হাবিপ্রবিতে মেধাক্রম এড়িয়ে ভর্তির অভিযোগ, কার্যক্রম বন্ধ!


Published: 2019-02-12 19:40:27 BdST, Updated: 2019-02-22 07:07:35 BdST

হাবিপ্রবি লাইভঃ হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) অপেক্ষমান তালিকায় ভর্তি কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ মিলেছে। এনিয়ে শুরু হয়েছে নানান আলোচনা ও সমালোচনা। অপেক্ষমান তালিকার মেধাক্রম অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনার সুষ্ঠু ব্যবস্থা গ্রহন না করা পর্যন্ত ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তবে প্রশাসনের দাবি বিষয়ভিত্তিক পছন্দক্রম ফরম পূরণ না করায় ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে শিক্ষার্থীরা।

সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কাছে দাখিল করা জি ইউনিটের অপেক্ষমান ১১তম মেধা তালিকায় থাকা শারমিন আকতার মিতু অভিযোগ করে বলেন জি ইউনিট (৩য় শিফট) ভর্তি পরীক্ষায় রোল ৭২০১০৭ অপেক্ষমান তালিকায় ১১তম হন তিনি।

সে অনুযায়ী গত ১১ ফেব্রুয়ারি রিপোর্ট করেন। কিন্তু মঙ্গলবার দুপুরে এসে দেখতে পান তাকে বাদ দিয়ে পরের অপেক্ষমান তালিকায় ১২তম শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। একই অভিযোগ করেন এফ ইউনিট (শিফট-১)’র ১০০তম অপেক্ষমান তালিকায় থাকা শিক্ষার্থী রিদওয়ানুল হক (ভর্তি পরীক্ষার রোল নং-৬০১৩৯৮)।

শুধু ওই ২ শিক্ষার্থীই নয়, এই ধরনের অনেক শিক্ষার্থীই অপেক্ষমান মেধা তালিকায় থেকেও ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থী রিদওয়ানুল হক ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, অপেক্ষমান মেধাক্রম তালিকায় থাকার পরও তাকে বাদ দিয়ে ১০৩ অপেক্ষামান মেধাক্রম তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীকে নেয়া হয়েছে।

এব্যাপারে তিনি প্রশাসনকে রিপোর্ট করেও কাজ হয়নি। অনিয়মের শিকার হওয়া আরেক শিক্ষার্থী শারমিন আকতার মিতু জানান, রিপোর্ট করার পরও তাকে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

শারমিন আকতার মিতুর বাবা মজিবর রহমান ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, মেয়েকে ভর্তি করাতে এসে দেখি অপেক্ষমান মেধা তালিকায় রোল নং থাকলেও ভর্তির সুযোগ থেকে তার মেয়ের রোল বাদ দেয়া হয়েছে।

এদিকে অপেক্ষমান মেধাক্রম অনুযায়ি ভর্তি প্রদান না করার প্রতিবাদে অডিটরিয়াম-১ এ চলা ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে ছাত্রলীগ। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। পরে তারা বিষয়টি নিয়ে রেজিষ্ট্রার ও ভিসির কার্যালয়ে যান।

ছাত্রলীগ নেতা আলমগীর হোসেন আকাশ জানান, যেহেতু ভর্তি কার্যক্রমে একটি অভিযোগ উঠেছে। তাই ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যথাযথ সমাধানের মাধ্যমেই সুষ্ঠুভাবে ভর্তি কার্যক্রম হোক এটি ছাত্রলীগের কাম্য। তাই সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ভর্তি কার্যক্রম শুরু না করার দাবি জানান তিনি।

ভর্তি পরীক্ষা কমিটির আহবায়ক প্রফেসর ড. মোস্তাফিজার রহমান জানান, প্রায় ৮ জন শিক্ষার্থী এমন অভিযোগ করেছে। কিন্তু তারা বিষয়ভিত্তিক পছন্দক্রম ফরম পুরন করেনি। তাই তারা ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, আমি এ ব্যাপারে দেশবাসি ও শিক্ষামন্ত্রীর দৃস্টি আকর্ষণ করছি। তিনি যদি এ ব্যাপারে এগিয়ে আসেন তবেই আমার মেয়ে ভর্তি হতে পারবে।

ঢাকা, ১২ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।