বেরোবি'তে ভর্তি জালিয়াতি, শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে বাধা!


Published: 2018-01-08 19:44:04 BdST, Updated: 2018-09-21 20:28:30 BdST


বেরোবি লাইভ: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনা উন্মোচনের পরিবর্তে তা ধামাচাপা দিতে উঠে পরে লেগেছে প্রশাসন। ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও জালিয়াতদের বিচারের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ডাকা মানববন্ধনে বাঁধা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সোমবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ রাসেল চত্বরে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা জানায়, মানববন্ধন শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান নোবেল কয়েকজন নেতাকর্মীসহ সেখানে উপস্থিত হন। এর কিছুক্ষণ পরেই মানববন্ধনস্থলে আসেন প্রক্টর আবু কালাম মো: ফরিদ উল ইসলাম এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর তাবিউর রহমান। এসময় তাঁরা প্রত্যেকেই মানববন্ধন বন্ধ করতে বলেন।

শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

মানবন্ধনে বাধা দেওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, অপরাধীদের শাস্তির আওতায় না আনলে মেধাবী শিক্ষার্থীরা এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে নিরুৎসাহিত হবে। মানববন্ধনে বাধা দেওয়ার মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠ রোধ করা হচ্ছে বলেও মনে করেন তারা।

মানববন্ধনের সঞ্চালক বিশ্ববিদ্যালয়ের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান বলেন, ভর্তি জালিয়াতি করে একটি চক্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট করছে। আর এই জালিয়াত চক্রের শাস্তির দাবিতে যখন আমরা মানববন্ধন করছি তখনই প্রশাসন বাধা দিচ্ছে। এটা সত্যিই খুব দু:খজনক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থী পোমেল বডুয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মানববন্ধনে বাধা দেয়া হবে এমনটি আমরা চিন্তাও করতে পারিনি। এর তীব্র নিন্দা জানাই।

আরেক শিক্ষার্থী মাসুদ রানা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি চক্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট করার জন্য বরাবরই পায়তারা করে আসছে। ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি করে তারা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুন্ন করেছে। আমরা তাঁদের (জালিয়াত চক্রের) শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এতে বাধা দিলো কেন! বুঝে আসছে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নীল দলের সাধারণ সম্পাদক আপেল মাহমুদ বলেন, প্রশাসনের ভেতরে ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান করার বিষয়ে অনুমতির একটা ব্যাপার থাকতে পারে। কিন্তু আমরা বিভিন্ন সময়ে অনেক অনুষ্ঠানের অনুমতি নিতে দেখিনি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের এ যৌক্তিক দাবির সাথে প্রশাসনের একমত থাকা নৈতিক দায়িত্ব ছিল। কিন্তু প্রশাসন তা না করে এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এতে তাঁরা কি প্রমাণ করতে চাচ্ছেন তা বোধগম্য নয়।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান নোবেল জানান, যেহেতু তাঁরা (মানববন্ধন আয়োজকরা) মানববন্ধনের অনুমতি নেয়নি তাই তা স্থগিত করতে বলেছি। আমরা চাই সব কিছু একটা সিস্টেমে আসুক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (চলতি দায়িত্ব) ড. আবু কালাম মোহাম্মদ ফরিদ উল ইসলাম বলেন, যেহেতু মানববন্ধনের অনুমতি নেওয়া হয়নি তাই তা বন্ধ করতে বলা হয়েছে।

 


ঢাকা, ৮ জানুয়ারী (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।