ত্রিমুখী আন্দোলনে অচল হাবিপ্রবি


Published: 2018-07-02 16:16:48 BdST, Updated: 2018-09-24 16:24:04 BdST

হাবিপ্রবি লাইভ: কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতাদের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে ও কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপনের দাবিতে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) পতাকা মিছিল করেছে আন্দোলনকারীরা।

ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে সোমবার সকাল ১০টায় এ কর্মসূচি শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে ‘সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, হাবিপ্রবি শাখা।

মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এসময় মিছিলে কোটা আন্দোলনের নেতাদের উপর হামলা ও মামলার প্রতিবাদে শ্লোগান দিতে থাকে বিক্ষোভকারীরা।

অন্য দিকে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থীদের সনদ আলাদা করাসহ ৪ দফা দাবিতে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের শিক্ষার্থীরা।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানবন্ধন করেন চার দফা দাবিতে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করতে থাকেন।

এসময় তারা হাবিপ্রবি অধিভুক্ত কলেজ শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজের স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের সনদ আলাদাকরণ, হাবিপ্রবি'র এমবিএ ডিগ্রি পোস্ট গ্র্যাজুয়েট অনুষদের পরিবর্তে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের নিজ নিজ বিভাগে প্রদান, হাবিপ্রবি ব্যতীত অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরকে হাবিপ্রবি'র নিয়মিত এমবিএতে ভর্তির সুযোগ না দেওয়া এবং এমবিএ ভর্তির নীতিমালা সংস্কার করে অনতিবিলম্বে ২০১৮ সেশনের এমবিএ ভর্তি কার্যক্রম সম্পূর্ন করার দাবি জানান বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা লাখো শিক্ষার্থীর সাথে প্রতিযোগিতা করে ভর্তির সুযোগ পায়, সেখানে কোন রকম ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই কলেজের শিক্ষার্থীদেরকে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হচ্ছ।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের শিক্ষার্থীরা ।

অন্যদিকে তৃতীয় আন্দোলন হচ্ছে, টি ড্রপ আউট পদ্ধতি বাতিল করে ক্যারিঅন পদ্ধতি চালুর দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

তারা বলেন বিশ্ববিদ্যালয় হতে ৯টি অনুষদের অধীনে বিভিন্ন মেয়াদে বিভিন্ন কোর্স কারিকুলামে প্রায় ২২ টি ডিগ্রি প্রদান কারা হয়ে থাকে। বিভিন্ন ডিগ্রি প্রদানের ক্ষেত্রে ক্রেডিট আওয়ার ও কোর্সের সংখ্যার অনেক তারতম্য রয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ কোন বিভাগে ১ সেমিস্টারে ১৬ টি কোর্স রয়েছে একই সেমিস্টারে অন্য বিভাগ গুলোতে ৫ টি অথবা ৮ টি কোর্স রয়েছে। যেখানে সব ক্ষেত্রেই সেমিস্টার ড্রপের জন্য ৩ টি বিষয়কে বিবেচনা করা হয়।

এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং এটি কোন নিয়মকেই সিদ্ধ করে না। সেমিস্টার পদ্ধতির এমন নিয়ম অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই।

তাদের ৪ দফা দাবিগুলো হলো, ক্যারি অন সিস্টেম চালু করতে হবে। অর্থাৎ কোন শিক্ষার্থী অসুস্থতা বা দুর্ঘটনা জনিত কারনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারলে অথবা ৩ এর অধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হইলেও তাকে পরবর্তী সেমিস্টারে উর্ত্তীন করতে হবে এবং অকৃতকার্য বিষয় সমূহ শর্ট সেমিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। উক্ত বিষয় সমূহ প্রতি বছরে শর্ট পরীক্ষার জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে।

শর্ট সেমিস্টার বা মানোন্নয়নের জন্য সকল বিষয় উন্মুক্ত রাখতে হবে। অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থী ইচ্ছানুযায়ী নির্দিষ্ট ফি প্রদান করে ইমপ্রুভ দিতে পারবে। ইমপ্রুভের রেজাল্ট B+ থেকে A+ উন্নীত করতে হবে।

ফাইনাল পরীক্ষার সমাপ্তির অনাধিক ১ মাসের মধ্যে ফল প্রকাশ করতে হবে। সকাল ১০ টা থেকে আন্দোলন শুরু হয়ে এখন পর্যন্ত চলমান রয়েছে।

 

ঢাকা, ০২ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।