য নয়। এখানে কুকুরের মত এক টুকরো মাংসের জন্য কামড়া কামড়ি চলে! এখানে মেধার কোন জায়গা নেই। বিদেশ আছো। ভাল আছো। মনে কষ্ট নিয়ে একাকী থাকলেও অন্তত অশান্তিতে নাই।

Jeyef khan nadim
সাবেক শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
কালেক্টেড : শামসুজ্জোহা বিপ্লব


ঢাকা, ০১ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।