কেমন আছেন হাবিপ্রবি, বুয়েট, ঢাবি, শাবি, চবি, বেরোবি, সিকৃবি ও বিডিই্উ এর শিক্ষার্থীরা... করোনার ছোবল: কেমন সময় কাটছে ৮ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের...


Published: 2020-06-26 19:39:43 BdST, Updated: 2020-07-05 19:24:22 BdST

মোঃ আবু সাহেব, হাবিপ্রবি: বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশেও সংক্রমনের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। চিকিৎসক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেনি পেশার মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। আর সেই মহামারীর ভয়ানক সংক্রমন থেকে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক ১৭ মার্চ থেকে ৬ ই আগস্ট পর্যন্ত কয়েক ধাপে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তার ব্যতিক্রম নয় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। করোনা পরিস্থিতিতে কেমন কাটছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ঘরবন্দী এই অবসর সময়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা অঙ্গন থেকে বর্তমান ঘরবন্দী জীবনের অবসর সময় কাটানোর অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন ক্যাম্পাসলাইভের কাছে কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। তারা তাদের নানান অসুবিধা, সমস্যা ও লক ডাউনের কথা বলেছেন মনখুলে। তাই তুলে ধরা হলো।

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: বিশ্ববিদ্যালয় চলাকালীন বেশ ব্যস্ত সময় কাটানোর এক ব্যতিক্রমধর্মী অনুভূতি জানিয়ে দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোঃ আব্দুল মান্নান জানান, ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত থাকায় নিউজ সংগ্রহের জন্য ব্যস্ত থাকতে হতো প্রতিদিন, কিন্তু বর্তমানে করোনার এই মহামারী পরিস্থিতির কারনে বাসায় গৃহবন্দী জীবন পার করছি। আগের মতো নিউজের জন্য ছুটে চলা, রিপোর্টের জন্য কথা বলা, ছবি তোলা আর হয় না। করোনায় তিনমাস ধরে গৃহবন্দী জীবনে অনেকটা বিরক্তি চলে এসেছে। অনার্স শেষ করেছি, মাস্টার্সের ডিফেন্স আর থিসিস জমা করলেই শেষ। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের কারনে সেটিও হচ্ছে না। অন্যদিকে কোথাও চাকরিতে ঢুকবো সেই অবস্থাটাও দেশে নেই এখন। সব মিলিয়ে একটা হ-য-ব-র-ল সময় কেটে যাচ্ছে। কবে পৃথিবীটা সুস্থ হবে আর মুক্ত বিহঙ্গের মতো দিগ্বিদিক ছুটে চলতে পারবো এই অপেক্ষাতেই আছি। দ্রুত পৃথিবীটা সুস্থ হয়ে উঠুক, জীবন যাত্রা স্বাভাবিক হয়ে উঠুক এই কামনা করি।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়: ক্যাম্পাসের ব্যস্তময় জীবনকে খুবই মনে পড়ার এক অনুভূতি জানান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের(বুয়েট) শিক্ষার্থী এমদাদুল হক মিলন। তিনি জানান, প্রায় ৩ মাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস বন্ধ থাকায় প্রায় ঘরবন্দী জীবন অতিবাহিত হচ্ছে। করোনাকালীন এই অবসর সময়টা তাই বাসায়ই কাটছে বাবা মায়ের সাথে। এই প্রথম এতটা দীর্ঘ সময় বাসায় কাটাচ্ছি এবং বেশিরভাগ সময়ই ফোন অথবা ল্যাপটপের স্ক্রীনেই কাটে। বন্ধুদের সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশি যোগাযোগ হচ্ছে। এছাড়াও এখন অনলাইনে কিছু মজার মজার কোর্স করছি। এই অনলাইন ভিত্তিক মজার কোর্সগুলো কিছুটা হলেও মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। করোনাময় বিশ্ব যেন খুব শীঘ্রই তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে পায় সেই প্রত্যাশা করি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: কেবল সচেতনার মাধ্যমে এ মহামারী পরিস্থিতি থেকে বাঁচার উপায় দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাবিবুল্লাহ মুন্না। তিনি জানান, এই সংকটময় মুহুর্তে সচেতনতা ছাড়া কোনো বিকল্প পথ নেই। যে সময়টাই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা ছিল সেই সময়ে আমাদের নিজ বাসায় অবস্থান করে নানা রকম আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে। করোনা ভাইরাস সংক্রামনের জন্য দীর্ঘ দিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় আমাদের সেশনজট নামক অভিশাপের আশঙ্কায় থাকতে হচ্ছে। আতঙ্ক থেকে বাঁচতে নিজের পরিবারের কোন সদস্য বা কোন সহপাঠী আক্রান্ত যাতে না হয় সে বিষয়ে খুব সচেতন থাকতে হচ্ছে।

