হাবিপ্রবিতে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শিক্ষকদের কান্না, জাতির লজ্জা!


Published: 2017-11-21 13:58:32 BdST, Updated: 2017-12-14 04:19:15 BdST

মন্তব্য প্রতিবেদন : হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযদ্ধের স্বপক্ষের শিক্ষকদের ওপর হামলা হয়েছে। তদের অপরাধ ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদ করা। গেইট আটকে নির্মমভাবে তাদের পেটানো হয়েছে।

মানুষ গড়ার ওই কারিগরদের পিটিয়েছে ছাত্র নামধারী কিছু সন্ত্রাসী। তার মানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-ছাত্রের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। ছাত্রদের ব্যবহার করা হচ্ছে ব্যক্তিস্বার্থে। এতে ছাত্রদের কী লাভ হচ্ছে সেটা বোঝা না গেলেও প্রতীয়মান হয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মান নেই শিক্ষকদের। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শিক্ষক হয়েও তারা লাঞ্ছিত হয়েছেন চরমভাবে। শিক্ষকদের কান্না দেখেই তা বোঝা যাচ্ছে।

এই ঘটনার মধ্য দিয়ে হাবিপ্রবিতে একটি কালো অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। লজ্জিত হয়েছে শিক্ষক সমাজ, লজ্জিত হয়েছে সচেতন ছাত্র সমাজ। লজ্জিত আমরা পুরো দেশ ও জাতি।

ন্যাক্কারজনক ওই ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনার দাবি করছি। নয়তো ছাত্র-শিক্ষকদের মধুর সম্পর্কটা হয়তো অন্যদিকে মোড় নেবে।

বজায় থাকুক শান্তি, শান্ত থাকুক ক্যাম্পাস। জেগে থাকুক মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি। ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক থাকবে অমালিন, এই প্রত্যাশায়...

যেভাবে হামলা হয়েছে : হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) প্রগতিশীল শিক্ষকদের হাতে অবরুদ্ধ ভিসিকে অনেকটা ফিল্মি স্টাইলে মুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষকদের অবস্থান ধর্মঘটের মুখে ওই ভিসি দীর্ঘ ৪ ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকেন। ভিসি সমর্থিত ছাত্রদের একটি অংশ শিক্ষকদের ওপর হামলা চালিয়ে ভিসিকে মুক্ত করে নিয়ে যান। এসময় শিক্ষার্থীরা জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে এলাকা মুখরিত করে রাখেন। তারা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। শিক্ষার্থীরা রাতের আঁধারে গেইট আটকে শিক্ষকদের মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার রাতে হাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে ভিসি কার্যালয়ে এমন ভয়ংকর ঘটনা ঘটে। এসময় আহত হয়েছেন অন্তত ৬ শিক্ষক। এনিয়ে ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আহত শিক্ষকরা হলেন- হাবিপ্রবি প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের শাজদীক আহমেদ, হাফিজ আল আমীন পলাশম হাসান। জামিল, মাসুদ ইবনে আফজাল, আতিকুল হক ও রুবাইয়াত হাসান।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ডা. এসএম হারুন উর রশিদকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ও পরামর্শ বিভাগের পরিচালক পদ থেকে অপসারন করে ওই পদে প্রফেসর ড. শাহাদৎ হোসেন খানকে দায়িত্ব দেয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে বিকেল ৪টায় প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের শিক্ষকরা ভিসির কক্ষের মেঝেতে বসে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন। এতে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মু. আবুল কাশেম।

টানা ৪ ঘন্টা এই অবস্থা চলার পর রাত পৌনে ৮টার দিকে ভিসির সমর্থনপুষ্ট ছাত্ররা জয়বাংলা শ্লোগান দিয়ে তার কার্যালয়ে প্রবেশ করে। এসময় পরিকল্পিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই কার্যালয়ের সব গেট বন্ধ করে দেয়া হয়। ছাত্ররা ভিসির কক্ষে অবস্থানরত প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের শিক্ষকদের উপর হামলা চালায় এবং উদ্ধার করে তার বাসবভনে নিয়ে যায়।


ঢাকা, ২১ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।