ক্ষোভ নিয়ে হল ছাড়লেন হাবিপ্রবির ৪ হাজার শিক্ষার্থী


Published: 2018-12-05 02:12:23 BdST, Updated: 2018-12-13 06:09:05 BdST

হাবিপ্রবি লাইভ : ক্ষোভ আর সেশনজটের আশংকা মাথায় নিয়ে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার হল ছেড়ে গেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক হল বন্ধ করে দেয়ায় শিক্ষার্থীরা হল ত্যাগে বাধ্য হন। বিদেশী ছাত্রদের হল ব্যাতিত দুপুর ১২টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব আবাসিক হল খালি করে য়ো হয়েছে। এদিকে এক মাসের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও হল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পড়ালেখার ক্ষতির পাশাপাশি সেশনজটের আশংকা করছেন শিক্ষার্থীরা।

বেতন বৈষম্যের প্রতিবাদে নতুন পদোন্নতিপ্রাপ্ত ৬১ জন শিক্ষকের আন্দোলন, যৌণ হয়রানির অভিযোগে দুই শিক্ষকের বহিস্কারের দাবিতে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের আন্দোলন, রেজিষ্ট্রারকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে দুই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত, শিক্ষকদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচী ও শিক্ষকদের সাথে তাল মিলিয়ে ছাত্রদের দুই গ্রুপের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে বেশ কিছুনি ধরেই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করে হাবিপ্রবিতে। ধীরে ধীরে তা সংঘাতময় পরিস্থিতির দিকে এগুতে থাকে। এই পরিস্থিতির কারণে গত সোমবার ঢাকায় হাবিপ্রবির লিয়াজো অফিসে রিজেন্ট বোর্ডের এক জরুরি সভা বসে।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয় ৪ ডিসেম্বর থেকে আগামি বছরের ৩ জানুয়ারী পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়। একই সাঙ্গে মঙ্গলবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার মধ্যে ছাত্রছাত্রীরে হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়। প্রশাসনের ওই নির্দেশে বাধ্য হয়েই ৬টি হলের প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থী মঙ্গলবার দুপুর ১২টার মধ্যেই হল ত্যাগ করে চলে যায়। তবে ইন্টারন্যাশনাল হলে অবস্থানরত বিদেশি প্রায় ২’শ শিক্ষার্থীকে হল ত্যাগে বাধ্য করা হয়নি। ফলে বিদেশী শিক্ষার্থীরা হলেই অবস্থান করছেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, হঠাৎ করে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষনা এবং হল ত্যাগে বাধ্য করায় পড়ালেখা ও গবেষনা কার্যক্রমে ক্ষতির পাশাপাশি সেশন জটের আশংকা দেখা দিয়েছে। এমনিতেই বেশ কিছুদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভুত পরিস্থিতির কারণে ঠিকমত ক্লাস ও পরীক্ষা হচ্ছিল না। কিন্তু হলে থেকে তারা লেখাপড়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু আবাসিক হলগুলো বন্ধ করে দেয়ায় বাড়িতে গিয়ে আর লেখাপড়া হবে না তাদের। এ অবস্থায় তাদের চরম ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও হল বন্ধের প্রতিবাদে মঙ্গলবার মানববন্ধনও করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

হাবিপ্রবির রেজিষ্ট্রার প্রফেসর ড. সফিউল আলম জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের দুই গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থানে গিয়েছিলো এবং নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় বাধ্য হয়েই হল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, হাবিপ্রবিতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে প্রথমত কর্মকর্তা ও প্রভাষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত, দ্বিতীয়ত ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত এবং সবশেষ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষনা করে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগ করতে বাধ্য করা হল।

ঢাকা, ০৫ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।