মসজিদে জামাত নিয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নতুন নির্দেশনা


Published: 2020-03-30 20:09:46 BdST, Updated: 2020-05-29 22:05:12 BdST

লাইভ প্রতিবেদকঃ দেশের সকল মসজিদে নিয়মিত আজান, ইকামত, জামাত ও জুমার নামাজ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। তবে ৫ ওয়াক্ত নামাজের পূর্বেই গোটা মসজিদকে জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, কার্পেট-কাপড় সরিয়ে ফেলা, জামাত সংক্ষিপ্ত করণের কথা বলেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

দেশের খ্যাতনামা আলেমদের সঙ্গে বৈঠক করেই এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।

এর পূর্বে গত ২৪ মার্চ ইসলামিক ফাউন্ডেশন দেশের খ্যাতনামা আলেমদের সঙ্গে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে সৃষ্টি হওয়া পরিস্থিতিতে জনগণের সুরক্ষার বিষয়ে পরামর্শ প্রদানের লক্ষ্যে বৈঠক করে। বৈঠকে আলেমরা মসজিদগুলোতে জুমা ও জামাতে মুসল্লিদের সংখ্যা সীমিত রাখার পরামর্শ দেন।

একই সঙ্গে জানানো হয় যে, মসজিদ বন্ধ থাকবে না, তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা বিষয়ে নিশ্চিত না হয়ে মসজিদে গমন করবেন না। আলেমদের পরামর্শ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রকাশ করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। যদিও বাস্তবে সেইসব পরামর্শের কোনও প্রতিফলন দেখা যায়নি দেশের মসজিদগুলোতে। বেশিরভাগ মসজিদেই জুমার নামাজে পরিপূর্ণ দেখা গেছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মসজিদে নিয়মিত আজান, ইকামত, জামাত ও জুমার নামাজ অব্যাহত থাকবে। তবে জুমা ও জামাতে মুসল্লিগণের অংশগ্রহণ সীমিত থাকবে। তবে ৮ ধরনের মুসল্লিদের মসজিদে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। ৮ টি পরামর্শ নিচে উল্লেখ করা হলো:

১. যারা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত।
২. যাদের সর্দি, জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট আছে।
৩. যারা আক্রান্ত দেশ ও অঞ্চল থেকে এসেছেন।
৪. যারা উক্তরূপ মানুষের সংস্পর্শে গিয়েছেন।

৫. যারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত,।
৬. বয়োবৃদ্ধ, দুর্বল, মহিলা ও শিশু।
৭. যারা অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত।
৮. যারা মসজিদে গিয়ে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করেন তাদেরও মসজিদে না আসার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন আরও জানিয়েছে, যারা জুমা ও জামাতে যাবেন তারা সকলেই যাবতীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা অবলম্বন করবেন। ওজু করে নিজ নিজ ঘরে সুন্নত ও নফল আদায় করবেন। শুধু জামাতের সময় মসজিদে যাবেন। সেই সাথে ফরজ নামাজ শেষে দ্রুত ঘরে চলে আসবেন। সাবান দিয়ে বারবার হাত ধোয়া, মাস্ক পরা, জীবাণুনাশক দ্বারা মসজিদ ও ঘরের মেঝে পরিষ্কার রাখাসহ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সকল নির্দেশনা মেনে চলবেন।

মসজিদের খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও মসজিদ কমিটিকেও করণীয় সম্পর্কে ৮টি পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। পরামর্শগুলো হলো:

১. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদকে জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা এবং কার্পেট-কাপড় সরিয়ে ফেলা।
২. জামাত সংক্ষিপ্ত করা।
৩. জুমার বয়ান, খুতবা ও দোয়া সংক্ষিপ্ত করা।
৪. বর্তমান সংকটকালে দরসে হাদিস, তাফসির ও তা’লীম স্থগিত রাখা।

৫. ওযুখানায় অবশ্যই সাবান ও পর্যাপ্ত টিস্যু রাখা।
৬. বর্তমান পরিস্থিতিতে জামাতের কাতারে ফাঁক ফাঁক হয়ে দাঁড়ানো।
৭. ইশরাক, তিলাওয়াত, জিকির ও অন্যান্য আমল ঘরে করা।
৮. ঢাকাসহ দেশের কোনও মসজিদে যদি কোনও বিদেশি অবস্থান করেন তাদের বিষয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

ঢাকা, ৩০ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।