বেরোবি’তে নীল দলের সংবাদ সম্মেলন: প্রশাসনের বিবৃতি


Published: 2018-01-06 20:57:30 BdST, Updated: 2018-06-25 00:13:44 BdST

 

বেরোবি লাইভ: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষকদের একাংশের সংগঠন ‘নীল দল’ গত ৪ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলন করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হয়।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত কপিতে ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াও নীল দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিষয়ের অবতারণা করা হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে যে অভিযোগগুলো উত্থাপন করা হয়েছে সেগুলোর বেশিরভাগ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত বলে মনে করছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বেরোবি’র প্রশাসন মনে করেন:

১/ নীল দলের সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়েছে ভিসি দুইটি অনুষদের ডিন হয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অন্য শিক্ষককে সহ-সমন্বয়কের দায়িত্ব দিয়েছেন। প্রকৃত বিষয় হলো, বিভিন্ন ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় সমন্বয়ক/সহ-সমন্বয়ককে সার্বক্ষণিক সময় দিতে হয়। কিন্তু ভিসির অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে উক্ত অনুষদগুলোতে ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তাঁর নানা ব্যস্ততার মাঝে ভর্তি পরীক্ষায় সংশ্লিষ্ট ইউনিট গুলোতে সার্বক্ষণিক সময় দেয়া দূরহ বিধায় কেন্দ্রিয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক উক্ত অনুষদসমূহে একজন করে শিক্ষককে সহ-সমন্বয়ক করা হয়েছে পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে অনুষ্ঠিত করার জন্য।

যদিও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন (২০০৯ সালের ২৯ নং আইন) এর ধারা-১১ (১১) অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য ভিসি তাঁর বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন। সুতরাং ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য তিনি ওই ইউনিট গুলোর সমন্বয়ক/সহ-সমন্বয়কের দায়িত্ব দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটাননি বলে প্রতীয়মান হয়।

২/ ভর্তি পরীক্ষায় উদ্ভুত পরিস্থিতিতে যে তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে তাতে সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালনকারী একজন সহকারী প্রক্টরের বিরুদ্ধে ভূয়া পরীক্ষার্থী করে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে, যা সেটিও মিথ্যা এবং বানোয়াট।

তিনি ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন কোনো ভূয়া পরীক্ষার্থীকে ধরেন নি। কিংবা এ বিষয়ে তাঁর কাছে কেউ লিখিতভাবে অভিযোগও করেননি। উক্ত তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অ্যাসোসিয়েট প্রফেসরকে আহবায়ক এবং প্রক্টরিয়াল বডির দুই জন সদস্যকে রাখা হয়েছে তারপরেও নীল দল কেন জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের কথা বলেছেন তা বোধগম্য নয়। এখানে দলনিরপেক্ষ বলতে কী বোঝানো হয়েছে সেটিও পরিষ্কার করা হয়নি।

৩/ ২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের (বি ইউনিট) সাক্ষাৎকার বোর্ড থেকে যে দুইজন শিক্ষককে বাদ দেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে সেটিও ঠিক না। ওই দিনের জন্য ইউনিটের পক্ষ থেকে সাক্ষাৎকার বোর্ড পুর্নগঠন করা হয়েছে।

ইউনিটের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে ডিন/সমন্বয়ক এ ধরনের বোর্ড গঠনের ক্ষমতা পদাধিকার বলে সংরক্ষণ করে থাকেন। এজন্য কোনো সভা করার প্রয়োজন হয় না। এছাড়াও সেখানে জালিয়াতি করা শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করেছে সাক্ষাৎকার বোর্ড, যেখানে সাত জন সদস্য ছিলেন, সেখানে নির্দিষ্ট দুইজন শিক্ষক কীভাবে অগ্রণী ভূমিকা পলন করলেন সেটাও বোধগম্য নয়।

৪/ ২ জানুয়ারি সাক্ষাৎকার নিয়ে সেদিনই রাত ১০টায় বিষয় বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এবং পরের দিন ৩ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিক ছিল না।

১৮ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে প্রথম মেধা তালিকা থেকে ভর্তি করানোর পরেই ২০ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটে পরবর্তী ২/৩ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে সাক্ষাৎকার ও ভর্তির বিষয়টি প্রকাশ করা হয়।

এমনকি বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি হতে কত টাকা প্রয়োজন সেটিও জানিয়ে দেয়া হয়। সুতরাং এ বিষয়ে অভিযোগ তুলে মানুষকে বিভ্রান্ত করাটাও উদ্দেশ্যমূলক এবং দূরভিসন্ধিমূলক বলে মনে করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এগুলো ছাড়াও ভিসি একটি অনুষদের ডিন এবং দুইটি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে সে বিষয়ে প্রশাসনের বক্তব্য হলো তিনি নতুন করে উক্ত পদে অধিষ্ট হননি।

পূর্ববর্তী ধারাবাহিকতা রক্ষা করতেই ভিসি হিসেবে তাঁকে এসব দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়েছে। তিনি যোগদানের পর থেকেই অন্যান্য দায়িত্বও পর্যায়ক্রমে সংশ্লিষ্ট যোগ্য ব্যক্তিদের হস্তান্তর করেছেন। সুতরাং এক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটবে না।

 


ঢাকা, ৬ জানুয়ারী (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।