বেগম রোকেয়ায় ভর্তি : মেধা তালিকায় সেরা দশের ৬ জনই ভুয়া!


Published: 2019-01-09 20:26:00 BdST, Updated: 2019-03-22 23:15:49 BdST

বেরোবি লাইভ: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার মেধা তালিকার সেরা দশের মধ্যে ৬জনই ভুয়া! বাকি একজনের মেধা তালিকা ৪০ এর মধ্যে রয়েছে। জালিয়াতি করেও শেষ রক্ষা হয়নি। বাঁচতে পারেনি জালিয়াত চক্র। অবশেষে সাক্ষাৎকারে এসে জালিয়াতি ধরা পড়ল সাত শিক্ষার্থীর। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় এই ঘটনা ঘটেছে। 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানাগেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার মেধা তালিকার সেরা দশের মধ্যে ৬জনই ভুয়া! বাকি একজনের মেধা তালিকা ৪০ এর মথ্যে রয়েছে। ভর্তির জন্য সাক্ষাতকার দিতে এসে তারা ধরা পড়েছেন। তাদের আটক করে পুলিশে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এ সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সাত শিক্ষার্থীকে জালিয়াতির কারণে আটক করা হয়। আটক এসব শিক্ষার্থীকে প্রক্টোরিয়াল বডির মাধ্যমে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

প্রক্টোরিয়াল বডি আটক শিক্ষার্থীদের পুলিশে সোপর্দ করেন। আটক শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে দুইটি অনুষদের ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকার শীর্ষ স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীরা।

আটক শিক্ষার্থীরা হলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের গোয়ালপাড়ার খাইরুল আহমেদের ছেলে শাফিন আহমেদ। তিনি এফ ইউনিটে (শিফট-৪, রোল- ৬৭০৩৮৪) মেধা তালিকায় দ্বিতীয় ছিলেন। বি ইউনিটভুক্ত গাজীপুরের কাপাসিয়ার হাবিবুর রহমানের ছেলে এস এম নাঈমের (শিফট, রোল- ২১৯৮৪৬) মেধা তালিকা তৃতীয়। একই ইউনিটের নীলফামারী কিশোরগঞ্জের মারুফ হাসানের (শিফট-২য়, রোল- ২৭১১৮৯) মেধাক্রম প্রথম।

একই ইউনিটের গাজীপুর শ্রীপুরের রাকিবুল ইসলামের (শিফট-২য়, রোল- ২১১৯৮৬) মেধাক্রম দ্বিতীয়। একই ইউনিটের টাঙ্গাইল গোডাউন বাজারের শাহরিয়ার ইসলামের (শিফট-২য়, রোল- ২২০২০০) মেধাক্রম নবম।

একই ইউনিটের টাঙ্গাইল সদরের শোয়েব হাসানের (শিফট-৪র্থ, রোল- ২৪৬৮৫৬) মেধাক্রম ষষ্ঠ। একই ইউনিটের শেরপুরের মধ্যশ্রেরীর রাহাত মজুমদারের (শিফট-৪র্থ, রোল- ২৪৭৬৬০) মেধাক্রম ৩৮।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবু কালাম মো. ফরিদ উল ইসলাম ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, আটক শিক্ষার্থীদের জালিয়াতি প্রমাণ পাওয়ায় তাদের পুলশে সোপর্দ করা হয়েছে। এরা একটি শক্তিশালী জালিয়াত ও প্রতারক চক্রের সঙ্গে জড়িত। এদের সঙ্গে আরও কেউ থাকতে পারে।

প্রক্টর আরও জানান, সাক্ষাৎকারে কথাবার্তায় অসঙ্গতি, স্বাক্ষরে অমিল এবং সাক্ষাৎকার দিতে আসা শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রবেশপত্রের ছবির অমিল থাকায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সাক্ষাৎকার বোর্ডের সদস্যরা।

পরে তারা জালিয়াতির বিষয় স্বীকার করে। তাদের হয়ে অন্য কেউ ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি দিয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২ থেকে ৫ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি অনুষদের অধীন ২১টি বিভাগে এ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। জানাগেছে একটি চক্র বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়াত। এরা খুবই ধুর্ত ও চালাক প্রকৃতির।

বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই মহিব্বুল ইসলাম বলেন, আটক ৭জনের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

 

ঢাকা, ০৯ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।