বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা, প্রেমিকার লাশ ঝুলন্ত!


Published: 2017-10-25 13:31:15 BdST, Updated: 2017-11-19 05:36:49 BdST

রাজশাহী লাইভ : পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সুমাইয়া নাসরিনকে হোটেল কক্ষে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। আর তার প্রেমিক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মিজানকে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। দেড় বছর আগে রাজশাহীর হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনালে এমন ভয়ঙ্কর নৃশংসতা হয়েছে। হোটেল কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া প্রেমিক যুগলের ওই খুনের ঘটনায় এক খুনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জোড়া খুনে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে আসামি বোরহান কবীর উৎস।

জানা গেছে, রাজশাহীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক কুদরত-ই-খুদা তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন সোমবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) উপ-পরিদর্শক মুহিদুল ইসলাম জানান, ওই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে উৎস বলেছে বন্ধুদের প্ররোচনায় সে এ ভয়ংকর অপরাধ করেছে। রাজশাহী সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শেষবর্ষের ছাত্র উৎসের (২৫) বাড়ি নাটোরের লালপুর উপজেলা সদরে। তার বাবার নাম শফিউল কালাম।

জানা গেছে, গত বছর ২২ এপ্রিল হোটেল নাইসের একটি কক্ষ থেকে মিজানুর রহমান মিজান ও সুমাইয়া নাসরিনের লাশ উদ্ধার করা হয়। মিজানের লাশ ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝোলানো এবং সুমাইয়ার লাশ ছিল বিছানায় শোয়া অবস্থায় ছিল। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন মিজান। আর সুমাইয়া ছিলেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। হত্যাকাণ্ডের পর নাইস হোটেল কর্তৃপক্ষ প্রচার করে, দুই তরুণ-তরুণী আত্মহত্যা করেছেন। তবে ঘটনার পর দিন সুমাইয়ার বাবা আব্দুল করিম বাদী হয়ে নগরীর বোয়ালিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করেন বোয়ালিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সেলিম বাদশা।

আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে সেলিম বাদশা বলেন, যৌন নির্যাতনের পর সুমাইয়াকে হত্যা করার পর মিজান আত্মহত্যা করেছে। এ প্রতিবেদন সুমাইয়ার বাবা প্রত্যাখান করায় পিবিআই ফের মামলাটির তদন্ত শুরু করে। সম্প্রতি মোবাইল ফোন ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে শনাক্ত করে সংস্থাটি।

এ বছর ১৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন- পাবনার ফরিদপুর থানার জন্তিহার গ্রামের এনামুল হকের ছেলে আহসান হাবিব ওরফে রনি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাহাত মাহমুদ, রাজশাহী কলেজের ছাত্র আল-আমিন এবং বোরহান কবির উৎস। পরদিন তাদের আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় রনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তবে বাকিরা ওই দিন আদালতে স্বীকারোক্তি দিতে চাননি। এ কারণে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ড শেষে সোমবার তাদের আদালতে তোলা হয়। এ সময় উৎস স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তবে বাকিরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি।

এর আগে রনি বলেন, তারা সবাই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। রাহাত মাহমুদের সঙ্গে সুমাইয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে মিজানুরের সঙ্গে নতুন করে তার প্রেমের সম্পর্ক হয়। এ নিয়ে রাহাত ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পরে এঘটনার জেরেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।


ঢাকা, ২৫ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।