বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার নায়ক এখন মুহাম্মাদ আমির (ভিডিও)


Published: 2018-01-02 21:19:25 BdST, Updated: 2018-01-20 20:38:11 BdST

লাইভ ডেস্ক: বদলে গেলেন বলবীর সিংহ। নিজের সবকিছু ছাপিয়ে তিনি এখন একা। তার পথচলা একেবারেই সাধামাটা। বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার প্রধান নায়ক থাকলেও তাকে আর ঐ মানসিকতা স্পর্শ করে না। সেই অনুসূচনা থেকেই তার বদলে যাওয়ার পালা শুরু হয়। শিবসেনাদের এক সময়কার ডান হাত বলে খ্যাত সেই বলবীর সংসার ছেড়েছেন।

হারিয়েছেন বাবাকেও। স্ত্রী সন্তানতো একেবারেই বহু দূরে। তিনি আর পূজোমন্ডপে যান না। সেই নেশা তাকে আর টানে না। একেবারেই তিনি নিজেকে বদলে দিয়ে নাম রেখেছেন মুহাম্মাদ আমির। তিনি এখন পুরোপুরিই মুসলমান। সিদ্ধান্ত নেন প্রায়শ্চিত্ত করবেন। সোনেপতে গিয়ে মাওলানা কালিম সিদ্দিকির কাছে ইসলাম ধর্মে দীক্ষা নেন বলবীর। ‘রত্নাকর’ থেকে হয়ে ওঠেন মুহাম্মাদ আমির। শুধু বলবীর সিংহ নয়, তার প্রিয় বন্ধু যোগেন্দ্রও একই ভাবে পাল্টে গেলেন। তিনিও সেই মসজিদ ভাঙ্গার অনুসূচনা থেকে মুক্তির নেশায় ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিম হয়েছেন। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঝোঁকের বশেই ২৫ বছর আগে হাতে শাবল তুলে নিয়েছিলেন। বাবরি মসজিদের মাথায় উঠে ঘা দিয়েছিলেন বলবীর সিংহ। সঙ্গে বন্ধু যোগেন্দ্র। আর পিছনে ছিল শিবসেনার মন্ত্রণা।

সেই পাপবোধ তাড়া করে ফিরছিলো বলবীরকে। বাকি জীবন বাড়ি থেকে দূরে স্বজনহীন কেটে গিয়েছে তাঁর। কিন্তু আজকের সেই মানুষটাকে দেখলে চিনতে অসুবিধে হয়। তিনি এখন শশ্রুমন্ডিত এক পাক্কা মুসলিম।

নাম বদলে এক ঐতিহাসিক ব্যক্তির নামে নাম রেখেছেন। বলবীর সিংহ এখন মুহাম্মাদ আমির। প্রায়শ্চিত্ত করতেই ধর্ম বদলান তিনি। এক দিন যে বলবীর ঝোঁকের মাথায় বাবরির চুড়ো থেকে ইট খসিয়েছিলেন, আজ তিনিই নিষ্ঠাবান মুসলমান। লম্বা দাড়ি। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। শুধু ধর্মই নয়, বদলেছে আমিরের জীবনের মানেও। এখন একটাই চাওয়া, ভেঙে পড়া শ’খানেক মসজিদ সারাবেন আমির।

কে ওই বলবীর: জানা গেছে, ঐ বলবীর ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইংরেজি, তিনটি বিষয়ে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। সাধারণ পরিবারে বড় হন। উগ্র হিন্দুবাদ তো দূরের, বলবীরের বাবা দৌলতরাম ছিলেন গাঁধীবাদী। স্কুলে পড়াতেন। দেশভাগের যন্ত্রণাকে দেখেছেন তিনি। মুসলিম প্রতিবেশীদেরকে চিরকাল আগলে রাখতে চাইতেন দৌলতরাম। মূর্তি পুজোতেও বিশ্বাস করতেন না। বলবীরের যখন ১০ বছর বয়স, সবাই মিলে পানিপথে চলে আসেন তাঁরা। 

