ভুবনজয়ী দেবযানী আমাদের গর্ব


Published: 2016-12-31 06:25:02 BdST, Updated: 2018-09-22 23:37:59 BdST




লাইভ প্রতিবেদক: তরুণ গেমস‘আজ জীবনের অন্যতম স্মরণীয় দিন, এত দিন টিভিতে, মুভিতে নাসার কন্ট্রোল রুম টাইপ যে সিচুয়েশন দেখতাম, আজ নিজেই সে রকম একটা ‘ফিউচারিস্টিক’ ক্ষণে অংশ নিলাম। সম্ভবত আমিই একমাত্র নন-ইউরোপিয়ান হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলাম, তবে এটা গর্বের বিষয় না, আসল গর্ব যখন বারবার বলছিলাম, আই অ্যাম ফ্রম বাংলাদেশ...’।

২৯ সেপ্টেম্বর নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে এই স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন বাংলাদেশি গবেষক দেবযানী ঘোষ। দিনটি যে শুধু দেবযানীর জন্য স্মরণীয়, তা নয়। বিশ্বের বেসামরিক বিমান চলাচল ইতিহাসেই এটি স্মরণীয় দিন। জার্মানির স্টুটগার্ট বিমানবন্দরে এইচওয়াই-৪ নামের একটি চার আসনের যাত্রীবাহী বিমানের সফল উড়াল সম্পন্ন হয় সেদিন। নতুন একটি উড়োজাহাজের উড্ডয়ন অবতরণ নতুন কোনো ঘটনা নয়। কিন্তু এই ঘটনা ইতিহাস এ কারণে যে, এইচওয়াই-৪ হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম কার্বন নিঃসরণমুক্ত বিমান। যেটি চলে জ্বালানি কোষ ও ব্যাটারির সাহায্যে। এই বিমানের শব্দও কম।

এইচওয়াই-৪-এর উড়াল দেখতে জার্মানির গণমাধ্যম, বিজ্ঞানী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ট্রান্সপোর্ট কমিশনার, গবেষণা অংশীদারেরা উপস্থিত ছিলেন বিমানবন্দরে। দেবযানী ঘোষ সেখানে দর্শক হিসেবে ছিলেন না, ছিলেন এই বিমান তৈরির একজন ‘কারিগর’ হিসেবেই। এই বিমান প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক নেতৃত্বে আছে জার্মান অ্যারোস্পেস সেন্টার (ডিএলআর)। প্রধান গবেষণা অংশীদার ইউনিভার্সিটি অব উলম। ইউনিভার্সিটি অব উলমের গবেষণা দলে পিএইচডি গবেষক হিসেবে কাজ করছেন চট্টগ্রামের মেয়ে দেবযানী ঘোষ। দলনেতা ড. জোসেফ কাল্লোসহ এ দলে সদস্যসংখ্যা তিন। বিমান নির্মাণের অংশীদার হিসেবে আছে পিপিস্ট্রেল, এইচটুফ্লাই, হাইড্রোজেনিক্স।

বিমানটির একজন গবেষক হিসেবে সারাক্ষণ একটা উত্তেজনা কাজ করছিল দেবযানীর মনে—সবকিছু সফলভাবে সম্পন্ন হবে তো? ই-মেইল যোগাযোগে দেবযানী বলেন, ‘বিমান উড়তে পারবে কি না, উড়তে পারলেও মাঝ-আকাশে কোনো ঝামেলা হয় কি না, নিরাপদে অবতরণ করে কি না—এসব নিয়ে টেনশন ছিল আমার মধ্যে। তবে শেষ পর্যন্ত সবকিছুই সফলভাবে হয়। উপস্থিত সাংবাদিক এবং অন্য বিজ্ঞানীদের সব প্রশ্নের উত্তর ও কৌতূহল মেটাতে এইচওয়াই-৪ দল বেশ সফলই ছিল।’উড়াল দিচ্ছে কার্বন নিঃসরণমুক্ত বিমান এইচওয়াই–৪

এইচওয়াই-৪ বিমানের ব্যাপারটা একটু বোঝা যাক। গ্রিনহাউস ইফেক্ট কমানোর কথা এলে শুধু প্রচলিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বাদ দিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তি দিয়ে বিদ্যুৎ তৈরির কথা ভাবা হয়। কিংবা বিদ্যুচ্চালিত মোটরগাড়ি নামানোর কথা বলা হয়। কিন্তু অনেকেই জানেন না, বিমান গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের অন্যতম প্রধান উৎস।

