ভারতের মাওলানা সাদকে নিয়ে তোলপাড়


Published: 2018-01-10 18:14:38 BdST, Updated: 2018-07-22 10:49:05 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: ভারতের মাওলানা সাদকে নিয়ে খোদ তাবলিগীদের মধ্যে হৈচৈ লেগেছে।
এর নেপথ্যে রয়েছে নানান কারণে। কেবল তার বক্তব্য নয় এর বাইরেও বিভিন্ন কারণে থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই। স্বচ্ছতার কারণে তাবলিগীদের আয় ব্যয়ের খতিয়ান দেখা উচিত। তদন্ত করলেও বের হবে নানান কাহিনী।

এদিকে তাবলিগ জামাত ভারতের মুরুব্বি মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভীকে কাকরাইল মসজিদের তাবলিগ জামাতের মারকাজে নেয়া হয়েছে। কওমীপন্থী আলেম ও তাবলিগ জামাতের একাংশের বিরোধীতায় তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দীর্ঘসময় অবরুদ্ধ ছিলেন।

পরে পুলিশ পাহারায় আজ বুধবার বিকালে তাকে কাকরাইল আনা হয়। এ বিষয়ে পুলিশের রমনা জোনের ডিসি মারুফ হোসেন সরদার জানান, মাওলানা মোহাম্মদ সাদকে বিমানবন্দর থেকে কাকরাইল মসজিদে আনা হয়েছে।

এ মুহূর্তে তাকে ইজতেমা মাঠে নেয়া হবে না। এর আগে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ব্যাংকক থেকে বিমানবন্দরে পৌঁছান মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভি।

বিমানবন্দর থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক মোস্তাফিজ জানান, মাওলানা সা'দ বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে যাবেন না এই শর্তে বিকাল সাড়ে চারটায় বিমানবন্দরের আন্দোলন মূলতবি করা হয়েছে। তিনি কাকরাইলে অবস্থান করবেন।

ঢাকার মহাখালী থেকে উত্তরায় অবস্থান করা মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে এবং মহাখালী থেকে কাকরাইলে অবস্থান নেয়া মুসল্লিরা কাকরাইলে ফিরে যাবেন বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশে প্রবেশ না করে তাকে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার দাবিতে বিমানবন্দর চত্বরে বুধবার সকাল থেকে বিক্ষোভ করেন তবলিগের একাংশের সমর্থক মুসল্লিরা। ৩ ঘণ্টা ধরে চলা বিক্ষোভকে কেন্দ্র কের বিমানবন্দরের সামনের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দুপাশে ২০কিলোমিটারব্যাপী যানজট তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শাহজালালে পৌঁছান মাওলানা সাদ। তাকে স্বাগত জানানোর জন্য ঢাকার কাকরাইলের মুরুব্বি প্রকৌশলী সৈয়্দ ওয়াসিফুল ইসলামের নেতৃত্বে তবলিগ জামাতের আরেক অংশের সমর্থকরা অবস্থান করছেন।

মাওলানা সাদবিরোধীরা তাকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না ঘোষণা দিয়ে দুপুর ১২টা থেকেই বিমানবন্দর চত্বরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন।

বিমানবন্দর থানার ওসি নূরে আযম সিদ্দিকী জানান, মুসল্লিরা বিমানবন্দর চত্বরে অবস্থান নেয়ায় প্রধান সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা বলছেন, এবারের ইজতেমায় মাওলানা সাদের অংশ নেয়ার বিষয়ে তারা আগে থেকেই বিরোধিতা করে আসছেন। এ মোতাবেক তাদের আশ্বাসও দেয়া হয়েছিল যে, মাওলানা সাদ এবার আসছেন না। কিন্তু বর্তমানে উল্টোটাই জানতে পেরেছেন। এ কারণে তারা রাস্তা অবরোধ করে রেখেছেন।

আন্দোলনকারীরা জানান, ইতিমধ্যে মাওলানা সাদ বিমানবন্দরের ভেতরে অবস্থান করছেন। কিন্তু তাকে বিমানবন্দরের ভেতর থেকে বাইরে আসতে দেয়া হবে না। তাকে ভারতে ফিরে যেতে হবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তবলিগ একাংশের বিক্ষোভের ফলে রাজধানীর ব্যস্ততম ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়েছে। হোটেল রেডিসন থেকে উত্তরা হয়ে আবদুল্লাহপুর ছাড়িয়েছে এই যানজট।

উল্লেখ্য, মাওলানা সাদ ‘তবলিগ করা ছাড়া কেউ বেহেশতে যেতে পারবে না’ বলে বক্তব্য দেয়ায় তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসা।

সেখান থেকে মাওলানা সাদকে এ বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু তিনি উল্টো যুক্তি দেন। এ নিয়ে মাওলানা সাদের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

একপর্যায়ে দেওবন্দ মাদ্রাসার অনুসারী বাংলাদেশের আলেমরা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তারা তাকে টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমায় আসতে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তবলিগ জামাতের বাংলাদেশ শাখার ১১ শূরা সদস্যের মধ্যে ছয়জনই আলেমদের এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন।

এর পর গত ৬ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে আলেমরা সাক্ষাৎ করে মাওলানা সাদের ঢাকা সফরের ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবি জানান।

এর পর দিন যাত্রাবাড়ীর জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়ায় মাওলানা সাদকে নিয়ে বৈঠকে বসেন তবলিগ জামাতের মুরুব্বি ও কওমি আলেমদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি। এতে বাংলাদেশ তবলিগের শূরা সদস্য ও উপদেষ্টারাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উপস্থিত ২১ জনের মধ্যে ১৩ জন ইজতেমায় মাওলানা সাদের উপস্থিত না থাকার পক্ষে মত দেন।

তারা হলেন- বেফাকের সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা আশরাফ আলী, জামিয়া মাদানিয়া বারিধারার মুহাদ্দিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, তবলিগের শূরা সদস্য মাওলানা মোহাম্মাদ যোবায়ের, মাওলানা মুহাম্মাদ হোসাইন ও মাওলানা ফারুক, বেফাকের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দুস।

হাটহাজারী মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষা সচিব মাওলানা আনাস মাদানী, তবলিগের শূরা সদস্য মাওলানা উমর ফারুক ও মাওলানা রবীউল হক, শাইখ জাকারিয়া, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক মাওলানা মিজানুর রহমান সাঈদ, হাটহাজারীর মুফতি কেফায়াতুল্লাহ, মাওলানা মুফতি মোহাম্মাদ আলী (আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদের প্রতিনিধি), ভারত সফরকারী প্রতিনিধি দলের সদস্য জামিয়া রাহমানিয়ার প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহফুজুল হক।

তবে এ বৈঠকের পর দিন ৮ জানুয়ারি ঢাকার কাকরাইলের মুরুব্বি প্রকৌশলী সৈয়্দ ওয়াসিফুল ইসলাম বিশ্ব ইজতেমায় মাওলানা সাদকে আনতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেন।

গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এ বছর ১২ জানুয়ারি ও ১৯ জানুয়ারি দুই দফায় বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দফায় ১৪ জানুয়ারি ও দ্বিতীয় দফায় ২১ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।

 

ঢাকা, ১০ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।