আরব জাতি ছিল অপরিচিত-খতিব, মসজিদুল হারাম


Published: 2017-10-19 18:05:58 BdST, Updated: 2018-01-20 20:49:37 BdST

আরব জাতি ছিল একটি অপরিচিত জাতি। তাদের কোনো নেতৃত্ব ছিল না। জাতি হিসেবে কোনো লক্ষ্য ছিল না। তাদের মধ্যে ছিল অজ্ঞতা, মূর্খতা ও কুসংস্কার। তাদেরকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল গোত্রীয় বর্ণবাদ। এ অবস্থা ছিল ইসলাম ও ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার আগে। ১৩ অক্টোবর শুক্রবার মক্কা আল মুকাররামার মসজিদুল হারামের খতিব শাইখ মাহির আল মু‘আইকালী এসব কথা বলেছেন।

খুতবায় তিনি বলেন, সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি কলমের মাধ্যমে শিখিয়েছেন। মানুষকে শিখিয়েছেন এমনসব বিষয় যা সে জানতো না।

আল্লাহকে যথাযথ ভয় করুন, মজবুত অবলম্বনকে আঁকড়ে ধরুন। ‘হে যারা ঈমান এনেছো, আল্লাহকে যথাযথ ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।’

হে ইসলামের উম্মাহ! আল্লাহ শিক্ষা ও শিক্ষিত লোকদের মর্যাদা উন্নত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে, আর যাদেরকে শিক্ষা দেয়া হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা উপরে উঠিয়েছেন।’

তিনি আরো বলেছেন, ‘বল, যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান? শুধুমাত্র বুদ্ধি ও জ্ঞানসম্পন্ন লোকরাই উপদেশ গ্রহণ করে।’

ইসলাম-পূর্ব আরব জাতি ছিল একটি অপরিচিত জাতি। তাদের কোনো নেতৃত্ব ছিল না। জাতি হিসাবে কোনো লক্ষ্য ছিল না। তাদের মধ্যে ছিল অজ্ঞতা, মূর্খতা ও কুসংস্কার। তাদেরকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল গোত্রীয় বর্ণবাদ।

এমন এক অবস্থায় আল্লাহ তাঁর করুণা ও মেহেরবানীতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবী হিসাবে পাঠালেন। তাঁর মাধ্যমে মানব জাতিকে অন্ধকার থেকে বের করে আলো, পার্থিব সংকীর্ণতা থেকে বের করে পৃথিবী ও পরকালের প্রশস্ততার দিকে নিয়ে আসলেন।

মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন শিক্ষক, অভিবাবক, পরিশুদ্ধকারী ও নৈতিকতার পূর্ণতা দানকারী হিসাবে।

আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের মধ্য থেকে তাদের মাঝে রাসূল পাঠিয়েছেন, যে তাদের সামনে তার আয়াতসমূহ আবৃত্তি করেছে, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেছে আর তাদেরকে শিখিয়েছে কিতাব ও হিকমাহ তথা প্রজ্ঞা।

শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন কোমল ও মহানুভব।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ আমাকে কঠিন ও রূঢ় করে পাঠাননি। বরং পাঠিয়েছেন সহজ-সরল শিক্ষক হিসাবে। (সহীহ মুসলিম)

সাহাবী মুয়াওবিয়া বিন আল হাকাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষাদান পদ্ধতি সম্পর্কে বলেন, ‘আমি একবার সালাতের মধ্যে কথা বলেছিলাম। সালাত শেষে তিনি আমাকে ডেকে নিয়ে বললেন, সালাতের মধ্যে কথা বলা ঠিক নয়। সালাত তো হলো তাসবীহ, তাকবীর আর কুরআন তিলাওয়াতের জায়গা।’

আমার পিতা কুরবান হোক, আমি তাঁর আগে বা পরে এমন উত্তম শিক্ষক দেখিনি। আল্লাহর কসম! তিনি আমাকে ধমক দিলেন না, মারলেন না, এমনকি কটু কথাও বললেন না।’ (সহীহ মুসলিম)

আল্লাহ তাঁর রাসূল সম্পর্কে যথার্থই বলেছেন, ‘আমি তোমাকে পাঠিয়েছি বিশ্বজাহানের জন্য করুণাস্বরূপ।’