প্রতিদিন আক্রান্ত এর সংখ্যা যেভাবে ভেরেই চলেছে এ অবস্থায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব ও নয়।তাই বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ কালীন এ সময়ে বাসায় থেকে নানা রকম আতঙ্কের মধ্যে সময় অতিবাহিত করছি। মোবাইলে গেম খেলা বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সহপাঠীদের সাথে ভার্চুয়াল সাক্ষাৎ করছি।আশা করি খুব শীঘ্রই এই পরিস্থিতি থেকে দেশ তথা বিশ্ব তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে ইনশাআল্লাহ।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া জানিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোঃ মিরাজ হোসেন জানান, পরিবারেরর সবাই একসাথে সুস্থ আছি। করোনার এই মহামারীতে পরিবারকে সময় দিতে পারছি, বাবা মায়ের কাজে সাহায্য করতে পারছি, নিজে কিছু শাকসবজি চাষাবাদ করছি এইসব নিয়েই মহান আল্লাহ ভালোই রেখেছেন। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি অতি দ্রুত এই অসুস্থ পৃথিবী সুস্থ হয়ে উঠুক এবং আমরা আমাদের স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাই।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: পড়ালেখা থেকে দূরে থাকাটা যেমন মজার আবার তেমন কষ্টেরও এমন এক ব্যতিক্রমধর্মী অনুভূতি জানান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ওয়াহিদা প্রান্তি। তিনি জানান, লকডাউনে পরে আছি আজ প্রায় তিন মাস। প্রথম ১ মাস ভালোই কেটেছে।পছন্দের সব কাজ করে সময় কাটিয়েছি যেমন: ছবি আকা, গান করা, নাচ করা, রান্না করা,নিজের যত্ন করা, পরিবারের মানুষদের যত্ন করা ইত্যাদি। কিন্তু এখন আর তেমন ভাবে এই করোনাময় পরিস্থিতিতে অবসর সময় কাটছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, ক্যাম্পাস যেন প্রতিনিয়ত আমায় ডাকছে।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: ক্যাম্পাসের ব্যস্তাতার ভিড়ে এখন অলস সময় কাটাচ্ছেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ সজীব। তিনি জানান,পড়াশুনা, টিউশনি, বন্ধুবান্ধব,রাজনীতি সবকিছু নিয়ে খুবই ব্যস্ত থাকা হতো ক্যাম্পাসে। এখন অবসর সময় যাওয়ার কারনে প্রায় সারাদিনই অনলাইনেই থাকা হয়।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবার খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করছি এই সময়ে।গেইম অলস সময়ে কিছুটা অতিরিক্ত বিনোদন দিচ্ছে।বাড়িতে ছোট বোন ক্লাস সেভেনে পড়ে,বোনকে পড়াচ্ছি দিনের কিছুটা সময়। আর সবচেয়ে আনন্দের সাথে যে কাজটি করেছি সেটা হলো শেরপুর ভেটস্ ক্লাবের পক্ষ থেকে ০২ টি অসহায় পরিবারকে ও আমরা কয়েকজন বন্ধুরা মিলে ১০ টি পরিবারকে রমজানে সহায়তা করতে পেরেছি।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়: বর্তমান করোনাময় পরিস্থিতিতে সবসময় উদ্বেগ ও আশঙ্কার মধ্যে প্রতিটি দিন পার করছেন বলে এমন এক অনুভূতির মাধ্যমে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোঃ মোশারফ হোসেন জানান, করোনা ভাইরাসের এই পরিস্থিতিতে বিশেষ করে গ্রামের মানুষের করোনা সম্পর্কে 'ডন্ট কেয়ার' ভাবটা মনে উদ্বেগ তৈরি করে।এইসব ভাবতে ভাবতে সময় কবে যে চলে যায় টের পায় না। একদিকে করোনা অন্যদিকে প্রকৃতির বিরুপ আবহাওয়া, সবমিলিয়ে অবরুদ্ধ ও ঘরবন্দী জীবন। চারপাশের করোনাময় খবরে দিন দিন সাহস শক্তি লোপ পাচ্ছে, মনোবল হারিয়ে ফেলার মত এক অবস্থা।এইসময়ে গরীব ও অসহায় মানুষদের হাহাকারময় জীবন দেখতে দেখতে সময় কোন দিক দিয়ে যায় বুঝায় যায় না।সারাদিন শুয়ে বসে থাকতে থাকতে মাথা থেকে সুপ্ত বুদ্ধি গুলো হারিয়ে যাচ্ছে।পড়াশোনার প্রতি অনীহা তৈরি হয়েছে। তারপরে সেশনজটের এর মতো একটা খারাপ অবস্থা তৈরি হয়েছে তা নিয়ে ভাবতে ভাবতে সময় হাওয়ায় মতো চলে যাচ্ছে।

ঘরবন্দী জীবনে বাবার দেওয়া একটা ফোন পেয়েছিলাম বলে এই অবসর সময় টা কিছুটা হলেও গেম খেলে পার করতে পারছি,নাহলে জীবন কোথায় গিয়ে দাঁড়াত নিজেও জানতাম।বাবা নামক একটা টাকার মেশিন কিভাবে টাকা উপার্জন করে তা খুব কাছে থেকে দেখছি এবং উপলব্ধি করছি।পৃথিবী তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসুক মহান আল্লাহর কাছে এই দোয়া করি।

বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়: করোনার এই অবসর সময়টা অর্থ্যাৎ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধে প্রথমদিকে পড়াশোনার চাপমুক্ত জীবন বেশ ভালো কাটাচ্ছিলো বলে এক অনুভূতির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আদিবা জাহান জানান,কিন্তু ধীরে ধীরে বাসায় বসে থাকাটা একঘেয়েমী হয়ে উঠেছে।ব্যস্ত থাকার কারণে এমন অনেক কাজ আছে যা করা হয়ে উঠে না।যেমন আমরা অনেকে বাসায় সময় কাটাতে পারি না।এখন সেটা করতে পারছি।

আর বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুবাদে বেশিদিন পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হয় নি। আমাদের অনলাইন ক্লাস শুরু হয়ছে প্রায় ৩ মাস আগে।পরিক্ষা ছাড়া বাকি সব কিছুই চলছে অনলাইনে। যেমন:- লেকচার,এসাইনমেন্ট,প্রেসেন্টেশন। ইতিমধ্যে আমাদের ২য় সেমিস্টার এর পড়াশোনাও শেষ হয়ে গেছে।আশা করি খুব তাড়াতাড়ি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ক্যাম্পাসে ফিরতে পারব ইনশাল্লাহ।

ঢাকা, ২৬ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।