মসজিদে নববী খুতবা: আত্মশুদ্ধি সকলের জন্য অত্যাবশ্যক


Published: 2018-07-19 15:59:25 BdST, Updated: 2018-12-11 22:18:06 BdST

শাইখ আবদুল মুহসিন আল-কাসিম, মসজিদে নববী, মদীনা মুনাওয়ারা: সকল প্রশংসা আল্লাহর। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর কাছেই সাহায্য চাই। তাঁর কাছেই ক্ষমা চাই। তাঁর কাছে আশ্রয় চাই আমাদের নাফসের অনিষ্ট থেকে ও কর্মের মন্দ থেকে। তিনি যাকে হেদায়াত দেন, তাকে পথভ্রষ্টকারী কেউ নেই। তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে হেদায়াত দানকারী কেউ নেই।

হে মুসলিমগণ! মানুষের কল্যাণ ও তাদের সকল বিষয়ের স্থিতিশীলতা নির্ভর করে যার যে অধিকার, সে অধিকার তাকে দেয়ার মধ্যে। আর এটিই হলো ইনসাফ, ন্যায়পরায়ণতা। প্রত্যেকের ওপর তার নিজ নাফসের অধিকার রয়েছে। এ অধিকার বিষয়ে কিয়ামাতের দিন তাকে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘প্রত্যেকেরই তার নিজ নাফসের প্রতি অধিকার

২.আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর বান্দাদের পরিশুদ্ধ করার জন্য
পাঠিয়েছেন। ‘তিনি নিরক্ষরদের মাঝে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যে তাদের সামনে তাঁর আয়াতের
তিলাওয়াত করবে, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবে, তাদেরকে কিতাব ও হিকমাহ শিক্ষা দিবে।’

সকল ধরনের কল্যাণ ও সফলতা আত্মার পরিশুদ্ধির মাঝে আর সকল ব্যর্থতা ও অকল্যাণ আত্মার পরিশুদ্ধি না করার মাঝে। আল্লাহ কুরআন মজীদে সবচেয়ে দীর্ঘ শপথের পর যে কথাটি বলেছেন তাহলো ‘নিঃসন্দেহে মানুষের মধ্যে সে-ই সফলকাম যে নাফসকে পরিশুদ্ধ করেছে। আর ব্যর্থ হয়েছে

সে, যে তাকে কলুষিত করেছে।’ (আশ-শামস: ৯-১০)
কাতাদাহ (রাহি.) বলেন, সে সফলতা অর্জন করবে, যে আল্লাহর আনুগত্য ও কল্যাণকর কাজের
মাধ্যমে নাফসকে পরিশুদ্ধ করবে।

আল্লাহ বলেন, ‘যে নিজকে পরিশুদ্ধ করে নিয়েছে, সে অবশ্যই সফলকাম হয়েছে। এবং সে নিজ
রবের নাম স্মরণ করে সালাত আদায় করে। কিন্তু তোমরা তো দুনিয়ার জীবনকে অগ্রাধিকার দাও। অথচ আখিরাতের জীবনই হচ্ছে উৎকৃষ্ট ও স্থায়ী; নিশ্চয়ই এ কথা আগের নবী-রাসূলগণের কিতাবসমূহে বর্ণিত আছে। তার উল্লেখ আছে ইবরাহীম ও মূসার কিতাবসমূহে।’ (আল-আ‘লা:
১৪-১৯)

মুমিনদের একটি উল্লেখযোগ্য ক্সবশিষ্ট্য হলো তারা আত্মশুদ্ধির জন্য সক্রিয়। আল্লাহ সফল মুমিনদের ক্সবশিষ্ট্য সম্পর্কে বলেছেন, ‘যারা যাকাত আদায়কারী।’ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনুল কাসীর (রাহি.) বলেছেন, এ যাকাত নাফস তথা আত্মার যাকাত বা পরিশুদ্ধি, আবার
সম্পদেরও যাকাত। পরিপূর্ণ মুমিন দুটি যাকাতই যথাযথ আদায় করে।

