প্রোভিসি ছাড়াই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে রুয়েট


Published: 2017-11-05 22:27:22 BdST, Updated: 2017-11-19 05:35:50 BdST

মনিরুল ইসলাম নাঈম,রাবি: প্রো-ভিসি ছাড়াই রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) চলছে। এতে করে প্রশাসনিক কাজে র গতি হারাচ্ছে ওই প্রতিষ্ঠান। কিছুতেই আমলে নিচ্ছে না শিক্ষামন্ত্রনালয়। ফলে নানান সমস্যায় দিন কাটাচ্ছে রুয়েট।

দীর্ঘ তিন বছর ধরে শূন্য পড়ে আছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি পদ। এ তিন বছরেও কাউকে নিয়োগ পদটিতে কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি।

পদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কারও যোগ্যতা নেই নাকি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের অনীহায় পদটি পূরণ হচ্ছেনা তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধূম্রজাল।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়. সর্বশেষ প্রো-ভিসি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিকাল ও ইলেকট্রনিক বিভাগের অধ্যাপক মর্তুজা আলী।

২০১০ সাল থেকে ২০১৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত এই ৪ বছর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এর পর থেকে গত তিন বছরে এ পদে কাউকেই নিয়োগ দেয়া হয়নি।

পদটি শূন্য পড়ে থাকা সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ দাবি করছেন, ভিসির অনীহা, পছন্দমত লোক না পাওয়া এবং সর্বোচ্চ পদ ভিসি পদ প্রাপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ শিক্ষকদের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব এরকম কয়েকটি বিষয় পদটি পূরণের বাধা হয়ে দাড়িয়েছে।

তাছাড়া ভিসি, প্রোভিসি দুইটি প্যানেলে বিভক্ত হওয়ার ভয়ে পদটি পূরণ করতে চাইছে না প্রশাসন বলে জানাচ্ছেন অনেকে।

প্রোভিসি না থাকায় এক তরফা প্রশাসন পরিচালনা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা ও গøাস এন্ড সিরামিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. শামিমুর রহমান।

তিনি বলেন, প্রশাসনের দূর্নীতির বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে পারছে না। প্রোভিসি নিয়োগ হলে তিনি প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দাড়তে পারেন এই ভয়ে নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করছেনা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসন। উপর মহলে আমরা যোগাযোগ করলে বলছে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসন চাইলেই আমরা নিয়োগ দিব। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসন দায় চাপাচ্ছে আচার্য বা সরকারের উপর।

বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের সাবেক এই কর্তাব্যক্তি অভিযোগ করেন, এখন নিয়োগ হলে সরাসরি আওয়ামী লীগ হতে প্রোভিসি নিয়োগ হবে। আর ভিসি বিএনপি প্যানেল থেকে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন করেছেন।

প্রোভিসি বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমান প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা কর্তাব্যক্তিরা।

পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক আব্দুল আলীমের কাছে উপ-উপাচার্য বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এবিষয়ে জানতে হলে শিক্ষা মন্ত্রনালয়, প্রধানমন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করুন। আমরা কম জ্ঞানী মানুষ কিছু বলতে পারব না।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি শাহানেওয়াজ সরকার সেডু বলেন, যদিও পদটিতে সরকার নিয়োগ দেন। তবু আগামী বছরের মার্চ এপ্রিলের দিকে বর্তমান উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে।

এর মধ্যে তিনি চাচ্ছেন না যে উপ-উপাচার্য পদটি পূরণ হোক। হয়তো পদকে কেন্দ্র করে দুইটি প্যানেলে বিভক্ত হওয়ার আশংকা করছেন উপাচার্য।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল আলম বেগ বলেন, শুধু রুয়েট নয় কুয়েট, চুয়েটেও উপ-উপাচার্য পদটি ফাঁকা।

 

ঢাকা, ০৫ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।