বেরোবিতে সাংবাদিকতার শিক্ষক মাহামুদুল হক-এর নিয়োগাদেশ বহাল


Published: 2018-04-13 16:43:47 BdST, Updated: 2018-09-26 13:39:54 BdST

বেরোবি লাইভ: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষক হিসেবে মাহামুদুল হককে নিয়োগের জন্য সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে। হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের করা লিভ-টু-অ্যাপিল খারিজ করে দিয়েছে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ।

এর আগে গতবছর ১৫ অক্টোবর হাইকোট এক রায়ে মাহমুদুল হককে ১৫ দিনের মধ্যে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশনাকে চ্যালেঞ্জ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আপিল বিভাগে লিভ-টু-আপিল করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কাগজ-পত্রে দেখা যায়, ২০১১ সালের ২৯ অক্টোবর ওই বিভাগে দু’জন প্রভাষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ২০১২ সালে ১৩ জানুয়ারি বাছাই বোর্ড যথাক্রমে মোহা. গোলাম কাদির মন্ডল ও মোহা. নজরুল ইসলামকে মেধা তালিকায় এবং মোহা. মাহমুদুল হক ও নিয়ামুন নাহারকে অপেক্ষমাণ তালিকায় রেখে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে।

বাছাই বোর্ডের সুপারিশে স্বাক্ষর করেন ওই সময়ের ভিসি ড. মু আব্দুল জলিল মিয়া, বিষয় বিশেষজ্ঞ প্রদীপ কুমার পান্ডে এবং ওই সময়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন। কিন্তু বাছাই বোর্ডের সুপারিশপত্রে দেখা যায় কম্পিউটারে প্রিন্টকৃত ১ ও ২ নম্বর সিরিয়ালের পরে ৩ নম্বর সিরিয়াল কলমে লিখে তাসনিম হুমাইদাকে মেধা তালিকায় তৃতীয় এবং অপেক্ষামান তালিকায় তৃতীয় হিসেবে তাবিউর রহমানের নাম অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে।

২১তম ও ২২তম সিন্ডিকেটের বিবরণীতে দেখা যায়, বাছাই বোর্ডের সুপারিশ তালিকায় কলমে লিখে তিন নম্বর ক্রমযুক্ত করার পরে সিন্ডিকেটেও “নিয়ম ভঙ্গ” করা হয়েছে। ২১তম সিন্ডিকেট এক সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়, “প্রয়োজনে নিচের তালিকা থেকে (ক্রমানুসারে মাহামুদুল হক, নিয়ামুন নাহার ও তাবিউর রহমান) যে কাউকে নিয়োগ দেয়া যেতে পারে।”

আবার ২২তম সিন্ডিকেট যে কাউকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে। ২২তম সিন্ডিকেট বলে, “গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ অপেক্ষামান তালিকাভুক্তকরণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ‘যে কাউকে’ শব্দগুলো ২২তম সিন্ডিকেট সভার সম্মানিত সদস্যদের আপত্তির কারণে বাতিল বলে গণ্য হবে।”

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষক হিসেবে মাহমুদুল হককে নিয়োগের জন্য সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে

 

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর আইন ২০০৯ এর ৩৪ (৩) ধারায় বলা হয়েছে : “বাছাই বোর্ডের (নিয়োগ বোর্ডের) সুপারিশের সহিত সিন্ডিকেট একমত না হইলে বিষয়টি চ্যান্সেলরের নিকট পাঠাইতে হইবে এবং এই ব্যাপারে তাঁহার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হইবে।” বিশ্ববিদ্যালয় আইন ৪(জ) ধারা অনুযায়ী বাছাই বোর্ডের সুপারিশকৃত ব্যক্তি ছাড়া কাউকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে পারেনা সিন্ডিকেট।

বাছাই বোর্ডেরসুপারিশ অথবা চ্যান্সেলর তথা রাষ্ট্রপতির অনুমোদন ছাড়াই মেধা তালিকায় তাসনিম হুমাইদা ও অপেক্ষমান তালিকায় তাবিউর রহমানের নাম অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে এবং ২১তম সিন্ডিকেটে “যে কাউকে” শব্দটি যোগ করা হয়েছে। আবার ২২তম সিন্ডিকেটে “যে কাউকে” শব্দটি বাতিল করলেও তালিকায় প্রথম মাহমুদুল হককে নিয়োগ দেয়া হয়নি। ২১তম ও ২২তম সিন্ডিকেটে বাছাই বোর্ডের সুপারিশ অনুসরণ করা হয়নি।

নিয়োগ না পেয়ে অপেক্ষমাণ তালিকায় প্রথম মাহামুদুল হক ২০১৩ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। হাইর্কোট মাহামুদুল হকের জন্য একটি স্থায়ী পদ সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়। মাহামুদুল হককে নিয়োগ না দিয়ে ওই বিভাগে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ দিতে গেলে হাইকোর্ট ২০১৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ওই নিয়োগ পরীক্ষার ওপর স্থাগিতাদেশ দেয়।

এরপর আবারও ২০১৭ সালে ওই বিভাগের জন্য শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। মাহামুদুল হকের রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট আবারও তা বন্ধ করে দেয়। গতবছর ১৫ অক্টোবর হাইকোট এক রায়ে মাহামুদুল হককে ১৫ দিনের মধ্যে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়।

সেই নির্দেশনাকে চ্যালেঞ্জ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আপিল বিভাগে লিভ-টু-আপিল করে। এমনকি এই মামলা পরিচালনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ মাহমুদ হাসান কে ৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকা প্রদান করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ কমিটির ২১তম সভায় ভিসি প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত এই আইনজীবীর নামে এই টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়।

বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী মাহমুদুল হক বলেন, দীর্ঘ ছয় বছর আইনি লড়াই চালিয়ে আজ এই আদেশ পেয়েছি। আমার যোগ্যতা থাকার পরও অন্যায়ভাবে আমাকে নিয়োগ দেয়নি তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার ইব্রাহীম কবির বলেন, বিষয়টি শুনেছি এখনো কাজপত্র হাতে আসেনি। কাজপত্র হাতে পেলেই আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী যথোপযোগী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঢাকা, ১৩ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।