দেবযানী বলেন, ‘সাধারণত উড়োজাহাজে জ্বালানি হিসেবে আভগ্যাস, জেট ফুয়েল ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়। এগুলো থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস, বিশেষ করে ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়। দিনকে দিন বিমানের ব্যবহার বেড়েই চলেছে। আর সেই সঙ্গে বাড়ছে কার্বন নিঃসরণ। এইচওয়াই-৪ বিমানের ভাবনা এখান থেকেই। চেষ্টা ছিল এমন উড়োজাহাজ তৈরি করার, যা কার্বন নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করবে।’

এইচওয়াই-৪ হাইব্রিড বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ। জ্বালানি কোষ (ফুয়েল সেল) ও ব্যাটারি এই বিমানের প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করে। ফুয়েল সেল সরাসরি হাইড্রোজেন এবং বাতাসের অক্সিজেন থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। বৈদ্যুতিক মোটরের সাহায্যে এই বিদ্যুৎ দিয়ে বিমান চলে। দেবযানী বললেন, ‘এই প্রক্রিয়ায় বর্জ্য হিসেবে উৎপন্ন হয় শুধু পানি। উচ্চক্ষমতার লিথিয়াম ব্যাটারি বিমানের উড্ডয়ন এবং অবতরণের জন্য বাড়তি শক্তি সরবরাহ করে।’

এইচওয়াই-৪ বিমানের বিদ্যুৎশক্তির ব্যবস্থাপনা নিয়েই কাজ দেবযানীর। তিনি বলেন, ‘ফুয়েল সেল এবং ব্যাটারির ডিসি বিদ্যুৎকে এসিতে রূপান্তর করার জন্য একটা সম্পূর্ণ নতুন সিলিকন কার্বাইডের পাওয়ার ইলেকট্রনিকস আর্কিটেকচার তৈরি করা হলো আমার কাজ।’ আর এটা এমনভাবে বানাতে হবে, যা একই সঙ্গে ভালো কাজ দেবে, ওজনে হালকা ও বিশ্বস্ত হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন যন্ত্রাংশ এবং পাওয়ার ইলেকট্রনিকসের মধ্যে একটা ইন্টারফেস তৈরি করেন দেবযানী। এটি বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কৌশল এবং ব্যাটারির চার্জিং-ডিসচার্জিং অনুযায়ী শক্তির প্রবাহ বদলে দিতে পারে।গ্রাউন্ড ক্রুদের সঙ্গে দেবযানী

শুরু থেকেই দেবযানীর ইচ্ছা ছিল পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং নবায়নযোগ্য শক্তি নিয়ে কাজ করার। আরডব্লিউটিএইচ আখেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে যখন গবেষণার বিষয় খুঁজছিলেন দেবযানী, তখন এইচওয়াই-৪-এর ব্যাপারে জানতে পারেন। ‘আমি এই প্রকল্পের প্রধান গবেষক ড. জোসেফ কাল্লোর সঙ্গে যোগাযোগ করি। কয়েক ধাপে সাক্ষাৎকার নেওয়ার পর আমাকে নির্বাচন করেন। আমি তাঁর সঙ্গে এই প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ পাই।’

দেবযানীর বাবা দীপক কুমার ঘোষ এবং মা ইন্দিরা ঘোষ দুজনই দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছেন। ১৯৮৮ সালে ৩০ অক্টোবর জন্ম দেবযানীর। দুই বোনের মধ্যে তিনি বড়। ছোট বোন দেবশ্রী ঘোষ চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি নিয়েছেন। দেবযানী চট্টগ্রাম পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বেরিয়ে ভর্তি হন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশলে স্নাতক হওয়ার পর দেবযানী কিছুদিন শিক্ষকতা করেন চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে। এরপর চলে যান জার্মানি। এখন পিএইচডি করছেন ইউনিভার্সিটি অব উলমে।

 

তরুণ এই বিজ্ঞানী একটি ওয়েব পোর্টালও চালান। ‘জার্মান প্রবাসে’ নামের পোর্টালটির প্রধান সম্পাদক তিনি। জানালেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে দেশের একটি যোগসূত্র তৈরি করা হয় এতে। জার্মান প্রবাসের ফেসবুক পেজে লাইকের সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি। এটি এ বছর ডয়চে ভেলের দ্য ববস পুরস্কার পেয়েছে।

