ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের যত আশ্চর্য আবিষ্কার


Published: 2018-02-26 02:38:39 BdST, Updated: 2018-07-23 11:52:39 BdST

চট্টগ্রাম ব্যুরো : ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলায় এবার তাক লাগিয়ে দিয়েছেণ ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা। চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা নানা উদ্ভাবন নিয়ে হাজির হয়েছিলেন মেলায়। এর মধ্যে নগরীর যানজট নিরসনে ডিজিটাল কার পার্কিং, মৌলিক চাহিদা সম্বলিত জেলেদের আবাসিক প্রকল্প, জ্বালানি বিহীন ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনে সুপার পাওয়ার জেনারেশন (জেনারেটর)-এমন সব অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন করেছেন তারা।
এছাড়া পানিতে ডুবে যাচ্ছেন বা অগ্নিকান্ড ঘটেছে এমন কোনো কারখানায় আটকে আছেন- তাদের জীবন বাঁচাতে ‘লাইফ সেভিং ড্রোন’ও উদ্ভাবন করেছে ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা।

গত শুক্রবার থেকে নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেশিয়াম মাঠে শুরু হয় ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা ২০১৮। রোববার শেষ হয়েছে তিনদিনের ওই মেলা। ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছাতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরার লক্ষ্যে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলার সার্বিক তত্ত্ববাবধান করছে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এটুআই (অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন) প্রজেক্ট। বর্তমান বিশ্বে উন্নত দেশগুলোর মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে বিদ্যুৎ।

এনআইটির (ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি) ইলেকট্রিক্যাল ডিপার্টমেন্টের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী কাউসার উদ্দিন আলভি উদ্ভাবন করেছেন সুপার পাওয়ার জেনারেশন (জেনারেটর)। তিনি বলেন, বিদ্যুতে স্বয়ংসপূর্ণ দেশগুলো প্রযুক্তি ও শিল্প-কারখানায় এগিয়ে যাচ্ছে দ্রুত। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদেরও এগিয়ে যেতে হবে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যাক্তিগত উদ্যোগে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হবে। এতে করে বিদ্যুতের যে মাসিক ব্যয় তাও অনেক কমে যাবে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম, জ্বালানি খরচ বিহীন, পরিবেশবান্ধব ও শব্দ দূষণমুক্ত জেনারেটর উদ্ভাবন করেছেন তিনি। সুপার পাওয়ার জেনারেশন (জেনারেটর) টি নিজের উৎপাদিত বিদ্যুৎয়ের সাহায্যে চলবে। তাই এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে এবং জেনেরেটর সার্বক্ষণিক চালু রাখতে প্রয়োজন হবে না কোন প্রকার জ্বালানি যেমন- তেল, গ্যাস, কয়লা ইত্যাদির।

যেহেতু তেল বা কোন প্রকার খনিজ পদার্থ ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম তাই যন্ত্রটি চালু রাখলে কোন প্রকার ধোঁয়ার সৃষ্টি হবে না। ফলে পরিবেশ থাকবে দূষণমুক্ত।

ওই উদ্ভাবনী প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত আরেক ছাত্র মোরশেদুল আলম বলেন, ‘আমাদের দেশে খনিজ সম্পদের পরিমাণ দিন দিন কমে আসছে এবং অতি অল্প সময়ের মধ্যে তা ফুরিয়ে যাবে। তেল, গ্যাসসহ যাবতীয় খনিজ স¤পদের কথা বিবেচনায় এনে তৈরি করা হয়েছে এই সুপার পাওয়ার জেনারেশন। যেটি কোন জ্বালানি ছাড়াই বর্তমানে ৩০০০ ওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম। শহর ও গ্রাম অঞ্চল ছাড়াও এই প্রকল্পের আওতায় দ্বীপ ও দুর্গম এলাকা গুলো বিদ্যুতায়নের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

চট্টগ্রাম মহিলা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউশনের আর্কিটেকচার বিভাগের শিক্ষার্থীরা উদ্ভাবন করেছেন মৌলিক চাহিদা সম্বলিত জেলেদের আবাসিক প্রকল্প। ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্কিটেকচার বিভাগের ৬ষ্ঠ বর্ষের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান মুক্তা এই প্রকল্পের উদ্ভাবক। তার সঙ্গে রয়েছেন একই বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার।

প্রকল্প সম্পর্কে তারা জানান, এক একর জায়গায় জেলেদের জন্য ওই প্রকল্পটি তৈরি করা যায়। স্রোত কিংবা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে ওই প্রকল্পে। উউন্ড মিলের সাহায্যে প্রস্তাবিত নির্মিত প্রকল্পের বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে বলে জানান তারা। এতে খরচ পড়বে ৪ কোটি ১০ লাখ টাকা।

এবারের মেলায় ১২৫টি স্টলের মাধ্যমে সাজানো হয়েছে। এরমধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান ৪৩টি, ব্যাংক ২৫টি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২৭টি, আইটি প্রতিষ্ঠান ১০টি, ফুড অ্যান্ড কফি কর্নার ১২টি, এনজিও এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ৮টি।

ঢাকা, ২৬ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।