মসজিদুল হারামের খুতবা: অন্তরের পরিচ্ছন্নতা ও পরিশুদ্ধতা অর্জন


Published: 2018-05-14 22:48:39 BdST, Updated: 2018-06-18 15:35:54 BdST

শাইখ মাহির আল-মু‘আইকালি, মক্কা আল মোকাররামা থেকে: সকল প্রশংসা আল্লাহর। আমরা তাঁর প্রশংসা করি। তাঁর কাছে সাহায্য চাই। তাঁর কাছেই ক্ষমা চাই। তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। কখনো তাঁর অকৃতজ্ঞ হই না। যারা তাঁর অবাধ্যতা করে, আমরা তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করি।

হে মুমিন সমাজ! আমি আমাকে ও আপনাদেরকে তাকওয়া তথা আল্লাহকে ভয় করে চলার পরামর্শ দিচ্ছি। এটিই সর্বোত্তম পরামর্শ।

হে ইসলামের অনুসারী উম্মাহ! শা‘বানের রাত-দিনগুলো শেষ হয়ে যাচ্ছে। আর মাত্র কয়েকটি দিন বাকি আছে। অথচ এখনো অনেকে হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করছে না।
রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আল্লাহ শা‘বানের মধ্য রজনীতে তাঁর সৃষ্টির দিকে দৃষ্টি দেন। তিনি সবাইকে ক্ষমা করেন। তবে মুশরিক এবং অপরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীকে ক্ষমা করেন না।’ (ইবনু মাজাহ)

উল্লেখ্য যে, এ হাদীসে রোযা ও রাত জাগার উল্লেখ নেই। বরং আগামী মহান মাসের আগমন মুহূর্তে নিজ উম্মাতের লোকদেরকে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন আর তা হলো মহান রবের তাওহীদ তথা তাঁকে একক মর্যাদ দেয়া আর অন্তরকে হিংসা, বিদ্বেষ থেকে মুক্ত রাখা।

মধ্য শা‘বান অতিক্রান্ত হওয়ার অর্থ হচ্ছে এ মাসটি শেষ হয়ে আসছে। আরেকটি মাস আসার অপেক্ষায় আছে। যে তার অন্তরকে তাওহীদ দিয়ে সমৃদ্ধ করবে, হিংসা-বিদ্বেষ থেকে মুক্ত রাখবে, সে তার মহান রবের পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও ক্ষমা লাভ করবে।

হে আল্লাহর বান্দাগণ! পরিশুদ্ধ ও প্রশান্ত অন্তর আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত বিষয়-বিরোধী সন্দেহ থেকে মুক্ত থাকে। আল্লাহ থেকে দুরে সরিয়ে দেয় এমন কামনা বাসনা থেকে বাঁচতে পারে।

ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম (রাহি.) বলেন, পরিচ্ছন্ন ও পরিশুদ্ধ অন্তর পেতে পাঁচটি বিষয় থেকে পরিত্রাণ লাভ করতে হবে। সেগুলো হলো, যা তাওহীদ বিরোধী, বিদ‘আহ যা সুন্নাহ বিরোধী, কামনা-বাসনা যা আল্লাহর আদেশ মানার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক, অবহেলা যা আল্লাহর স্মরণ তেকে দূরে সরিয়ে দেয়। প্রবৃত্তি যা আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ হতে বাধা দেয়।

ঈমান ও তাকওয়া দ্বারা সমৃদ্ধ প্রশান্ত অন্তর আল্লাহর পক্ষ থেকে কল্যাণ ও অনুপ্রেরণা লাভ করে। এ ধরনের অন্তর একজন মানুষকে উত্তম চরিত্র দ্বারা সুসজ্জিত করে পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিত্ব সৃষ্টি করে। এ ধরনের লোক অন্যের জন্য কল্যাণ পছন্দ করে।

আল্লাহ বলেন, ‘যাদের মনের কার্পণ্য ও সংকীর্ণতা থেকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে তারাই হচ্ছে সফলকাম।’ (আল-হাশর: ৯) সাহাবী আবূ দুজানা (রা.)-র মৃত্যুর সময় তার মুখণ্ডল খুবই উজ্জ্বল দেখাচ্ছিল, তখন তাকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, আমার তেমন কোনো আমল নেই। তবে দুটি বিষয়কে আমি গুরুত্ব দিতাম, একটি হলো আমি অপ্রয়োজনে কথা বলতাম না। আরেকটি হলো আমার অন্তর মুসলিমদের ব্যাপারে সবসময় পরিচ্ছন্ন থাকতো।

