হাবিপ্রবিতে যৌন হয়রানি: সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের মতামত


Published: 2018-05-15 17:09:44 BdST, Updated: 2018-12-14 12:04:02 BdST

হাবিপ্রবি লাইভ: হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যলয়ে (হাবিপ্রবি) যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রকাশিত সংবাদের বিশ্লেষক আলোচনা করতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক যৌন নিপিড়নের কয়েকটি ঘটনার ব্যাপারে সাংবাদিকদের অবহিত করতে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মতবিনিময় সভায় লিখিত বক্তব্য রাখেন হাবিপ্রবি’র রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. সফিউল আলম। এ সময় তিনি হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিম্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) মর্যাদা ও সুনাম ক্ষুন্ন হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে সংবাদ প্রকাশ করার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানান।

লিখিত বক্তব্যে ড. সফিউল আলম বলেন, “ইদানিং কিছু স্বনামধন্য পত্রিকায় বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নিপিড়নের খবর প্রকাশিত হয়েছে। ওই সকল শিক্ষকরা হলেন, ড. এটিএম রেজাউল হক, লেকচারার সাবরিনা মোস্তাফিজ, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর দিপক কুমার সরকার ও অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর মো. ফরিদুল্লাহ।

প্রকাশিত ওই সকল সংবাদে বলা হয়েছে প্রশাসন যৌন নিপিড়নের বিরুদ্ধে তেমন কোন ভূমিকা রাখছে না। প্রকাশিত এ খবরগুলো যেমন সত্য নয় তেমনই এ প্রতিষ্ঠানের (হাবিপ্রবি) জন্য মর্যাদাহানীকর বলে উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে হাবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশবাসিকে সঠিক তথ্য দিতে চায়।”

মতবিনিময় সভায় ভিসি আরো বলা হয়, হাবিপ্রবিতে কোন শিক্ষার্থী কর্তৃক যৌন নিপিড়নের কোন অভিযোগ আসেনি তবে তিনটি মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ রেজিষ্ট্রার বরাবর প্রদান করা হয়েছে।

গত ১৯ মে সোস্যাাল সায়েন্স এন্ড হিউমেনিটিস অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. এটিএম রেজাউল হক সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের লেকচারার সাবরিনা মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে পরীক্ষার হলে অসৌজন্যমূলক আচরনের অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার বরাবর প্রদান করা হয়ে।

একইভাবে গত ২৫ মে সাবরিনা মোস্তাফিজ ড. রেজাউল হকের বিরুদ্ধে মানসিক নিপিড়নের অভিযোগ করেন। এছাড়া ইংরেজি বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর দিপক কুমার সরকার, বায়োকেমেস্ট্রি এন্ড কলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ড. রমজান আলী ও মাৎস্য বিজ্ঞান বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ফরিদুল্লাহ’র বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ আসলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যের শেষ দিকে বলা হয়, “হাইকোর্ট ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের নির্দেশে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানী অভিযোগ কমিটি গঠিত হয়েছে এবং এ সম্পর্কিত কোন অভিযোগ আসলে তা যথাযথভাবে তদন্ত করে কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

এসময় ভিসি সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, কোন বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন না করার এবং যৌন হয়রানির যে কোন সংবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে যাচাইপূর্বক বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে বলেন।”

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেজ অক্ষুন্ন রাখা সবার দায়িত্ব। সাংবাদিকরা জাতির বিবেক। তাই বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় দিনাজপুরে কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্টগ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান, অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. ফাহিমা খানম, জনসংযোগ ও প্রকাশনা শাখার পরিচালক প্রফেসর ড. শ্রীপতি সিকদার, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. খালিদ হোসেন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

 

ঢাকা, ১৫ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।