বই পড়তে ভালোবাসেন দেবযানী। তাঁর ভালো লাগে ছবি আঁকতেও। ভবিষ্যতে বৈদ্যুতিক বিমান নিয়েই কাজ করে যেতে চান। বললেন, ‘এইচওয়াই-৪ বিমানের প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করতে চাই, যাতে বড় আকারের বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমান চালাতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায়। আর আমাদের পরিবেশে কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব হয়।’

দেবযানী চান বাংলাদেশের মেয়েরা বিজ্ঞান-প্রযুক্তির দুনিয়ায় আরও বেশি করে পদচারণ করুক। ‘ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। নিজের সক্ষমতা বা অক্ষমতার দায় নিজেকে নিতে শিখতে হবে। পৃথিবীর কোনো সিস্টেমই পারফেক্ট না। কিন্তু এখান থেকেই সবাই উঠে আসে, উঠে আসতে হয়। প্রতিকূলতার মোকাবিলা করে আত্মপ্রত্যয় নিয়ে এগোলে পৃথিবীর সবখানেই কাজ করা যায়।’ এমনটাই বিশ্বাস এই বাংলাদেশি গবেষকের।


দ্বিতীয় কিস্তি

দেবযানী ঘোষসারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছেন বাংলাদেশের তরুণেরা। মেলে ধরছেন প্রতিভার স্বাক্ষর। এঁরা শোনাচ্ছেন নিজেদের কথা। ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছে ছিল বিজ্ঞানী হওয়ার। বাবা শিক্ষক থাকার কারণে মাধ্যমিকের রসায়নের ব্যবহারিক বই থেকে নিজে নিজেই লিটমাস পেপারের কিছু পরীক্ষা করার চেষ্টায় থাকতাম। পরে আমার উৎসাহ দেখে বাবা নিজেই সাহায্য করতেন। ছোট থেকেই বাবা বলতেন, ‘তোমার ফার্স্ট-সেকেন্ড হওয়া লাগবে না, শুধু ভিত্তি ঠিক থাকলেই হবে।’

আমি ব্যাচেলরস (ইইই) করেছি চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) থেকে। তখন থেকেই আগ্রহ ছিল নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর কাজ করার। এরপর মাস্টার্স করেছি জার্মানির অন্যতম সেরা টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি আরডব্লিউটিএইচ আখেন থেকে। সেটা ছিল ইলেকট্রিক্যাল পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর। এখানে পড়তে এসে আমার পাওয়ার ইলেকট্রনিকসের ওপর আগ্রহ জন্মে। যাঁরা জানেন না তাঁদের জন্য বলি, পাওয়ার ইলেকট্রনিকস হলো নবায়নযোগ্য জ্বালানির হৃৎপিণ্ড।

আমার থিসিস এবং ইন্টার্নশিপও ছিল এই টপিকের ওপর। ফলে ভালো একটা দক্ষতা গড়ে ওঠে এবং আমি উলম ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. জোসেফ কাল্লোর কাছে এইচওয়াইফোর (এমিশন ফ্রি বৈদ্যুতিক বিমান) নিয়ে পিএইচডি করতে আগ্রহ প্রকাশ করি। বেশ কয়েকটি সাক্ষাৎকার এবং ভাইভা শেষে তিনি আমাকে তাঁর প্রজেক্টে নিয়ে নেন। এটা আমার জীবনের একটি টার্নিং পয়েন্ট। এত দিন ধরে কাজ করার পর অবশেষে আমি বুঝতে পারি, আমি আমার আসল লক্ষ্যের পথেই আছি। আমার এবং আমাদের গবেষণা নতুন পৃথিবীর জন্য হবে সঞ্জীবনী শক্তি।


আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মোটিভেশনের যথেষ্ট অভাব আমি লক্ষ করেছি। বড় কিছু চিন্তা করতে সবার কোথায় যেন ভয়। কিংবা কেউ এ রকম কিছু বললেও সেটা যাচাই না করেই উড়িয়ে দেওয়ার একটা মানসিকতা রয়েছে। ব্যাচেলরস করতে গিয়ে অনেকেই এটা বোধ করেন এবং আমি নিজেও এর ভুক্তভোগী। এখানে প্রথমেই রয়েছে স্বপ্ন দেখার ভয়, চারপাশে রয়েছে হাজারো হতাশার গল্প। সেই জায়গা থেকে দেশের বাইরে পড়তে যাওয়ার পথ অনেক কঠিন। এ ছাড়া আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটে একজন মেয়ের ব্যাচেলরস শেষ করে একা বাইরে পড়তে যাওয়া অনেকটা হিমালয় ডিঙানোর মতো। এখানে ব্যাচেলরস শেষ করা মানেই যেন পড়ালেখার সমাপ্তি ঘোষণা করে নতুন সংসার শুরু করা।


