'গবেষণায় এগিয়ে যাচ্ছে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়'


Published: 2017-01-12 01:17:05 BdST, Updated: 2018-09-22 23:35:08 BdST

খাজা আনোয়ারুল হক : অতি সম্প্রতি ফেসবুকে Scientific Bangladesh কর্তৃক  Scientific publications with Bangladeshi affiliations in 2016 in Scopus indexed journals শীর্ষক একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছে।

Scopus ডাটাবেইজ থেকে ডাটা নিয়ে তৈরি করা এই রিপোর্ট অবশ্যই একটি চমৎকার উদ্যোগ। ওই লেখাটিতে কিছু ব্যাখ্যা আর কিছু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কিত তথ্য মিসিং ছিল যেটি এই লেখাতে দেখানোর চেষ্টা করেছি মাত্র। যেহেতু ইতিমধ্যে এই বিষয়ে ফেইসবুকে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে, সেহেতু আমি কোনোই তর্কে যাবো না। বরং আমি যেহেতু একজন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির পাপী, তাই আমার এই লেখা আমি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতেই সীমাবদ্ধ রাখবো।   

বাংলাদেশে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির সংখ্যা অনেক, সবার নাম উল্লেখ করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না, তবে ডাটাবেইজ থেকে নেয়া শীর্ষ ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাত্ত দেখানোর চেষ্টা করবো।  

কিছু ব্যাপার বলে রাখা দরকার :
- এই তথ্যগুলো স্কুপাস ডাটাবেইজ থেকে নেয়া, এখানে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।  

- চার্টগুলি সম্পূর্ণ কোয়ানটিটি বেইজড, কোয়ালিটি বেইজড না। স্কুপাস ডেটাবেইজ মানেই যে শুধু অত্যন্ত ভালো মানের কনফারেন্স/জার্নাল এমন মনে করার কারণ নেই। রিসার্চ কোয়ালিটি সবসময়ই কোয়ানটিটির উপরে, কিন্তু শুধু কোয়ালিটি বেইজড কোনো ডাটাবেইজ করা সম্ভব না (যেহেতু  কোয়ালিটি একটি আপেক্ষিক বিষয়)। তবে জার্নালের ক্ষেত্রে ইম্প্যাক্ট ফ্যাক্টর, আর কনফারেন্সের ক্ষেত্রে তার রেপুটেশন এবং একসেপ্টেন্স রেইট তার কোয়ালিটি ইন্ডিকেট করতে সহায়তা করে।

- চার্টগুলোতে পাবলিকেশনের সংখ্যা দেখার ক্ষেত্রে একটি কথা মাথায় রাখা দরকার। 'ক' বিশ্ববিদ্যালয়ের "গ" সংখ্যক পাবলিকেশন- এই তথ্যের অর্থ "শুধুই" এই না যে এই পেপারগুলো সেখান থেকেই পাবলিশ হয়েছে।  বরং এটির অর্থ, "গ" সংখক পাব্লিকেশনে অন্তত একজন (অথবা একধিক) ব্যক্তি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। পেপারগুলো হতে পারে শুধুই ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখা, পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কোলাবোরেসনে লেখা, অথবা বিদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে কোলাবোরেসনে লেখা।  

এইবার আসা যাক আসল বিষয়ে। নিচের চার্টটি ২০১৬ সালে বাংলাদেশের কিছু শীর্ষ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রিসার্চ আউটকামেরে সংখ্যা (কনফারেন্স/জার্নাল)।

আগে থেকেই বলে রাখি, শীর্ষ বলতে আমি এই চার্টটিতে শীর্ষ বুঝিয়েছি।  

দেখা যাচ্ছে ৯০টিরও বেশি পাবলিকেশন নিয়ে নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষ অবস্থানে আছে।

দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে আছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ৮০টিরও বেশী পাবলিকেশন নিয়ে।  

৪র্থ স্থানে আছে প্রায় ৭০টি পাবলিকেশন নিয়ে আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।  

স্ট্যামফোর্ড ৩০টিরও বেশী পাবলিকেশন নিয়ে আছে ১০ম স্থানে।   
 
Scopus ঘেটে জানা গেল, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ২০১৬ সালে সর্বোচ্চ পাবলিকেশন সংখ্যা যাদের :

১. M J Uddin - আমেরিকান ইন্টারনেশনাল ইউনিভার্সিটি (AIUB)। পাবলিকেশন সংখ্যা ১৮।

২. Mohammad Nurul Huda - ইউনাইটেড  ইন্টারনেশনাল ইউনিভার্সিটি (UIU)। পাবলিকেশন সংখ্যা ১৪।

৩. Hasan U. Zaman   - নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি। পাবলিকেশন সংখ্যা ১৪ (NSU)।

বলে রাখা দরকার, একই সংখ্যক পাবলিকেশন অন্যদেরও থাকতে পারে (যেমনটি ১৪টি পাবলিকেশন উপরের লিস্টে দুইজনেরই আছে), যেটি ম্যানুয়ালি খুঁজে বের করা কষ্টসাধ্য এবং সময়সাপেক্ষ কাজ। আপনাদের জানা থাকলে বলতে পারেন, লিস্ট আপডেট করে দেব।  

                                                         নর্থ সাউথের রিসার্চ এরিয়া

 

উপরের চার্টটিতে দেখা যাচ্ছে নর্থ সাউথের রিসার্চ এরিয়া বেইজড পাবলিকেশনের উপাত্ত। ডেটা অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রায় ৭০.৪% রিসার্চ আউটকাম কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে। কিন্তু তার চাইতেও ইম্পর্টেন্ট ফ্যাক্টর হচ্ছে রিসার্চ ডাইভার্সিটি - বায়োকেমিস্ট্রি থেকে শুরু করে সোশ্যাল সাইন্স পর্যন্ত ডাইভার্স রিসার্চ এরিয়া নর্থ সাউথের  শীর্ষস্থান লাভের অন্যতম কারণ।    

যাই হউক, ডেটা নিয়ে আরো অনেক মজার তথ্য হাজির করা যেতো। আপাতত সময়ের অভাবে পারছি না, ভবিষ্যতে কোনো একদিন লিখবো ইনশাআল্লাহ।  প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের রিসার্চ নিয়ে এগিয়ে যাক, শুভকামনা...

লেখক :
Dr. Khaza Anuarul Hoque
Postdoctoral Research Fellow,
Dept. of Computer Science,
University of Oxford, UK


ঢাকা, ১২ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।