এর থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট হলো যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের মর্যাদার মাপকাঠি ছিল অন্তরের পবিত্রতা ও বক্ষের শুদ্ধতা। ইবাদাতের প্রাচুর্যতা নয়।
ইয়াস বিন মুওয়াওবিয়াহ সাহাবীগণের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বলেন, তাদের কাছে সবচেয়ে মর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তি ছিল, যার অন্তর সবচেয়ে বেশি বিশুদ্ধ ছিল। এ বৈশিষ্ট্য পুরুষ সাহাবীগণের মধ্যে যেমনটি ছিল, মহিলা সাহাবীগণের মধ্যেও তেমনটি ছিল।

ইফকা তথা আয়শা (রা.)-কে চারিত্রিক দোষারোপের ঘটনার সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার আরেক স্ত্রী যয়নাব (রা.)-কে আয়শা (রা.) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তার ব্যাপারে ভাল ছাড়া কিছু জানি না। (বুখারী)
লক্ষ্যণীয় যে, যয়নাব (রা.) ছিলেন আয়শার (রা.) সাথে সবচেয়ে প্রতিদ্ব›দ্বী সতীন।

হে মুসলিম সমাজ! আমাদের অতীতের সত্যপন্থী অনুসরণীয় ব্যক্তিগণের অন্তর ছিল পবিত্র, বক্ষ ছিল নির্মল। আর এ বিষয়টিকে তারা খুব বেশি গুরুত্ব দিতেন।

হোসাইন বিন আবদুল্লাহ আল-খুরাফী (রাহি.) বলেন, আমি একবার ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের সাথে রাত যাপন করেছিলাম। আমি দেখলাম যে তিনি কেঁদে কেঁদে রাত কাটালেন। সকালে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি রাতে এত বেশি কাঁদলেন কেন? তিনি বললেন, আমাকে যে আব্বাসী খলিফা আল-মু‘তাসিম মেরেছিল তা মনে পড়েছিল।

সাথে স্মরণে আসলো আল্লাহর বাণী ‘মন্দের পরিণাম ও প্রতিফল মন্দই হবে। কিন্তু যে ক্ষমা করে দেয় এবং আপস করে, আল্লাহর কাছে অবশ্যই তার যথার্থ পুরস্কার রয়েছে। আল্লাহ যালিমদের পছন্দ করেন না।’ (আশ-শূরা: ৪০)

আমি সিজদায় গেলাম, তখন অনুভব করলাম, আমাকে বলা হচ্ছে, ক্ষমাই উত্তম। তোমার কারণে যদি কোনো মুসলিমকে শাস্তি দেয়া হয় তাতে তোমার লাভ কী? বরং তুমি ক্ষমা করে দিলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন। যেমনটি আল্লাহ ওয়াদা করে বলেছেন, ‘তাদের উচিত তারা যেন ক্ষমা করে দেয়, এবং তাদের দোষত্রুু টি উপেক্ষা করে তোমরা কি চাও না যে আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (আল-নূর: ২২)

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রাহি.) বলেন, আমি শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়াহ (রাহি.)-র চেয়ে অধকতর প্রশস্ত হৃদয়ের অধিকারী কাউকে দেখিনি। এক ছাত্র তাকে তার এক শত্রু র মৃত্যুর সুসংবাদ দিল যে তাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট ও যন্ত্রণা দিয়েঠিল।

তিনি ছাত্রের ওপর রাগ করে বললেন, তুমি কি আমাকে একজন মুসলিমের মৃত্যুর সুসংবাদ দিচ্ছো? তিনি মৃত ব্যক্তির পরিবারের লোকজনের কাছে গিয়ে শোক জানালেন। তাদেরকে সান্তনা দিয়ে বললেন, এখন থেকে আমি তোমাদের জন্য তোমাদের পিতার মতো।
হে মুমনি সমাজ! ইসলামী শরীয়াহ বিভিন্নভাবে অন্তরের পবিত্রতা, বক্ষের উদারতা ও মুসলিমদের ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

এর একটি প্রকাশ ঘটেছে সালাতের সারিকে সোজা রাখার মধ্যে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা অবশ্যই সালাতের সারি সোজা রাখবে, অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের মুখগুলোকে উল্টিয়ে দিবেন।’