যে আত্মার পরিশুদ্ধি অর্জন করে আল্লাহ তাকে অনুগ্রহ করেন ও সম্মান দেন। তিনি বলেন, ‘যদি তোমাদের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকতো তাহলে তোমাদের কেউ পরিশুদ্ধি অর্জন করতে পারতে না।’ আখিরাতে জান্নাত তো তাদের পুরস্কার যারা নিজকে সংশোধন করতে পেরেছে। আল্লাহ বলেন, ‘যে তার রবের সামনে অবস্থানকে ভয় করে, আর নিজকে প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে বিরত রাখে, জান্নাত হলো তার আবাস।’

উঁচু মর্যাদাও তাদের প্রাপ্তি, যারা নিজদেরকে পরিশুদ্ধ করে। ‘যে ব্যক্তি মুমিন হয়ে ও নেক কাজ নিয়ে তাঁর কাছে আসবে, তারা হচ্ছে সেসব লোক যাদের জন্য রয়েছে সমুচ্চ মর্যাদা। আর সে মর্যাদা হলো এমন স্থায়ী জান্নাত যার পাশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হবে। সেখানে তারা থাকবে চিরকাল। এ হচ্ছে সে ব্যক্তির পুরস্কার যে নিজকে পরিশুদ্ধ রেখেছে।’ (ত্বা-হা: ৭৫-৭৬)

আত্মশুদ্ধির চেষ্টা সকলের জন্য অত্যাবশ্যক। আর এটি হতে হবে আল্লাহর আদেশ মানা ও নিষেধ পরিহারের মাধ্যমে। আল্লাহর আদেশ ও নিষেধের মূল উদ্দেশ্য হলো তাঁর দাসত্ব ও গোলামীর বহিঃপ্রকাশের সাথে সাথে আত্মশুদ্ধি।

৩. আত্মশুদ্ধির সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো তাওহীদ। এককভাবে আল্লাহরই ইবাদাত করা ও তাঁর সাথে
কাউকে শরিক না করা। তাওহীদ ছাড়া আত্মশুদ্ধির কোনো উপায় নেই। শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়াহ (রাহি.) বলেন, তাওহীদ নির্ভর ঈমানের মাধ্যমেই আত্মশুদ্ধি অর্জিত হয়। কেননা তাওহীদ হলো অন্তরকে আল্লাহ ছাড়া সকল ইলাহ থেকে মুক্ত করে শুধুমাত্র
আল্লাহর উলুহিয়্যাতের ওপর প্রতিষ্ঠিত করা। এটিই ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-র মূল চেতনা। আর এটিই আত্মশুদ্ধির ভিত্তি।

সালাতের মাধ্যমেও আত্মশুদ্ধি অর্জন করা যায়। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই সালাত অশ্লীলতা ও অন্যায়
থেকে বিরত রাখে।’ সালাত অপরাধ ও পাপ মোচন করে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘তোমাদের কারো বাড়ির সামনে যদি একটি নদী থাকে, আর সে যদি ওই
নদীতে প্রতিদিন পাঁচবার গোসল করে, তার শরীরে কি কোনো ময়লা থাকতে পারে?’ তারা বললেন,
না, ওই ব্যক্তির দেহে কোনো ময়লা থাকবে না। তিনি বললেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত সালাতও এরূপ।

সালাত অপরাধ ও পাপ মোচন করে।’ (বুখারী ও মুসলিম)
যাকাত ও সাদাকার মাধ্যমেও অন্তর পরিশুদ্ধ হয়। আল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তাদের সম্পদ থেকে সাদাকা গ্রহণ করে তাদেরকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করো।’ সাওম-রোযা নাফসকে অন্যায় ও অশ্লীলতা থেকে রক্ষা করে। আল্লাহ বলেন, ‘হে যারা ঈমান
এনেছো, তোমাদের ওপর সিয়াম-রোযাকে অত্যাবশ্যক করা হয়েছে; যেমনটি করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’ (বাকারাহ: ১৮৩)

