''২০২৪ সালের মধ্যে করোনার পুনরুত্থান, বায়ুদূষণে বাড়ছে মৃত্যুর হার!


Published: 2020-04-17 08:20:17 BdST, Updated: 2020-05-31 17:21:45 BdST

লাইভ ডেস্ক: হার্বাডের দুটি গবেষণা নিয়ে বিশ্বব্যাপি তোলপাড় চলছে। অনেকেই এই গবেষণার প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। বলেছেন এটি কিভাবে হয়। এই গবেষণার ক্রুটি খোঁজে বের করতেও কাজ করছেন। এক গবেষণায় বলা হয়েছে বাযূদূষণের কারণে মৃত্যুর হার বাড়ছে। অন্যদিকে আরেক গবেষণায় বলা হয়েছে মরণঘাতি করোনাভাইরাসের ভয়াবহতার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে ২০২৪ সালের শেষের দিক পর্যন্ত এই ভাইরাসটি আরেকবার পুনরুত্থান ঘটাতে পারে। এই মহামারির লাগাম টানার জন্য ২০২২ সাল পর্যন্তও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতেও পরামর্শ দেয়া হয়েছে গবেষণা থেকে। বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পৃথক দুটি গবেষক দল করোনাভাইরাস নিয়ে নতুন গবেষণায় এসব তথ্য জানিয়েছেন। যদিও এর পক্ষে বিপক্ষে চলছে নানান বিতর্ক।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট সূত্রে জানা গেছে যদিও হার্ভার্ডের গবেষকদের এই তথ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করোনা নিয়ে পূর্বাভাষের সম্পূর্ণ বিপরীত। চলতি মাসের শেষের দিকে দেশটির কিছু প্রদেশে সামাজিক দূরত্ব সংক্রান্ত বিধি-নিষেধ প্রত্যাহার করে নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এনিয়ে খোদ আমেরিকাতেও নানান তর্কবিতর্ক রয়েছে। কোনটি সঠিক তা এখনও বুঝা যাচ্ছে না।

বিখ্যাত সায়েন্স জার্নালে মঙ্গলবার প্রকাশিত হার্ভার্ডের টিএইচ চ্যান স্কুলের পাঁচ গবেষকের ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, আগামী চার বছরের মধ্যে আরও একবার করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী দুই বছর সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার দরকার আছে কিনা, সেব্যাপারে গবেষকরা সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি।

এদিকে গবেষকরা বলেছেন, ভ্যাকসিন কিংবা প্রতিষেধক আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত অথবা আশঙ্কাজনক সেবা সক্ষমতা বৃদ্ধি না করা পর্যন্ত ২০২২ সাল অবধি সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হতে পারে। ভাইরাসটির বৈজ্ঞানিক নাম উল্লেখ করে মার্কিন এই গবেষকরা বলেছেন, এমনকি আপাত নির্মূল হলেও সার্স-কোভ-২ নজরদারি চালিয়ে যেতে হবে। ২০২৪ সালের শেষের দিক পর্যন্ত এই ভাইরাস পুনঃসংক্রমণ ঘটাতে পারে। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে বিশ্বের শত শত দেশে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। দেশে দেশে বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনসমাগম, ব্যবসা-বাণিজ্য, হোটেল-রেস্তারাঁ।

গবেষণা

 

করোনা ভয়াবহতার কারণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বর্তমানে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে মারা গেছেন এক লাখ ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ। এছাড়া আক্রান্তের সংখ্যা ২১ লাখের কাছাকাছি। এই মহামারিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এক প্রতিবেদন বলা হয়েছে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৩৪৮ এবং মারা গেছেন ২৮ হাজার ৫৫৪ জন; যা বিশ্বের ২২০টি দেশ ও অঞ্চলে সংক্রমণ এবং মৃত্যুর সর্বোচ্চ রেকর্ড।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ভাইরাসটির সর্বোচ্চ সংক্রমণের সময় এখন পার হয়ে যায়নি। এদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বলেছে, এই ভাইরাস মহামারির কারণে ১৯৩০ সালের পর বিশ্ব অর্থনীতি সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।

বায়ুদূষণ:

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের হার্ভার্ড টিএইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের গবেষকেরা বলেছেন, কোভিড-১৯ এ সংক্রমণের শিকার ব্যক্তিদের উল্লেখযোগ্য উচ্চ মৃত্যুহারের সঙ্গে বায়ুদূষণের সম্পর্ক রয়েছে। দেশজুড়ে বিষাক্ত বায়ু স্তরের বিশাল পার্থক্যের পরিপ্রেক্ষিতে গবেষণাটি প্রমাণ করেছে যে দূষিত বায়ু অঞ্চলের লোকের তুলনায় তুলনামূলক কম দূষিত বায়ুর অঞ্চলে বাসকারীদের মারা যাওয়ার আশঙ্কা কম বলেও জানিয়েছেন তারা।

অপর দিকে ইতালির গবেষকদের করা পৃথক আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, দেশটির উত্তরাঞ্চলে উচ্চ মৃত্যুর হারের সঙ্গে বায়ুদূষণের সর্বোচ্চ স্তরের বিষয়টি সম্পর্কিত। দ্য গার্ডিয়ান–এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, গেল ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ৩ হাজার মার্কিন কাউন্টির ৯৮ শতাংশ জনসংখ্যা নিয়ে করা গবেষণায় বায়ুদূষণ এবং করোনাভাইরাসে মৃত্যু বিশ্লেষণ করেছেন গবেষকেরা। এতে দেখা গেছে, বায়ুদূষণের মাত্রা সামান্য বাড়লেই ১৫ শতাংশ পর্যন্ত মৃত্যু বেড়েছে। অন্যদিকে, ম্যানহাটানে বায়ুদূষণের মাত্রা কম থাকায় শত শত মানুষ বেঁচে গেছে।

তবে মার্কিনীদের এ গবেষণার সীমাবদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন গবেষকেরা। লন্ডনের কুইন মারি ইউনিভার্সিটির গবেষক অধ্যাপক জোনাথান গ্রিগ বলেন, অধ্যয়নটি পদ্ধতিগতভাবে ঠিক থাকলেও এর সীমাবদ্ধতার মধ্যে ধূমপানের মতো গুরুত্বপূর্ণ কারণ পরিমাপ করা হয়নি। এটি জরুরিভাবে আরো গবেষণা করা উচিৎ ছিল। হার্ভার্ডের গবেষক দলের সদস্য র‌্যাচেল নেথেরি বলেন, ২০০৩ সালের মহামারির সময়েও সার্স ভাইরাসে মৃত্যু ঝুঁকি বাড়াতে বায়ুদূষণের মাত্রা ছিল। তাই আমরা মনে করছি আগের অনুসন্ধানগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

প্রসঙ্গত, চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর এই ভাইরাসের উৎপত্তি হওয়ার পর বিশ্বের দুই শতাধিক দেশে ছড়িয়েছে। বিশ্বজুড়ে এই ভাইরাস লাখো মানুষের প্রাণ কাড়লেও চীনে মারা গেছেন তিন হাজার ৩৪২ জন।
চীন এই ভাইরাস মাত্র ৭৯ দিনে নিয়ন্ত্রণে আনার পর গত মঙ্গলবার উহান থেকে লকডাউন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। সেখানে স্বাভাবিক জীবন ও কর্মচাঞ্চল্য শুরু হলেও বিশ্ব এক তৃতীয়াংশ মানুষ এখন অবরুদ্ধ দশায় রয়েছে। এর কড়াল থাবা এখনও থামেনি উন্নত অনেক দেশ থেকে।

ঢাকা, ১৭ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।