স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নেয়ার দাবি হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের


Published: 2020-09-03 23:56:08 BdST, Updated: 2020-10-30 19:33:44 BdST

হাবিপ্রবি লাইভ: করোনা সংক্রমণ ও বিস্তাররোধে গত ১৭ মার্চ হতে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ন্যায় বন্ধ রয়েছে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)। হঠাৎ করে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সকল বিভাগের ছাত্র-ছাত্রী।

বিশেষ করে এই দূর্ভোগ বাড়িয়েছে অনার্স ও মাস্টার্স শেষবর্ষের পরীক্ষা চলা শিক্ষার্থীদের। করোনা না আসলে অনেকেই হয়তো পরীক্ষা শেষ করে এতদিনে বিভিন্ন চাকরিতে ঢুকে যেতে পারতেন। পরিবারের মানসিক চাপ কমাতে কিংবা আর্থিক সহযোগিতাও দিতে পারতেন। কিন্ত; প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারনে সেই স্বপ্ন থমকে গেছে অনেকেরই।

দীর্ঘ ৬ মাস ধরে একটানা ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় বাসায় থেকে অনেকেই বিরক্ত বোধ করতে শুরু করেছেন।প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে ক্যাম্পাসে গিয়েও ঘুরে আসছেন অনেকেই। তবে, করোনা ভাইরাসের দীর্ঘতা বুঝতে পেরে সরকার ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণ পরিবহণ ও মার্কেট চালু করার অনুমতি দিলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আগামী ৩ ই অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ রাখতে নির্দেশনা দিয়েছেন।

এ সময় একাডেমিক কার্যক্রম না চললেও প্রায় সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান এর মধ্যেই নিয়োগ প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করেছেন। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত যেসব বিভাগ পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারেনি স্বাস্থ্যবিধি মেনে সেসব বিভাগের পরীক্ষা শেষ করতে নোটিশ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

একই ভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অসমাপ্ত পরীক্ষা গুলো সম্পন্ন করনের দাবি জানিয়েছেন দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ তম ব্যাচের ইংরেজি বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীবৃন্দ। একই দাবি অন্যান্য অনুষদীয় শিক্ষার্থীদের।

ইংরেজি বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত সবুজ হাসান নামের এক শিক্ষার্থী জানান, আমাদের মাস্টার্স প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষা ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে শেষ করি। ফাইনাল সেমিস্টারের পরীক্ষা ২০২০ সালে মার্চ মাসে শুরু হয় এবং তিনটি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছিল। করোনা ভাইরাসের কারণে বাকী তিনটি পরীক্ষা এবং ভাইবা আটকে যায়।

এর মধ্যেই আমরা আরেকটি সমস্যার সম্মুখীন হই যেটা হচ্ছে আমাদের স্টুডেন্ট আইডি তে আমাদের ব্রেক অফ স্টাডি দেখানো হয় যেহেতু অনার্সের সার্টিফিকেট অনুযায়ী আমরা ২০১৭ সালে আমাদের অনার্স শেষ করেছি সে অনুযায়ী ২০১৮ সালে আমাদের মাস্টার শুরু হওয়ার কথা কিন্তু প্রশাসনের ভুলের কারণে আমাদের মাস্টার্স ২০১৯ সাল দেখানো হয়।

ইতিমধ্যে বিষয়টি একাডেমিক কাউন্সিলে সংশোধনের জন্য পাস হলেও গত ছয় মাসে আইডি সংশোধনের কোনো অগ্রগতি হয়নি। প্রায় এক বছর সময় পার হওয়ার পরেও মাস্টার্স প্রথম সেমিস্টারের রেজাল্ট প্রকাশ না হওয়া। দ্বিতীয় সেমিস্টারের অবশিষ্ট তিনটি পরীক্ষা আটকে থাকায় বিভিন্ন চাকরি বা নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছি না। ফলে চরম হতাশায় দিন কাটাতে হচ্ছে। প্রশাসনেরে কাছে অনুরোধ থাকবে স্বাস্থ্য বিধি মেনে ঢাকাসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যায় আমাদের অসমাপ্ত পরীক্ষা গুলো দ্রুত সমাপ্ত করনের ব্যবস্থা করা।

এ বিষয়ে সোস্যাল সায়েন্স এন্ড হিউম্যানিটিস অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মো: নওশের ওয়ান জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে অসমাপ্ত পরীক্ষা গুলো নেয়ার অনুমতি দিয়েছে এমন একটি নিউজ দেখেছি।

এসময় তিনি আরো বলেন, আমার জানামতে, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এরকম কোন সিন্ধান্ত হয়নি তবে একাডেমিক কাউন্সিলে লিখিত পরীক্ষা সমূহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নেয়ার কথা বলেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নেয়ার বিষয়টি আমি রেজিস্ট্রার ও ভিসি স্যারকে জানাবো এবং ডিপার্টমেন্টের অন্যান্য শিক্ষকদের সাথে আলোচনার চেষ্টা করবো। সকলের সম্মতি পেলে আমরা অসমাপ্ত পরীক্ষা গুলো সম্পন্নের চেষ্টা করবো। তবে যেহেতু আবাসিক হল খুলতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে সেই বিষয়টিও আমাদের দেখতে হবে।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ডা. মো: ফজলুল হক (মুক্তিযোদ্ধা) জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যে উদ্যোগ নিয়েছে সেটি যদি ফলপ্রসূ হয় এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও যদি নিতে পারে তাহলে আমাদের নিতে কোন সমস্যা নাই। ইউজিসি ও ভিসি স্যারের অনুমতি পেলে আমরাও অসমাপ্ত পরীক্ষা গুলো নেয়া শুরু করতে পারবো। আমিও চাই, সময়ের মধ্যে সার্টিফিকেট নিয়ে ছাত্ররা যেন তাদের স্ব-স্ব কর্মক্ষেত্রে কাজে লাগাতে পারে।


ঢাকা, ০৩ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।