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিক্ষাদানে ছিলেন কোমল ও স্নেহপরায়ণ। শিক্ষা দানকালে শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর ভালোবাসার প্রকাশ ঘটেছে। সুনানু আবূ দাউদে বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মু‘আয বিন জাবালের হাত ধরে বললেন, হে মু‘আয! আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে ভালবাসি। আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে ভালবাসি। তুমি প্রত্যেক সালাতের পর বলবে, আল্লাহুম্মা আয়িন্নী আলা যিক্্রিকা ওয়া শুক্্রিকা ওয়া হুসনি ইবাতাদিকাÑ হে আল্লাহ, আমাকে তোমার স্মরণ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও তোমার উত্তম ইবাদাতের তাওফীক দাও।’

শিক্ষাদানের পরিবেশ যদি নিরাপদ হয়, তাহলে ছাত্র নির্ভয়ে ও নিঃসঙ্কোচে তার অক্ষমতা, দুর্বলতা ও সমস্যা শিক্ষকের কাছে প্রকাশ করতে পারে।

ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেন, সুলাইম নামে এক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! দিনের বেলায় আমরা কাজ করি, আর রাতে আমরা ঘুমিয়ে যাওয়ার পর মু‘আয বিন জাবাল আমাদের কাছে এসে সালাতের জন্য ডাকেন, আমরা তার কাছে আসি, তিনি আমাদেরকে নিয়ে লম্বা সালাত আদায় করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ডেকে বলেন, হে মু‘আয, তুমি মানুষের জন্য কষ্টের কারণ হয়ো না। তুমি আমাদের সাথে সালাত আদায় করবে। আর যদি লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করো তাহলে তাদের যেন কষ্ট না হয়Ñ এভাবে সালাত আদায় করবে।

হে মুরুব্বীগণ! উত্তম আদর্শ শিক্ষার্থীদের মন মানসে প্রভাব ফেলে। শিক্ষক যদি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে আদর্শ হিসাবো গ্রহণ করে তাহলে এটি তার ছাত্রদের মাঝে প্রভাব সৃষ্টি করবে।

হে শিক্ষক ও শিক্ষিকা সমাজ! মর্যাদার দিক থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেয়ে মর্যাদা সম্পন্ন আর কেউ নেই। তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ আদম সন্তান। তিনি বিশ্বজাহানের রব আল্লাহর বন্ধু, তিনি প্রথম সুপারিশকারী ও তার তাঁর সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। তাঁর জন্য সর্বপ্রথম জান্নাতের দরজা খোলা হবে। তিনি হাওজ ও প্রশংসনীয় অবস্থানের অধিপতি। তা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন বিনয়ী।

আনাস (রা.) বলেন, সাহাবায়ে কিরামের কাছে আল্লাহর রাসূলের চেয়ে অধিক প্রিয় আর কেউ ছিল না। অথচ তাঁকে দেখলে কেউ দাঁড়াতেন না। কেন না তাঁরা জানতেন যে, তিনি এটি পছন্দ করেন না।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে ছিল প্রশ্নোত্তর ও পর্যালোচনা।

ইমাম তিরমিযী বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেন, ‘তোমরা কি জানো আমাদের মাঝে নিঃস্ব কে?’ তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের মধ্যে নিঃস্ব সেই ব্যক্তি যার কোন অর্থসম্পদ নেই। তিনি বললেন, ‘বরং আমার উম্মাতের মধ্যে সে-ই নিঃস্ব যে কিয়ামত দিবসে সালাত, সিয়াম ও যাকাত নিয়ে আসবে আর বিপরীত দিকে সে পৃথিবীতে কাউকে গালি দিয়েছে, কারো চরিত্র হনন করেছে, কারো সম্পদ ভোগ করেছে, কাউকে হত্যা করেছে, কাউকে প্রহার করেছে। তার ভাল কাজ দিয়ে এদের প্রতিশোধ নেয়া হবে। এক পর্যায়ে তার ভাল কাজগুলো শেষ হয়ে যাবে। তখন তাদের অপরাধসমূহ তার ওপর চাপানো হবে। অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।’

হে মুমিনগণ! একজন সফল শিক্ষক সবসময় অবস্থাভেদে ছাত্রদের সাথে আচরণ করেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণের অবস্থা বিবেচনায় রেখে উপদেশ ও পরামর্শ দিতেন। একজনকে উপদেশ দিতেন তাকওয়া ও উত্তম চরিত্র বিষয়ে, আরেক জনকে উপদেশ দিতেন রাগ তথা ক্রোধকে দমন করতে। তৃতীয় জনকে উপদেশ দিতেন মানুষের দায়িত্ব গ্রহণ না করতে। চতুর্থ জনকে উপদেশ দিতেন আল্লাহর যিক্রে জিহ্বাকে সিক্ত রাখতে।