ইমাম নববী (রাহি.) এর ব্যাখ্যায় বলেছেন, তোমাদের মধ্যে শত্রু তা ও বিদ্বেষ ঢেলে দিবেন। তোমাদের অন্তরগুলোতে ছড়িয়ে দিবেন বিরোধ ও বিভক্তি।

তিনি আরো বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি তার ভাইয়ের ক্রয়-বিক্রয়েল ওপর ক্রয়-বিক্রয় করবে না। তার ভাইয়ের বিয়ের প্রস্তাবের ওপর প্রস্তাব দিবে না।’ (মুসলিম) এসব নির্দেশনা উদ্দেশ্য অন্তরকে ক্ষোভ-বিদ্বেষ থেকে পবিত্র ও মুক্ত রাখা।

হে আল্লাহর বান্দাহণ! অন্তরের পবিত্রতা ও নির্মলতা ছাড়া আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা অর্জন করা যাবে না। তাই অন্তরকে বিশুদ্ধ রাখুন, আপনার অপরাধ ক্ষমা করা হবে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোম ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, আল্লাহ তার এমন প্রত্যেক বান্দাকে ক্ষমা করে দেন যে র্শ্কি করে না। তবে যে দু’জনের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ রয়েছে তাদের ব্যাপারে ফেরেশতাদেরকে বলা হবে এ দু’জনের ক্ষেত্রে অপেক্ষা করো যতক্ষণ না তারা সমঝোতা করে। (মুসলিম)

হে আল্লাহর বান্দাগণ! অন্তরের পরিশুদ্ধি আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ নেয়ামত ও অনুগ্রহ। এ ধরনের অন্তরের লোকদের সমন্বয়ে এমন এমন সমাজ গড়ে ওঠে, যাকে প্রবল ঝড়ও টলাতে পারে না। কোনো বিপর্যয়-বিশৃঙ্খলা তাতে প্রভাব ফেলতে পারে না। বরং এ ধরনের সমাজ বিজয় ও দৃঢ়তা অর্জন করে।

আল্লাহ বলেন, ‘তিনি তার সাহায্য ও মুমিনদের দ্বারা তোমাকে শক্তি যুগিয়েছেন। তিনি তাদের অন্তরসমূহের মাধে পারস্পরিক ভালবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধন স্থাপন করে দিয়েছেন।। মুমিনদের অন্তরের বন্ধন বিজয়ের একটি কারণ। হে ইসলামী উম্মাহ! পরিশুদ্ধ নির্মল লোকেরা এমন মর্যাদয় পৌঁছে যে, মর্যাদায় রোযাদার ও রাতে সালাত আদায়কারীরা পৌঁছতে পারে না।

আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মাঝে এখন এমন একজন লোকের আগমন ঘটবে যে জান্নাতবাসী। এমন সময় একজন আনসারী আসলেন যার দাড়ি থেকে ওযুর পানি টপকে পড়ছিল। এ কথাটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর পর তিন দিন বলেছিলেন। ব্যাপারটি ঘটেছিল একই ব্যক্তির ক্ষেত্রে। আবদুল্লাহ বিন আমর (রা.) তার ব্যাপারে জানার আগ্রহে তার বাড়িতে তিন রাত কাটালেন।

তিনি তাকে বেশি সালাত আদায় করতে দেখলেন না। এ তিন দিনি রোযা রাখতেও দেখলেন না। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কী আমল করো? সে বললো. তুমি যা দেখেছো।, এর বাইরে আমি কোনো আমল করি না। তবে আমার অন্তরে কোনো মুসলিমের ব্যাপারে কোনো হিংসা নেই। কোনো বিদ্বেষ নেই। তখন আবদুল্লাহ বিন আমর (রা.) বললেন, এর মাধ্যমেই তুমি এ মর্যাদায় পৌঁছেছো।’ (আহমাদ)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হলো কোন লোকটি সবচেয়ে মর্যাদা সম্পন্ন? তিনি বললেন, ‘যার অন্তর পরিচ্ছন্ন যাতে কোনো প্রতারণা, হিংসা-বিদ্বেষ নেই। আর যার জিহবা সত্যবাদী।’ (ইবনু মাজাহ)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘জান্নাতে প্রথম যে দলটি প্রবেশ করবে, তাদের মুখণ্ডল হবে পূর্ণিমা রজনীর চাঁদের মতো, তারা ঐসব লোক যাদের অন্তরগুলো এক লোকের অন্তরের মতো। যাতে কোনো হিংসা-বিদ্বেষ নেই। (বুখারী)

হে আল্লাহর বান্দাগণ! অন্তরের পরিশদ্ধি ও নির্মলতা ছাড়া কিয়ামতের দিবসে মুক্তি লাভ করা যাবে না। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, ‘সেদিন ধন-সম্পদ কাজে লাগবে না। কল্যাণে আসবে না সন্তান-সন্তুতি। অবশ্য যে আল্লাহর কাছে আসবে বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে।’
(আশ-শূরা: ৮৮)

আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতন.....

