রাবির ভর্তি পরীক্ষার হলে তিন শিক্ষার্থীকে কর্মচারী বানালেন প্রক্টর!


Published: 2017-10-25 19:48:30 BdST, Updated: 2017-11-24 06:15:56 BdST


রাবি লাইভ: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীকে সহায়ক কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করিয়েছেন প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. লুৎফর রহমান। বুধবার বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘সি’ ইউনিটের তিনটি শিফটের পরীক্ষায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিজ্ঞান ভবনের তিনটি কক্ষে এঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়। তাদেরকে নিজ ক্ষমতাবলে দায়িত্ব দেন প্রক্টর।

শিক্ষার্থীরা হলেন- আব্দুর রহমান, জাকির হোসাইন ও সোহেল রানা। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের বিভাগ গণিত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। ওই তিন শিক্ষার্থী দায়িত্ব পালনের কথা স্বীকার করে বলেন, দায়িত্ব পালনের জন্য তারা প্রতি শিফটে ৫০০ টাকা করে পেয়েছেন।

প্রক্টরের দাবি- ‘ওই শিক্ষার্থীরা খুব গরিব। তাদেরকে আর্থিকভাবে কিছুটা সহায়তা করার জন্য সহায়ক কর্মচারীর দায়িত্ব দেয়া হয়।’ তবে সিনিয়র শিক্ষকরা বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূত কাজ’।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সি ইউনিটের ১ম শিফট, সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা দ্বিতীয় এবং সাড়ে ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত তৃতীয় শিফটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিজ্ঞান ভবনের ৩৩৪ নম্বর কক্ষে জাকির হোসাইন, তৃতীয় বিজ্ঞান ভবনের ৪২৪ নম্বর কক্ষে আব্দুর রহমান এবং ৪২৫ নম্বর কক্ষে সোহেল রানাকে দায়িত্ব দেয়া হয়। দায়িত্ব হিসেবে তারা পরীক্ষার কক্ষে থাকা শিক্ষকদের সঙ্গে থেকে প্রশ্নপত্র, উত্তরপত্র আনা নেয়া এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির খাতায় স্বাক্ষর করানোর কাজ করেন।

পরীক্ষা হলে দায়িত্ব পালনকারী পরিসংখ্যান বিভাগের সভাপতি প্রফেসর আইয়ুব আলী বলেন, ‘পরীক্ষা হলে তাদেরকে প্রক্টর সহায়ক কর্মচারী পরিচয়ে ঢুকিয়েছে, কিন্তু তারাতো ছাত্র ছিল। তারপর তাদেরকে দিয়ে খাতায় সাক্ষর করা থেকে শুরু করে অন্যান্য কাজ করানো হয়েছে, এক কথায় কর্মচারী কাজ। যা আইনের লঙ্ঘন।’

জানতে চাইলে প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘মানবিক কারণে ওই তিন ছাত্রকে কিছুটা আর্থিক সহায়তা করার জন্য এই দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। অন্যকিছু নয়। তারা ভালোভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয় নি।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষক বলেন, ‘দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফান্ড রয়েছে। সেখান থেকে তাদেরকে সহায়তা করা যেতে পারে। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষায় সহায়ক কর্মচারীর দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের দিয়ে পালন করিয়ে প্রক্টর মহোদায় চরমের ‘কান্ডজ্ঞানহীনতার’ পরিচয় দিয়েছেন। তিনি কোনোভাবে এটা করতে পারেন না।’[

রাবি প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ‘আমি এখনও বিষয়টি শুনি নি। যদি এটি হয়ে থাকে, তবে তা চরম অন্যায় ও খারাপ হয়েছে। দরিদ্র ছাত্রদের সহায়তার জন্য আমাদের অনেক ফান্ড আছে। সেখান থেকে দেয়া যেতে পারে, তাই বলে পরীক্ষার হলে কাজে পাঠিয়ে নয়। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব।’

 

ঢাকা, ২৫ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমএইচ

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।