সহীহ মুসলিমে একটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার তাঁর একজন সাহাবীর হাতে স্বর্ণের আংটি দেখলেন। তিনি নিজ হাতে আংটিটি খুলে নিয়ে ফেলে দিলেন এবং বললেন, তোমাদের মধ্যে যে অঙ্গার ধারণ করতে চাইবে সে হাতে এ ধরনের আংটি পরবে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চলে যাওয়ার পর লোকটিকে বলা হলো, আংটিটি উঠিয়ে নিয়ে অন্য কাজে লাগাতে। সে বললো, না, আল্লাহর শপথ! যিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। আমি এটি আর উঠাবো না, কেননা এটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছুড়ে ফেলেছেন।

লোকদের অবস্থা বিবেচনায় রেখে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবেই ভিন্ন ভিন্ন আচরণ করতেন।
প্রজ্ঞা সম্পন্ন শিক্ষক তো সে-ই, যিনি বর্তমান সময়ের সব ঘটনা সম্পর্কে অবগত থাকেন এবং ছাত্রদেরকে সে অনুযায়ী নির্দেশনা দেন। চলমান কোনো বিশেষ ঘটনা বা পরিস্থিতিকে শিক্ষার্থীদের সামনে শিক্ষণীয় বিষয় হিসাবে উপস্থাপন করলে তা তাদের হৃদয়ে স্থায়ী প্রভাব ফেলে।

সহীহুল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে উমার (রা.)-র সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধবন্দি এক মহিলাকে দেখলেন, সে যেন বন্দিদের মধ্যে কাউকে খুঁজছে। মহিলাটি একটি শিশুকে খুঁজে পেয়ে বুকে জড়িয়ে নিল এবং তাকে দুধপান করালো। এ দৃশ্য দেখে তিনি আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন, তোমাদের কি মনে হয়Ñ এ মহিলাটি তার এ সন্তানটিকে আগুনে নিক্ষেপ করতে পারবে? আমরা বললাম, আল্লাহর কসম! না, সে এটি করতে পারবে না।’
তিনি বললেন, ‘আল্লাহ এ মহিলাটির চেয়েও তাঁর বান্দাদের প্রতি অধিক করুণাশীল।’

হে মুরুব্বী সমাজ! ভুল সংশোধনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চমৎকার পন্থা অবলম্বন করতেন। এ ক্ষেত্রে তিনি সংশ্লিষ্ট লোকের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার জন্য নাম প্রকাশ না করে বলতেন, ‘লোকদের হলো কী? তারা এমন এমন কাজ করে!’

হে ইসলামের উম্মাহ! শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সকলের দায়িত্ব। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘জেনে রাখো, তোমাদের সবাই দায়িত্বশীল। আর প্রত্যেককে তার নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’
শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ে আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যেসব নির্দেশনা জানলাম তা তাঁর বিপুল নির্দেশনাবলীর মধ্যে মাত্র কয়েকটি। তিনি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন। তার ফলস্বরূপ একটি ব্যতিক্রমধর্মী জাতি গঠন করতে পেরেছিলেন যার নজির পৃথিবীতে নেই। যে জাতি সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা সর্বোত্তম জাতি, তোমাদেরকে বের করে আনা হয়েছে মানুষের কল্যাণের জন্য; তোমরা কল্যাণের আদেশ করবে আর মন্দ থেকে বিরত রাখবে।’

হে আল্লাহর বান্দাগণ! আমাদের সন্তানদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের জন্য কতই না প্রয়োজন মানবতার এ মহান শিক্ষক থেকে আদর্শ গ্রহণ করা। এর মাধ্যমে আল্লাহ হৃদয়সমূহকে জীবন্ত করবেন ও বিবেককে আলোকিত করবেন। মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে আসবেন।

ইনি তো সেই শিক্ষক, আল্লাহ যাকে বিশ্বজাহানের জন্য করুণা ও পরকালে মহান করুণাময়ের সাক্ষাত আকাক্সক্ষীদের জন্য আদর্শ হিসাবে পাঠিয়েছেন।

‘নিশ্চয় আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ, তোমাদের মধ্যে তাদের জন্য যারা আল্লাহকে চায়, পরকাল চায়, আর বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরণ করে।’

