দিনাজপুরে ‘প্রাণীখেকো’ উদ্ভিদের সন্ধান পেলেন শিক্ষকরা


Published: 2019-01-19 03:59:42 BdST, Updated: 2019-08-19 00:00:45 BdST

দিনাজপুর লাইভ : ‘প্রাণীখেকো’ উদ্ভিদের সন্ধান পাওয়া গেছে দিনাজপুরে। দিনাজপুর সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকরা এমন উদ্ভিদের সন্ধান পেয়েছেন। যে উদ্ভিদটি প্রাণী অর্থাৎ পতঙ্গকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। নিজ কলেজ ক্যাম্পাসের উন্মুক্ত জমিতে সন্ধান পাওয়া ওই প্রজাতির উদ্ভিদটি নিজেদের বিষয়ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমে বেশ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে দিনাজপুর সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

দিনাজপুর সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর দোলোয়ার হোসেন জানান, মাংসাশী উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক নাম Drosera Rotundifolia যাকে বাংলায় বলা হয় ‘সূর্যশিশির’। মাংসাশী উদ্ভিদের মধ্যে এই প্রজাতি সবচেয়ে বড়। ৪-৫ সেন্টিমিটার ব্যাস বিশিষ্ট গোলাকার থ্যালাস সাদৃশ্য উদ্ভিদটির মধ্য থেকে একটি লাল বর্ণের ২-৩ ইঞ্চি লম্বা পুষ্পমঞ্জুরি হয়। ১৫-২০টি তিন থেকে চার স্থরের পাতা সাদৃশ্য মাংসাল দেহের চারদিকে পিন আকৃতির কাটা থাকে। মাংসাল দেহের মধ্যভাগ অনেকটা চামুচের মত ঢালু এবং পাতাগুলোতে মিউসিলেজ সাবস্টেন্স নামক একপ্রকার এনজাইম (আঠা) নিঃসৃত হয়। সুগন্ধ আর উজ্বলতায় আকৃষ্ট হয়ে পোকা বা পতঙ্গ উদ্ভিদটিতে পড়লে এনজাইমে আঠার মাঝে আটকে যায় এবং পতঙ্গ নড়াচড়া করলে মাংসাল পাতার চারদিকে পিনগুলো বেকে পোকার শরীরে ফুড়ে গিয়ে পোকাকে ধরে ফেলে। এভাবেই এই উদ্ভিদটি পোকা বা পতঙ্গকে ভক্ষণ করে।

দিনাজপুর সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের এমএসসি শেষ পর্বের ছাত্র মোসাদ্দেক হোসেন জানান, ২০১৬ সালে ঢাকার আগারগাঁওয়ে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যাদুঘরের জীববিজ্ঞান গ্যালারিতে এই সুর্যশিশির উদ্ভিটটি সম্পর্কে জানতে পারি, যে এটি শুধু দিনাজপুর ও রংপুর অঞ্চলেই জন্মায়। এরপর বিভিন্ন স্থানে এই উদ্ভিদটি খোঁজার চেষ্টা করি। সর্বশেষ গত ১৫ জানুয়ারি দিনাজপুর সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকদের সহযোগিতায় নিজ কলেজ ক্যাম্পাসেই এই উদ্ভিদটির সন্ধান পাই।

ঢাকা, ১৯ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।