''ইউজিসির তদন্ত প্রতিবেদন পক্ষপাতমূলক''


Published: 2020-10-25 19:35:28 BdST, Updated: 2020-11-29 05:03:28 BdST

রাবি লাইভঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান তাঁর বিরুদ্ধ বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) গঠিত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনকে ‘একপেশে’ এবং ‘পক্ষপাতমূলক’ আখ্যায়িত করে আনীত অভিযোগসমুহ প্রমাণের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

রোববার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেন তিনি। এই বিষয়ে বিচারবিভাগীয় তদন্ত দাবি করে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ যথাযথ হলে তা তদন্তে আমার সম্মতি আছে। তবে সেই তদন্ত হতে হবে যথাযথ প্রক্রিয়া/আইনসিদ্ধভাবে গঠিত পক্ষপাতহীন তদন্ত কমিটির মাধ্যমে।

এ বিষয়ে আমি গত ৯ই সেপ্টেম্বর ইউজিসির চেয়ারম্যান মহোদয়কে পত্র দিয়ে জানিয়েছিলাম। আমি আশা করেছিলাম সেই পত্র বিবেচনায় নিয়ে চেয়ারম্যান মহোদয় পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি। বরং আমি মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি ইতোমধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। বলাবাহুল্য প্রতিবেদনটি তাই একপেশে এবং পক্ষপাতমূলক। সুতরাং আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহের বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।

নিয়োগ নীতিমালা শিথিল করে নিজের মেয়ে ও মেয়ের জামাতাকে নিয়োগ দেয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০১৭ সালের নীতিমালা অনুযায়ী প্রায় ২৪টি বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে ৬টি বিভাগে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও কোন মহল থেকে এই নীতিমালা সম্পর্কে কোন আপত্তি বা অভিযোগ উত্থাপিত হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মেনে বিভাগ ও শিক্ষক সমিতির অনুরোধের প্রেক্ষিতে একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে নিয়োগ নীতিমালা প্রনয়ণ করা হলো সেই নীতিমালাকে কীভাবে উপাচার্যের মেয়ে ও জামাতাকে নিয়োগ দেবার উদ্দেশ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে।

এছাড়া, নিজের বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন উপাচার্য এম আবদুস সোবহান। ভিসির পদে বসার জন্যই একটি মহল এ ধরনের অভিযোগ সামনে এনে বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের গত ৪ঠা জানুয়ারি ৬২ জন শিক্ষক এবং দুজন চাকরিপ্রার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত সম্বলিত ৩০০ পৃষ্ঠার একটি অভিযোগপত্র প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন ও ইউজিসিতে দাখিল করে। অভিযোগ পত্রে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, অবৈধ নিয়োগের অভিযোগ আনা হয়েছিল।

পরে প্রধানমন্ত্রীর দফতর ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অভিযোগগুলো তদন্তে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক দিল আফরোজা বেগমকে আহ্বায়ক করে, ইউজিসি একটি কমিটি গঠন করে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত কমিটি উভয় পক্ষের বক্তব্য উপস্থাপনে উন্মুক্ত শুনানির ও আয়োজন করে।

তদন্ত শেষে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনে সুপারিশসহ সর্বমোট ৭৩৬ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি । যেখানে ৩৬ পৃষ্ঠার মূল প্রতিবেদন এবং ৭০০ পৃষ্ঠার সংযোজনী প্রতিবেদন রয়েছে। তদন্তে উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অন্যদের বিরুদ্ধে ২৫টি অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে জানায় ইউজিসি।

ঢাকা, ২৫ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।