"সরকার করোনা মোকাবেলায় চরমভাবে উদাসীন"


Published: 2020-04-12 17:07:33 BdST, Updated: 2020-05-31 17:03:08 BdST

রাশেদ রাজন: সরকার করোনা মোকাবেলায় চরমভাবে উদাসীন বলে দাবি করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোটকাগজ পত্রিকার সংগঠনের " উত্তরণ লেখক ও পাঠকের সূতিকাগার" সাধারণ সম্পাদক সোহাগ সিকদার। রবিবার বিকেলে এক লিখিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এবিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

লিখিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে সরকারের দৃশ্যমান চূড়ান্ত অব্যবস্থাপনা এবং চলমান অনিয়ম, ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে এবং করোনা সচেতনাতায় উত্তরণ লেখক ও পাঠকের সূতিকার# এর অনলাইন মুভমেন্ট।

পৃথিবী ব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস বাংলাদেশেও ছড়াচ্ছে জ্যামিতিক হারে। প্রতিদিন বাড়ছে মৃতের সংখ্যা, বিশ্বব্যাপী চলছে লাশের মিছিল! পৃথিবীর কোথাও এখনও করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের ওষুধ, টিকা বা চিকিৎসা পদ্ধতি আবিস্কার হয় নি। তবে চিকিৎসক, গবেষকরা করোনা প্রতিকারে নিরসলভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

প্রযুক্তি, দক্ষতা ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধিশালী দেশগুলো যখন করোনা উৎকন্ঠায় বিধ্বস্ত তখন বাংলাদেশের সরকার করোনা মোকাবেলায় চরমভাবে উদাসীন এবং দেখা যাচ্ছে করোনা দুর্যোগের সময়ও এক শ্রেণীর লুণ্ঠনকারী দাম বৃদ্ধি করে তাদের পকেট ভারি করতে ব্যস্ত। জনপ্রতিনিধি হিসেবে যেখানে মানুষের কাছে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়ার কথা সেখানে তাদের অনেকেই অসহায় মানুষদের ত্রাণের চাল চুরি করছে।

শুধু এখানেই শেষ নয়, নিয়মিত চলছে ধর্ষণ, হত্যা, নির্যাতনসহ নানান অপরাধের ঘটনা। এই দুর্যোগকালীন অবস্থায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিয়ে সরকার এবং বিজিএমইএ এর অমানবিক ও নিষ্ঠুরতম আচরণ আমরা প্রত্যক্ষ করছি। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে সরকারের চূড়ান্ত অব্যবস্থাপনা দায়িত্বহীনতা ও ব্যর্থতা প্রকাশিত হচ্ছে।

একের পর এক অপরাধমূলক ঘটনাও ঘটছে। তাই এই সামগ্রিক অনিয়ম, ধর্ষণ, হত্যার প্রতিবাদ ও করোনা সচেতনাতায় #উত্তরণ লেখক ও পাঠকের সূতিকাগার# ১১ এপ্রিল ২০২০, শনিবার, সন্ধ্যা ৭ টা থেকে ১২ এপ্রিল রবিবার দুপুর ৩ টা পর্যন্ত নিজ নিজ ঘর থেকে অনলাইনে প্লাকার্ড বা কাগজে লেখা কিছু দাবির মাধ্যমে অনলাইন মুভমেন্ট আয়োজন।

এই কর্মসূচিতে উত্তরণ এর সদস্যরা বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্লাকার্ড নিয়ে অংশগ্রহন করেন। এছাড়াও নানা শ্রেণী পেশার মানুষ সংহতি জানিয়ে অংশগ্রহন করেন। সংগঠনটির পক্ষ বলা হয় করোনা প্রতিরোধে সরকারকে আরো তৎপর হতে হবে। সংগঠনের নেতা-কর্মীরা জনগনকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানায়।

দাবি ও আহ্বানসমূহ হলো-

জনগণের কাছে আহ্বান:

১. সকলেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবেন ও যথা সম্ভব নিজ গৃহে অবস্থান করবেন।

২. গণজমায়েত পরিত্যাগ করুন।

৩. আশেপাশের দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে আর্থিক ও মানবিক সহযোগিতায় এগিয়ে আসুন।

সরকারের কাছে দাবি:

১. শ্রমজীবী মানুষের খাবারের নিশ্চয়তা প্রদান করে আনুষ্ঠানিকভাবে লকডাউন ঘোষণা করতে হবে।

২. গার্মন্টস শ্রমিকসহ সকল শ্রমিকদের সবেতন ছুটি ও চাকরি না হারানোর নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।

৩. ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী নিশ্চিত করতে হবে।

৪. করোনা রোগী ও সম্ভাব্য আক্রান্তদের জন্য শতভাগ টেস্ট ও প্রয়োজনীয় কিটস নিশ্চিত করতে হবে।

৫. সারা দেশে অস্থায়ী করোনা হাসপাতাল করতে হবে।

৬. ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রদানকৃত ত্রাণ ও চাল চোরদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

৭. চলমান ধর্ষণ ও হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

ঢাকা, ১২ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//আরআর//টিআর

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।