দ্বিতীয় খুতবা: আল্লাহর বেশি বেশি প্রশংসা করছি। তার প্রশংসা পবিত্র ও বরকতময়। হে মুসলিম সমাজ! অন্তরের পরিশুদ্ধতা ও নির্মলতা কল্যাণকর গুণাবলীর একটি। তাই প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য হলো অন্তরের প্রশস্ততা ও নির্মলতাকে গুরুত্ব দেয়া বিশেষ করে এমন এক সময়ে যখন আমরা সিয়ামের মাস রামাদানকে স্বাগত জানাতে যাচ্ছি।

সিয়াম রোযা অন্তরকে সকল অকল্যাণ ও মন্দ থেকে মুক্ত করে ক্ষমা ও ভুল-ত্রু টি এড়িয়ে যাওয়ার মাধ্যমে পবিত্র করার একটি কার্যকর মাধ্যম।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘রামাদান হলো সবর ও সংযমের মাস। আর প্রতি মাসের তিন দিনের রোযা হলো পুরো মাস জুড়ে রোযা। রোযা মনকে শয়তান সৃষ্ট মনের কালিমা থেকে মুক্ত রাখে।’

অন্তরের পবিত্রতা ও নির্মলতার আরেকটি মাধ্যম হলো আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠতা।
আরেকটি মাধ্যম হলো আল্লাহর কিতাব তথা কুরআনের প্রতি মনোনিবেশ করা তিলাওয়াত ও মুখস্ত করা। সর্বোপরি কুরআন শিখে, অধ্যয়ন করে ও যথাযথ অনধাবন করে। যে যত কুরআনের প্রতি ঝুঁকবে, আল্লাহ তার অন্তরকে তত বেশি পরিশুদ্ধ করবেন।

আল্লাহ বলেন, ‘হে মানুষ! তোমাদের কাছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে। এতে রয়েছে মানুষের অন্তরের ব্যাধির নিরাময়, মুমিনদের জন্য হেদায়াত ও রহমাত।’ (ইউনুস: ৫৭)

আল্লাহ আমাদের আদেশ করে বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও ফেরেশতাগণ নবীর ওপর সালাত করেন। হে ঈমানদারগণ, তোমরাও তাঁর প্রতি সালাত ও সালাম পেশ করো।’
হে আল্লাহ! খোলাফায়ে রাশেদীন আবু বাকর, উমার, উসমান, আলী, সকল সাহাবী, তাবেঈ, তাবে’ তাবেঈ এবং নিষ্ঠার সাথে কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাদের অনুসরণ করবে তাদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হও তোমার ক্ষমা, দয়া ও বদান্যতা দিয়ে। সাথে আমাদের ওপরও সন্তুষ্ট হও।

হে আল্লাহ! ইসলাম ও মুসলিমদের হেফাজত কর। র্শিক ও মুশরিকদের অপমানিত কর। এই দেশকে ও মুসলমানদের সকল দেশকে নিরাপদ কর। হে আল্লাহ! মুসলিমদের মধ্যে যারা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত, তাদের দুশ্চিন্তা দ‚র করে দাও। বিপদগ্রস্তদের বিপদ দুর করে দাও। ঋণগ্রস্তদের ঋণ থেকে মুক্ত করে দাও। রোগাক্রান্ত মুসলিমদের আরোগ্য দাও।

আল্লাহ! সকল স্থানের মুসলমানদের অবস্থা ভাল করে দাও। আল্লাহ! মুসলিম দায়িত্বশীলদের তুমি যা ভাল চাও তা করার তাওফীক দাও। হে আল্লাহ! যারা আমাদের অকল্যাণ করতে চায়, তুমি তাদের চক্রান্তকে নস্যাত করে দাও। তোমাকে আমরা তাদের ঘাড়ে চাপালাম। তাদের অনিষ্ট থেকে তোমার আশ্রয় চাই।

খতিব: শাইখ মাহির আল-মু‘আইকালি
অনুবাদ: অধ্যাপক আ.ন.ম. রশীদ আহমাদ

 

ঢাকা, ১৪ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।