দোষ ছিল বোধহয় পানিপথের জলহাওয়াতেই। বলবীর জানান, হরিয়ানার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে আসা মানুষেরা বিশেষ মর্যাদা পেতেন না পানিপথে। এমন কী কেউ বাঁ হাতে রুটি খেলেও তাঁকে ‘মুসলিম’ বলে হেয় করা হত। এমন হাজার জিনিস তাড়িয়ে বেড়াত বলবীরকে। সে সময় কয়েক জন আরএসএস কর্মীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হয়।

‘আপনি’ ‘আপনি’ করে কথা বলতেন তাঁরা। ওই একটু সম্মানের মোহতেই তাঁদের সঙ্গে জড়িয়ে যান বলবীর। শিবসেনা করতে করতেই বিয়ে। পাশ করেন রোহতকের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। আরএসএসের সঙ্গে নিয়মিত ওঠাবসার কারণে প্রতিবেশীরা তাঁকে কট্টর হিন্দুবাদী বলে ভাবতে শুরু করেছিলেন। অথচ বলবীরের কথায়, ‘‘কখনও মন্দিরেও যেতাম না। বাড়িতে গীতা ছিল, তবে সেটা কখনও ছুঁয়েও দেখিনি আমরা।’’

তত দিনে তাঁর মগজধোলাই হয়ে গিয়েছে। ১৯৯২ সালে শিবসেনা তাঁকে অযোধ্যায় পাঠায় বাবরি মসজিদ ভাঙতে। আশপাশের বন্ধুরাও উস্কানি দিয়েছিল। বলেছিল ‘‘কুচ করে বিনা ওয়াপাস না আনা (কিছু না করে ফিরবে না)।’’ বাবরি ভেঙে পানিপথে ফেরার পরে শিবসেনার তরফে তাঁদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। শিবসেনার স্থানীয় অফিসে রাখা হয় বাবরির মাথা থেকে ভেঙে আনা ইট দু’টিও।

কিন্তু বাড়ির দরজা তাঁর জন্য বন্ধ হয়ে যায় চিরতরে। রত্নাকরের পাপের ভাগ নেননি তাঁর স্ত্রী। বলবীরের পাপের ভাগও তাঁর স্ত্রী নিলেন না। পানিপথের বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে এলেন বলবীর। স্ত্রী থেকে গেলেন তাঁর বাবার বাড়িতেই।

সেই শুরু বলবীরের ভবঘুরে জীবনের। এরই মধ্যে খবর আসে বাবা মারা গিয়েছেন। ছেলের হাতে বাবরি ধ্বংস হওয়ার দুঃখ সহ্য করতে পারেননি বাবা দৌলতরাম। তাঁর কথায়, ‘‘পশুর মতো জীবন কাটছিল। চোখ বন্ধ করলেই কান্না শুনতে পেতাম। তাড়া করে ফিরত ওই শাবলের ঘা।’’

 

মালেগাঁওয়ে একটি জনসমাবেশে এসে সেই গল্পই শোনালেন আমির। জানালেন, ১৯৯৩ থেকে ২০১৭, এই ২৪ বছরে উত্তরভারতের মেওয়াত-সহ বিভিন্ন জায়গায় বেশ কিছু ভেঙে পড়া মসজিদ খুঁজে বের করে সেগুলির মেরামত করেছেন তিনি। উত্তরপ্রদেশের হাথরাসের কাছে ভেঙে পড়া মেন্ডুর মসজিদও সারলেন আমির। সেই কাজে তাঁর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন তাঁর মুসলিম ভাইয়েরা।

তার মুসলমান হওয়ার খবর এখন বিভিন্ন গণমাধ্যমসহ সামাজিক গণমাধ্যামেও তোলপাড় চলছে। সারা দুনিয়ায় বলরামের নতুন নামের প্রশংসা আর সুনামের যেন কমতি নেই। রীতিমত গল্প আকারেই শুনছেন মুসলিম এমন কি অমুসলিমরাও।

ভিডিও: 

 

ঢাকা, ২ জানুয়ারী (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এইচটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।