যাওবা যাওয়া হলো, এরপরও ক্রমাগত আমার পরিবারকে এই প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। আমি খুবই ভাগ্যবান এ ক্ষেত্রে যে, আমার পরিবার এই প্রশ্নগুলো কখনো আমার কাছ পর্যন্ত আসতে দেয়নি। বরং মা সব সময় ফোন করে বলতেন, ‘লোকের কথায় কান না দিয়ে সামনে অনেক দূর এগিয়ে যাও।’
নিজেদের উদ্ভাবিত দূষণকারী গ্যাস নিঃসরণহীন বিমানের পাশে সহকর্মীদের সঙ্গে দেবযানী ঘোষ l ছবি: সংগৃহীতপ্রবাসজীবনেও একই কথা আমার শুনতে হয়েছে অনেকবার। শুনতে হয়েছে প্রবাসী আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকেও। আমরা নারীরা নিজেদের পথকে নিজেরাই সংকুচিত করে রাখি। সেখান থেকে উঠে এসে ‘আমিও পারি’ এই শব্দ দুটিকে বাস্তবে রূপ দেওয়াটাই আমার জীবনের অন্যতম চ্যালেঞ্জ ছিল।


আমার বর্তমান রিসার্চ প্রজেক্ট এমিশন ফ্রি বৈদ্যুতিক বিমান নিয়েই আরও কাজ করতে চাই। বর্তমানে এটি ৪-সিটার বিমান। ইচ্ছে আছে ভবিষ্যতে যাতে এই প্রযুক্তিকে বাণিজ্যিকভাবে বহু আসনবিশিষ্ট বিমানের ব্যবহারযোগ্য করে তোলা যায় এবং পৃথিবীতে কার্বন নিঃসরণ যতটা সম্ভব কমানো যায়।
এ ছাড়া আমি জার্মান প্রবাসে ম্যাগাজিনের প্রধান সম্পাদক হিসেবে কাজ করছি, যা বর্তমানে একটি প্রতিষ্ঠিত মাসিক ই-ম্যাগাজিন এবং প্রবাসীদের একটি যোগসূত্র। ইচ্ছে, ভবিষ্যতে এই ম্যাগাজিন ছড়িয়ে পড়বে বিশ্বের সব প্রান্তের বাংলাদেশিদের কাছে।


নতুন যারা বাইরে পড়তে যায়, তারা প্রথমেই অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়, কালচারাল শকে আক্রান্ত হয়। ভাষা, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক থেকে শুরু করে খুঁটিনাটি সবকিছুই থাকে নতুন এবং অজানা। এই নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার সময়টা প্রবাসজীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়। জার্মান প্রবাসে নিয়ে আমরা নতুনদের পাশে দাঁড়াতে চাই, যাতে তারা এই সমস্যাগুলো সঠিকভাবে সমাধান করতে পারে। ইচ্ছে আছে পরবর্তী সময়ে জার্মানি ছাড়াও পুরো বিশ্বের নতুন প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে একটি গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা।


বাংলাদেশে উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট বলতে অনেকেই বোঝেন সংরক্ষিত আসন বা কোটাপ্রথা। এটাতে অনেকেই বেশ সন্তুষ্ট থাকেন। কিন্তু আমার মতে এটাই শেষ কথা নয়। এই ব্যবস্থার দরকার নেই তা বলছি না, যেখানে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলার সময়, সেখানে সুবিধা না পাওয়ার অজুহাত দিয়ে নিজেকে থামিয়ে দেওয়া চলবে না। আমার ব্যক্তিগত ইচ্ছে তাঁদের এই যাত্রাপথের সহায়ক ভূমিকা পালন করার, যাতে করে বাংলাদেশি নারীরা তরুণ গবেষক হিসেবে তাঁদের শক্তিশালী পদক্ষেপ রাখতে সক্ষম হন পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তেই।

 

ঢাকা, ৩১ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এএসটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।