হে মুমিন সমাজ! ইমাম তিরমিযী (রাহি.) আবূ উমামাহ আল বাহিলী (রা.)-র সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে দু’জন ব্যক্তির আলোচনা করা হলো তাদের একজনÑ আবিদ তথা ইবাদতমগ্ন ব্যক্তি, আরেকজন হলো শিক্ষিত ও জ্ঞানী। তিনি বললেন, ইবাদতে মগ্ন ব্যক্তির চেয়ে শিক্ষিত ও জ্ঞানী লোকটির মর্যাদা, তোমাদের সাধারণ কারো চেয়ে আমার মর্যাদার মতো। তারপর তিনি বললেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষকে কল্যাণকর বিষয় শিক্ষা দেয় আল্লাহ তার ওপর অনুগ্রহ করেন। ফেরেশতা, আকাশ ও জমিনবাসী এমনকি গর্তের পিঁপড়া ও পানির মাছও তার জন্য দু‘আ করে।’

হে সম্মানিত শিক্ষক! আপনার শিক্ষাদানের বিষয় যাই হোক, তা শরীয়াহ সংশ্লিষ্ট বিষয় হোক অথবা জাগতিক কোনো বিষয় আপনার কাজটি মর্যাদা সম্পন্ন কাজ। আপনি এর মাধ্যমে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণে সৃষ্টিকে সত্যের সন্ধান দিচ্ছেন। আপনার পেশা একটি মহান পেশা। এ পেশায় আপনার প্রতিদান অনেক বড়। এ মহান পেশার জন্য আপনাকে অভিনন্দন। অভিনন্দন যে মহান আল্লাহ তাঁর আরশ থেকে আপনাকে স্মরণ করছেন, আপনার প্রশংসা করছেন।
মানুষের জন্য কল্যাণকর সকল বিষয়ের শিক্ষাই মানুষের কল্যাণের শিক্ষা। আর ইসলাম এমন শিক্ষারই প্রেরণা দিয়েছে। সকল বিষয়ের শিক্ষককেই সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছে।

হে শিক্ষক ও শিক্ষিকা সমাজ! আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব অনেক বড়। আপনারা হলেন শিক্ষার্থীদের জন্য আলোকবর্তিকা। আপনাদের মাধ্যমে তাদের বিবেক-বুদ্ধি আলোকিত হবে। তাদের হৃদয়ে দীন, দেশ, দায়িত্বশীল ও আলেমগণের ভালবাসার বীজ বপন করুন। তাদের সামনে উগ্রতা, গোঁড়ামী ও সীমালঙ্ঘনের বিপরীতে প্রাচীর তৈরি করুন।

হে ইসলামী উম্মাহ! ছাত্রদের মন-মানসে শিক্ষকদের প্রতি থাকতে হবে সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ। আদব ও শিষ্টাচার হলো শিক্ষার চাবি। শিক্ষা যতটা প্রয়োজন, শিক্ষার্জনের উদ্দেশ্যে শিষ্টাচার তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন।
আমাদের অতীতের অনুসরণীয় মহান ব্যক্তিগণ শিষ্টাচারের উত্তম উদাহরণ পেশ করেছেন।
আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা,) তাঁর শিক্ষক যায়িদ বিন সাবিত (রা.)-র উটের লাগাম ধরে হাঁটতেন আর বলতেন, শিক্ষক ও মুরুব্বীগণের সাথে এমন আচরণ করাই আমরা শিখেছি।

ইমাম আবূ হানীফা (রাহি.) তাঁর শিক্ষক হাম্মাদ (রাহি.)-র বাড়ির দিকে পা প্রসারিত করতেন না। তিনি বলেছেন, আমার শিক্ষক হাম্মাদের (রাহি.) মৃত্যুর পর আমি যত সালাত আদায় করেছি, সকল সালাতের পর তাঁর ও তাঁর পিতামাতার জন্য দু‘আ করেছি।
ইমাম শাফিয়ী (রাহি.) বলেন, আমি ইমাম মালিকের সামনে খুব আস্তে বইয়ের পাতা উল্টাতাম যেন তিনি শব্দ শুনতে না পান।

ইমাম আহমাদের পুত্র আবদুল্লাহ ইমাম আহমাদকে একবার জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, শাফিয়ী লোকটি কে? আমি প্রায়ই শুনি যে, আপনি তাঁর জন্য দু‘আ করেন। তিনি বললেন, হে আমার বৎস! শাফিয়ী হলেন পৃথিবীর জন্য সূর্য আর মানুষের জন্য কল্যাণ। তুমি চিন্তা করে দেখ, এ দুটির বিকল্প আছে কি?

সৌজন্যে: aldawah.tv, দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণে
খুতবার তারিখ: ১৩-১০-২০১৭

 

ঢাকা, ১৯ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমএইচ

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।