হজ্জের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি অর্জিত হয়। আল্লাহ বলেন, ‘যার ওপর হজ্জ ফরয হয়, (সে যেনো জেনে
রাখে যে,) হজ্জের মধ্যে কোনো ধরনের অশ্লীলতা, অবাধ্যতা ও ঝগড়া-বিবাদ নেই।’ যার হজ্জ কবুল হয়, সে হজ্জ থেকে পাপমুক্ত হয়ে ফিরে আসে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ্জ করলো, আর এতে সে কোনো ধরনের অশ্লীলতা ও
পাপাচারে লিপ্ত হলো না, সে হজ্জ থেকে ফিরে আসবে ওই দিনের মতো যেদিন তার মা তাকে প্রসব
করেছিলো।’ (বুখারী ও মুসলিম)

মানুষের অধিকার রক্ষায় আল্লাহর বিধান মানার মাধ্যমেও অন্তরের পরিশুদ্ধি অর্জিত হয়। তা মানা
যদিও বা কখনো কখনো কষ্টকর হয়। কারো ঘরে প্রবেশ করার অনুমতি চাওয়ার পর ‘যদি

তোমাদেরকে বলা হয় ফিরে যাও, তাহলে ফিরে যাবে। এটি তোমাদের জন্য অধিকতর পরিশুদ্ধির
বিষয়।’ অন্তরের পরিশুদ্ধি ও পবিত্রতা আল্লাহর হাতে। আল্লাহ বলেন, ‘বরং আল্লাহ যাকে চান তাকে
পরিশুদ্ধ করেন।’

৪. তাই অন্তরের পরিশুদ্ধির জন্য দু‘আ করতে হবে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
দু‘আতে বলতেন, ‘হে আল্লাহ! আমার নাফসকে তাকওয়া দাও; তাকে তুমি পরিশুদ্ধ করে দাও। তুমি সর্বোত্তম পরিশুদ্ধকারী।’ (মুসলিম) বেশি বেশি যিক্র বক্ষকে প্রশস্ত ও অন্তরকে পবিত্র করে। আল্লাহ বলেন, ‘মনে রেখো, আল্লাহর যিকিরের মাধ্যমে অন্তরসমূহ প্রশান্তি পায়।’
যে কুরআন নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তিলাওয়াত করে, গবেষণা করে, শিখে ও শিখিয়ে সর্বোপরি আমল করে তার অন্তর পরিশুদ্ধ হবে, আল্লাহর প্রতি অনুগত হবে।

আল্লাহ বলেন, ‘হে মানুষ! তোমাদের কাছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে উপদেশ (বিশিষ্ট কিতাব)
এসেছে, এটি মানুষের অন্তরের ব্যাধির জন্য নিরাময় এবং মুমিনদের জন্য হেদায়াত ও রহমত।’
(ইউনুস: ৫৭) ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রাহি.) বলেছেন, কুরআন হলো ক্সদহিক, মানসিক, দুনিয়া ও আখিরাতের
সকল ব্যাধির নিরাময়।

কল্যাণময় শিক্ষা ও জ্ঞানের মাধ্যমেও আত্মশুদ্ধি হয়ে থাকে। আল্লাহ বলেন, ‘বল যারা জানে আর
যারা জানে না তারা কি সমপর্যায়ের?... উপদেশ তো কেবল জ্ঞানী লোকজনই গ্রহণ করে থাকে।’
জ্ঞান ও শিক্ষা তাযকিয়া তথা আত্মশুদ্ধির এমন উচ্চতায় পৌঁছায় যে, জ্ঞানী ও শিক্ষিত লোকজন আল্লাহকে ভয় করে। ‘আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে শিক্ষিত লোকরাই তাকে ভয় করে।’ জ্ঞানী ও বুদ্ধিসম্পন্ন বিশেষ ব্যক্তিদের জীবন চরিত পড়ার মাধ্যমেও আত্মশুদ্ধি অর্জিত হয়। তাদের
জীবন চরিত পড়লে তাদের তুলনায় নিজেদের ঘাটতি ও ত্রæটি অনুভব করে আত্মশুদ্ধির জন্য আরো
সচেষ্ট হওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়।

