‘সুপারম্যান’ ভিসি : একাই সামলান বিভাগসহ ৪ ডিনের দায়িত্ব!


Published: 2019-03-21 20:53:19 BdST, Updated: 2019-04-24 10:32:37 BdST

রংপুর লাইভ: বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬টি অনুষদের মধ্যে ৪টির দায়িত্ব তিনি একাই নিয়েছেন। দায়িত্ব নিয়েছেন সামাজিক বিজ্ঞানের বিভাগীয় পদেরও। এর বাইরে তিনি নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিপপেরও প্রধান। এতোকিছু সামলেও তিনি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বেসর্বা। তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি পদে আছেন।

তবে তাকে শিক্ষার্থীরা মাঝে মাঝে ক্যাম্পাসে পান। অধিকাংশ সময় তিনি থাকের ক্যাম্পাসের বাইরে। ঢাকা-টু রংপুর যাতায়াত করেন বিমানে। কখন তিনি ক্যাম্পাসে থাকেন তা কেউ জানে না। সকালে ক্যাম্পাসে থাকলে বিকেলে থাকেন ঢাকায়। এভাবেই তিনি ব্যস্ততার মাঝে সামলাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়। ‘সুপারম্যান’ ওই ভিসির নাম নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ।

তবে ব্যস্ততার কারণে তিনি সময় দিতে পারেন না বিশ্ববিদ্যালয়ে। স্বাক্ষর করতে পারেন না গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে। একারণে পরীক্ষাসহ বিভিন্ন দাফতরিক ও প্রশাসনিক কাজ ঝুলে থাকে। এ অবস্থায় সেশনজটের কবলে পড়েছেন রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এসব অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভিসিকে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে থাকার দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন। এসময় তারা ‘শিক্ষক আপনি কার? জানিপপের নাকি শিক্ষার্থীর?’ ‘সেশনজটের জটাকলে বিভাগ চলে ক্যামনে’ ‘ভিসিকে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে চাই’ ‘বিভাগে পর্যাপ্ত শিক্ষক চাই, সেশনজট থেকে মুক্তি চাই’ স্লোগান দেন। শিক্ষার্থীদের মুখে তখন ছিল কালো কাপড়। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ রাসেল চত্বরে লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ওই মামনববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে ২১ বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।

মানববন্ধনে লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সেলিম হোসেনের সঞ্চালনায় শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, লোকপ্রশাসন বিভাগে মাত্র ৪জন শিক্ষক মিলে ৭টি ব্যাচকে পাঠ দিচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগে শিক্ষক স্বল্পতা এবং ক্লাসরুম সংকট রয়েছে।

কিন্তু ভিসি ক্যাম্পাসে লাগাতার অনুপস্থিত থাকছেন। শিক্ষকরা পরীক্ষা নিতে চাইলেও ভিসির স্বাক্ষর পেতে দেরি হওয়ায় যথাসময়ে পরীক্ষা হয়না। ভিসি ৬টি অনুষদের মধ্যেই ৪টি অনুষদের ডিনের। প্রতিটি অনুষদে যোগ্য শিক্ষক থাকার পরেও ডিন নিয়োগ না দিয়ে ৪টি ডিনের পদ আগলে রেখেছেন তিনি। সমাজবিজ্ঞান বিভাগেও প্রধানের পদ আঁকড়ে রেখেছেন তিনি। এতে বিপাকে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাড়ে ১০হাজার শিক্ষার্থী।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, লোকপ্রশাসন বিভাগে নতুন দুজন শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে। কিন্তু ভিসি তারে ফাউন্ডেশন ট্রেনিংয়ের নামে জায়গায় জায়গায় নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এর ফলে ব্যাহত হচ্ছে বিভাগের স্বাভাবিক কার্যক্রম। ব্যাচ সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি শিক্ষক।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ভিসি বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে অনেক কথা দিয়েছিলেন। বলেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়কে সেন্টার অফ এক্সিলেন্স বানাবেন, লোকপ্রশাসন বিভাগসহ প্রতিটি বিভাগ রোল মডেল বানাবেন কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। শিক্ষার্থীদের সাথে প্রহসন করা হয়েছে। শিক্ষা জীবনের অনার্স মাস্টার্স ৫ বছরে শেষ হবার কথা থাকলেও ৭ থেকে ৮ বছর সময় লেগে যাচ্ছে।

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন বিভাগের শিক্ষার্থী শাহ মোহাম্মদ রতন, সাদিয়া, জেরিন জেমি, জাকারিয়া জাকির, রিপন, মাজেদুল প্রমুখ।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাকে একাধিকার মোবাইল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। জনসংযোগ প্তরের একায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, ভিসি স্যার ঢাকায় আছেন।


ঢাকা, ২১ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।