হাবিপ্রবিতে নিয়োগ নিয়ে মিথ্যাচার: ক্যাম্পাস জুড়ে নিন্দা


Published: 2019-07-05 22:00:44 BdST, Updated: 2019-07-22 04:06:06 BdST

হাবিপ্রবি লাইভ: দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) নিয়োগ নিয়ে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়, রিজেন্ট বোর্ডের আগেই ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে ষড়যন্ত্রমুলকভাবে একটি পক্ষ নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য নিউজ করে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করছেন। কয়েকদিন আগে ঐ সাংবাদিক যারা যারা কার্ড পায়নি তারা আমার সাথে যোগাযোগ করুন লিখে ফেসবুকে একটি পোস্টও করেছিলেন।

তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে সংবাদদাতার স্ত্রী কল্পনা হাবিপ্রবিতে জুনিয়র ক্লার্ক পদে আবেদন করেছিল। সে বিভিন্ন সময়ে অনেকবার তদবির করে ও নিউজের ভয় দেখিয়ে নিয়োগকে প্রভাবিত করতে চেয়েছিল। কিন্তু কাজ না হওয়ায় ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পক্ষের ইন্ধনে মিথ্যা সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমুর্তি নষ্ট করতে উঠে পড়ে নেমেছে। আজকেও ঐ সাংবাদিক তার স্ত্রীকে নিয়োগ দিতে ফেসবুককে একজনকে লিখেন, দাদা ফোনে পাচ্ছিনা, দ্রুত আজকের মধ্যে পদক্ষেপ নিন।

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর মামুনুর রশিদ ও মোমিনুল ইসলাম শিবির ছাত্রদলের অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে এক ছাত্রলীগ নেতা বলেন, যারা চাকুরীপ্রার্থী তাদের প্রত্যেকের পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়েছে। আর যারা অভিযোগ করেছেন তারা নিজেরাই তো জামাত বিএনপিপন্থী সাদা দলের শিক্ষক। তাদের সেই কমিটির কাগজ এখনো আমাদের হাতে রয়েছে। তারা যখন এসব অভিযোগ করেন সেটা হাস্যকর ছাড়া আর কিছু না। এসব শিক্ষক মুলত আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের ছত্রছায়ায় এসব অপকর্ম করে যাচ্ছে।

নিউজের প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয় , স্বাধীনভাবে মেধার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগে যোগ্যপ্রার্থী নির্বাচনের জন্য এবার ৪টি ধাপ অনুসরণ করা হয়েছে, যা হাবিপ্রবি তথা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এক অনন্য নজির। নির্বাচনে টি ধাপের সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্ত প্রার্থীকে নিয়োগে সুপারিশ করা হয়েছে। এই ৪ টি ধাপ হলো লিখিত পরীক্ষা, ভাইভা, ডেমো প্রেজেন্টেশন ও একাডেমিক রেজাল্ট।

এরপরেও এসব বিষয়ে মিথ্যা অভিযোগ এনে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা উদ্দেশ্যপ্রনোদিত এবং ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার মাধ্যমে একাডেমিক কার্যক্রমকে বাঁধাগ্রস্থ করার ষড়যন্ত্র।

১) উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের লেকচারার নিয়োগের প্রার্থী বাচাইয়ের কার্যক্রমে প্রফেসর ড. মো.শরীফ মাহমুদ যে অভিযোগ করেছেন তা সম্পুর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দ্যেশ্যপ্রনোদিত । সিলেকশন বোর্ডের ৬ জন সদস্যের মধ্যে ৫ জন সদস্য একমত হয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ার ৪টি ধাপ অনুসরণ করে, সর্বোচ্চ নাম্বার প্রাপ্তদেরকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছেন।

কিন্ত অভিযোগকারী শিক্ষক প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়কে বাদ দিয়ে চতুর্থ অবস্থানে থাকা পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগের সুপারিশ করার জন্য অযৌক্তিকভাবে চাপ সৃষ্টি করে ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করেন যা অনৈতিক ও শিক্ষকসুলভ আচরণের পরিপন্থী।

উল্লেখ্য যে, উক্ত অভিযোগকারী শিক্ষক ২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রচলিত লেকচারার নিয়োগের নীতিমালাকে শিথিল করে তৎকালীন বিএনপি-জামাত সরকারের ক্ষমতার দাপটে নিজেই নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন।

পরবর্তীতে তিনি ২০০৯ সালে পিএচডি’র ছুটি নিয়ে গ্রীসে গিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে মাস্টার্স প্রোগ্রামে জার্মানীতে যান, যা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে গোপন করেন। এর দীর্ঘ ৪ বছর ৫ মাস পর দেশে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির সার্টিফিকেট জমা দেন। একই সময়ে ইউরোপের মতো দুটি দেশে দুটি প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করে সফলতার সাথে ডিগ্রী সম্পন্ন করা সন্দেহজনক, যা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এছাড়াও অতিসম্প্রতি তিনি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না নিয়েই ১৫ দিনের শ্রান্তি ও চিত্তবিনোদনের ছুটিতে যান এবং নিয়োগ বোর্ডকে সামনে রেখে ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্যেই কর্তৃপক্ষের অগোচরে কর্মস্থলে যোগদান করেন, যার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে। যিনি নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করেন না তার এ ধরণের অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রনোদিত ।

২) উপযুক্ত দালিলিক প্রমাণ ছাড়া নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হতেই জাতীয় দৈনিকে অনুমান নির্ভর সংবাদ প্রচার করে উক্ত সাংবাদিক বিশ্ববিদ্যালয় তথা সরকারের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করেছেন এর তীব্র নিন্দাঁ জানাই ।

৩) প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদকের বরাত দিয়ে সমকাল প্রতিনিধি বিপুল সরকার সানি নিউজে উল্লেখ করেছেন এটা নিশ্চিত করা দরকার, জামায়াত শিবির যেন নিয়োগ না পায়। অথচ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য নিয়োগের পূর্বেই পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়েছে যা নিউজে উল্লেখ আছে।

সেটি জানার পরেও কিভাবে জামাত-শিবির নিয়োগ দেয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে তার সুস্পষ্ট দালিলিক প্রমাণ আছে মর্মে কোন বক্তব্য তিনি নিউজে উল্লেখ করেননি। আর সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে সংবাদদাতার স্ত্রী কল্পনা হাবিপ্রবিতে জুনিয়র ক্লার্ক পদে আবেদন করেছিল।

সে বিভিন্ন সময়ে অনেকবার তদবির করে ও নিউজের ভয় দেখিয়ে নিয়োগকে প্রভাবিত করতে চেয়েছিল। কিন্তু কাজ না হওয়ায় ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পক্ষের সাথে হাত মিলিয়ে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট তথ্যের ভিত্তিতে পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য পাঁয়তারমূলক সংবাদ পরিবেশন করেছেন। এভাবে স্বনামধন্য জাতীয় পত্রিকার একজন সাংবাদিক নিজের বশবর্তী হয়ে নিউজ করতে পারেন না ।

এ ধরনের নিউজ প্রতিষ্ঠানকে কলুষিত করবে বলে মনে করছি। এমতাবস্থায় তথ্যযাচাই পূর্বক তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি।


ঢাকা, ০৫ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।