সার্বক্ষণিক আল্লাহর পর্যবেক্ষণকে স্মরণে রাখা, আত্মশুদ্ধি অর্জনের জন্য সহায়ক। মনে রাখতে হবে যে, আত্মশুদ্ধি অনেকটা নির্ভর করে আত্মসমালোচনা ও আত্মপর্যবেক্ষণের ওপর। আত্মসমালোচনা ছাড়া আত্মশুদ্ধি সম্ভব নয়। আত্মসমালোচনার মাধ্যমে একজন মানুষ নিজের দোষ ত্রুটি উপলব্ধি করে নিজকে সংশোধনের চেষ্টা করতে পারে।

দৃষ্টিকে সংযত রাখা আত্মশুদ্ধির একটি উপায়। আল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তুমি মুমিনদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে। এটি তাদের পরিশুদ্ধতার জন্য অধিক কার্যকরী।’ অপ্রয়োজনীয় কথা ও দৃষ্টি থেকে নিজকে বিরত রাখতে হবে। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রাহি.) বলেছেন, অধিকাংশ পাপের সুতিকাগার হচ্ছে অপ্রয়োজনীয় কথা ও দৃষ্টি। এ দুটি শয়তানের প্রবেশদ্বার।

৫. মানুষের দীনি পরিচয় পাওয়া যায় তার বন্ধু ও সাথীর মাধ্যমে। অতএব প্রত্যেককে দেখতে হবে তার বন্ধুত্ব কার সাথে। উত্তম ও পবিত্র সাহচর্য্য মর্যাদার উচ্চতায় পৌঁছানোর জন্য সহায়ক। কবর যিয়ারত ও মৃত্যুর স্মরণ
আত্মশুদ্ধির জন্য সহায়ক।

কোনো ভুল-ত্রুটি ও অপরাধ হলেই তাওবাহ করতে হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘বান্দা যখন কোনো অপরাধ করে, তখন তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে যায়। যদি সে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায় ও তাওবাহ করে, তাহলে অন্তর পরিচ্ছন্ন হয়ে যায়।’ (তিরমিযী)

হে মুসলিমগণ! তাযকিয়া তথা আত্মশুদ্ধির মূল উৎস হলো আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহ। আল্লাহর আনুগত্য, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হেদায়াতের অনুসরণ হলো আল্লাহর পথ, আল্লাহর দীন ও সিরাতে মুসতাকীম। এর মাধ্যমেই আত্মশুদ্ধি ও আত্মসংশোধন করতে হবে। মানুষের পরিবর্তন-সংশোধন ও বিপর্যয়, সচ্ছলতা ও কঠিন অবস্থা, নিরাপত্তা ও ভয় নির্ভর করে
তার মানসিক অবস্থার ওপর।

আল্লাহ কোনো জাতিকে পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজেদের মধ্যকার অবস্থার পরিবর্তন
করে। যার ভিতরটা পরিশুদ্ধ হবে, তার বাহিরও পরিশুদ্ধ হবে। যে নিজের ও আল্লাহর মধ্যকার সম্পর্ক সংশোধন করবে, মানুষের সাথে তার সম্পর্ক ভাল হবে। যে আখিরাতের জন্য কাজ করবে, আল্লাহ তার দুনিয়ার কর্ম সম্পন্ন করে দিবেন।

মুমিন আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর ভয় দুটিকেই লালন করে।
মুমিন আত্মসংশোধন ও পরিশুদ্ধির চেষ্টা করতে থাকবে। কিন্তু এ ব্যাপারে আত্মতৃপ্তি ও সন্তোষ প্রকাশ করবে না। আল্লাহ বলেন, ‘নিজেদের পরিশুদ্ধতার প্রকাশ ঘটাবে না।’

অনুবাদ: অধ্যাপক আ.ন.ম. রশীদ আহমাদ


ঢাকা, ১৯ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।