হাবিপ্রবি ভিসি-রেজিস্ট্রার অবরুদ্ধ, ক্যাম্পাসে অচলাবস্থা


Published: 2019-01-10 20:00:48 BdST, Updated: 2019-01-19 19:19:29 BdST

হাবিপ্রবি লাইভ : হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ভিসিকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার দিনভর আলোচনার পরও শিক্ষা কার্যক্রমে টানা প্রায় দু’মাসের অচলাবস্থার নিরসন হয়নি। ক্লাস ও পরীক্ষা চালুর দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে ভিসি, রেজিষ্ট্রারসহ অন্যান্য শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রেখেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার রাত আটটায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তারা প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বেতন বৈষম্য দুরীকরনের দাবিতে গত ১৪ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত ৬১ জন এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর বিধান চন্দ্র হালদারের কক্ষে গেলে সেখানে তাদের উপর হামলা, মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়। ওই অভিযোগে পরের দিন থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রেখে অনশনে যায় পদোন্নতিপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। তাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামও। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেড় শতাধিক শিক্ষক ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রেখে আন্দোলনে নামে।

আন্দোলনের জন্য অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয় ভর্তি পরীক্ষা এবং কর্মকর্তা ও শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা। এরই মধ্যে ২৯ নভেম্বর রেজিষ্ট্রার প্রফেসর ড. সফিউল আলমকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় আন্দোলনরত ২ শিক্ষককে সাময়িক বহিস্কার করা হলে আন্দোলন আরও বেগবান হয়ে উঠে। এমতাবস্থায় ৩ ডিসেম্বর ঢাকাস্থ হাবিপ্রবি’র রিজেন্ট বোর্ডের এক সভায় ৪ ডিসেম্বর থেকে ৩ জানুয়ারী পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়। এক মাস বন্ধ শেষে গত ৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় খোলে এবং ৬ জানুয়ারী থেকে ক্লাস-পরীক্ষা চালু হওয়ার কথা।

কিন্তু শিক্ষকদের দাবি-দাওয়ার ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় ৬ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হলেও ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করে আবারও আন্দোলনে নামে দেড় শতাধিক শিক্ষক। ফলে প্রায় দুইমাস ধরে শিক্ষা কার্যক্রমে একপ্রকার অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। এদিকে শিক্ষা কার্যক্রমে প্রায় দুই মাসের অচলাবস্থা নিরসন করে ক্লাস ও পরীক্ষা চালুর দাবিতে গত ৯ জানুয়ারি রাস্তায় নামেন দিনাজপুুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা।

চলমান সংকট মোকাবেলায় গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় আন্দোলনরত প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম ও বিকেল ৪টায় সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত ৬১ জন এসিস্ট্যান্ট প্রফেসরের সঙ্গে আলোচনায় বসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আলোচনায় হাবিপ্রবির ভিসি প্রফেসর ড. মু. আবুল কাশেম, রেজিষ্ট্রার প্রফেসর ড. সফিউল আলম, প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সহ-সম্পাদক প্রফেসর ড. এস.এম হারুনর রশিদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং আন্দোলনরত সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক কৃষ্ণ চন্দ্র রায় উপস্থিত ছিলেন।

বেলা ১১ টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আলোচনায় কোন সমাধান হয়নি। আলোচনা শেষে আন্দোলনরত সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত এসিস্ট্যান্ট প্রফেসরদের প্রতিনিধি কৃষ্ণ চন্দ্র রায় সাংবাদিকদের জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন তাদের দাবির ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ ও আশ্বাস না দিয়েই ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহবান জানান। পদক্ষেপ না নেয়া পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরে যাবেন না।

হাবিপ্রবি’র রেজিষ্ট্রার প্রফেসর ড. সফিউল আলম জানান, বৃহস্পতিবারের আলোচনাটি ছিল প্রাথমিক আলোচনা। এই আলোচনায় কোন সমাধান না হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, শুক্রবার (আজ) বিকেল ৩টায় আবার আলোচনায় বসা হবে।

এদিকে ফলপ্রসু আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রমে অচলাবস্থার অবসান না হওয়ায় প্রশাসনিক ভবনের গেটে অবস্থান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মু. আবুল কাশেম, রেজিষ্ট্রার প্রফেসর ড. সফিউল আলমসহ অন্যান্য শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রেখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারন শিক্ষার্থীরা। তারা ক্লাস ও পরীক্ষা চালুর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে নিয়ে আনার দাবি জানান।


[বি:দ্র : নিউজে গতকালের ছবিটি ব্যবহার করা হয়েছে। ক্লাস-পরীক্ষা চালুর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অবস্থান]

 

ঢাকা, ১২ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।