ঢাবিকে পেছনে ফেলে বৈজ্ঞানিক ডকুমেন্টসে শীর্ষে বুয়েট


Published: 2018-01-11 14:19:25 BdST, Updated: 2018-09-25 17:48:03 BdST


লাইভ প্রতিবেদক: বাংলাদেশ থেকে গবেষণা নিবন্ধসহ সর্বমোট চার হাজার ৪৬৩টি বৈজ্ঞানিক ডকুমেন্টস বা নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৬ সালে ছিল তিন হাজার ৪৯১টি। এবার ডকুমেন্ট প্রকাশের ক্ষেত্রে সম্মিলিতভাবে দেশের শীর্ষ ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) আবারও শীর্ষে।

ঢাবির অবস্থান এবার দ্বিতীয়। আগের বছর শীর্ষ ১০-এ না থাকলেও এবার একমাত্র বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে তালিকার দশম স্থানে রয়েছে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়। শীর্ষ দশ থেকে এবার বাদ পড়েছে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)।

একমাত্র গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গতবারের মতো এবারও তৃতীয় স্থানে রয়েছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর'বি)। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক 'স্কোপাস ডাটাবেজ' এর বিভিন্ন উপাত্ত বিশ্নেষণ করে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের গবেষণা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী ম্যাগাজিন 'সায়েন্টিফিক বাংলাদেশ।'

তাদের প্রতিবেদন অনুসারে, এবারও চতুর্থ স্থানে রয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এরপর যথাক্রমে আছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)।

এতে বলা হয়েছে, বুয়েট থেকে সর্বমোট ৫৮৫টি ডকুমেন্ট প্রকাশিত হয়েছে। তাদের শিক্ষক সংখ্যা প্রায় ৫০০। সে হিসাবে প্রত্যেকে গড়ে একটি করে নিবন্ধ বা নথি প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে ঢাবির প্রায় দুই হাজার শিক্ষক হলেও মোট ৪৯৯টি ডকুমেন্ট প্রকাশিত হওয়ায় গড়ে চারজনে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন।

'সাধারণভাবে এটা অনুমেয় হচ্ছে যে, আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হওয়ার মতো অন্তত গড়ে একটি করে নিবন্ধ শিক্ষকরা করতে পারছেন না'- বলে প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে।

সায়েন্টিফিক বাংলাদেশের প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো- বুয়েট, রুয়েট, কুয়েট, চুয়েট ও ডুয়েট।

সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষ ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো, শাবিপ্রবি, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, আহ্‌ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চিটাগাং (ইউএসটিসি) এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইউনিভার্সিটি।

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বিতভাবে শীর্ষে রয়েছে বাকৃবি। এর পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

মেডিকেল কলেজ এবং ইনস্টিটিউটের মধ্যে শীর্ষ ৫ প্রতিষ্ঠান হলো, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্স, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন্স ইন ডায়াবেটিস, এন্ডোক্রাইন অ্যান্ড মেটাবোলিক ডিসঅর্ডার।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য পৃথক তালিকায় ১৪০টি ডকুমেন্ট প্রকাশের মাধ্যমে শীর্ষে রয়েছে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়। যথাক্রমে রয়েছে, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি, আহ্‌ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

২০১৭ সালে একক গবেষক হিসেবে ৪৩টি নিবন্ধ প্রকাশ করে শীর্ষে রয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সয়েল সায়েন্স বিভাগের শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন আইসিডিডিআর'বি ও যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির যৌথ গবেষক স্টিফেন পি. লুবি (৪১টি) ও তৃতীয় স্থানে রয়েছেন আইসিডিডিআর'বির গবেষক তাহমিদ জে আহমেদ (৩৫টি)।

প্রকাশিত নথির মধ্যে প্রকৌশল শাখায় রয়েছে সর্বাধিক ৩০ ভাগ। ২৯ দশমিক ৬ ভাগ প্রকাশিত হয়েছে কম্পিউটার সায়েন্সে। এর পর যথাক্রমে মেডিসিন, পদার্থ বিজ্ঞান, কৃষি, পরিবেশ বিজ্ঞান, প্রাণরসায়ন, সমাজ বিজ্ঞান, ম্যাটারিয়াল সায়েন্স, এনার্জি এবং অন্যান্য।

দক্ষিণ এশিয়ায় তৃতীয় বাংলাদেশ: গত বছর ভারতের প্রকাশিত ডকুমেন্ট ছিল ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫১১ ও পাকিস্তানের ১৫ হাজার ৮১১ হাজার। সে তুলনায় বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে রয়েছে বলেও উলেখ্য করা হয়েছে। তবে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত ও পাকিস্তানের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। এর পর রয়েছে শ্রীলংকা (১ হাজার ৮০১টি), নেপাল, মিয়ানমার, আফগানিস্তান, ভুটান ও মালদ্বীপ।

২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্কোপাস ডাটাবেজের অন্তর্ভুক্ত পিআর রিভিউড লিটারেচার, জার্নালসহ (স্কোপাস ইনডেক্সড জার্নাল) প্রকাশিত উপাত্ত বিশ্নেষণ করে তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে। বৈজ্ঞানিক ডকুমেন্টসের মধ্যে কনফারেন্স পেপার, আর্টিকেল, রিভিউ, নোট, সম্পাদকীয়, বই প্রভৃতিকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সায়েন্টিফিক বাংলাদেশের নির্বাহী সম্পাদক ড. মুনির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ২০১২ সাল থেকে স্কোপাস ডাটাবেজের সহায়তায় তারা তালিকা প্রকাশ করে আসছেন। এ ধরনের তালিকা বিষয়ভিত্তিক গবেষণা অনুসারেও হওয়া উচিত। সংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত তাদের সর্বাধিক নিবন্ধ প্রকাশকারী গবেষকের কাজের স্বীকৃতি দেওয়া।


ঢাকা, ১১ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।