''রোগীকে নিয়ে আগে মেডিকেল সেন্টারে আসুন''রাবি মেডিকেল: সৌজন্যহীনতা নাকি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত?


Published: 2020-04-12 06:35:23 BdST, Updated: 2020-05-31 15:32:24 BdST

রাবি লাইভ: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস নিয়ে বরাবরই নানান অভিযোগ উঠে। সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্তদের আচার-আচরণের ব্যাপারে নানান অভিযোগ লেগেই আছে। তারা নিজেদেরকে ভিন্ন প্রজাতির প্রাণী বলেও জাহির করেন মাঝে মধ্যে। নিজেদের ভাবেন এলিট শ্রেণীর মানুষ। এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী অনেকেরই। সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কনক পুরকায়েস্থ তার ফেসবুক আইডিতে এক স্ট্যাটাস দিয়েছে। পাঠকদের জানার স্বার্থে তা তুলে ধরা হলো।

''রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের অ্যাম্বুলেন্স সেবা কার জন্য? বিশ্বব্যাপী নোবেল করোনা ভাইরাস মহামারী রূপ ধারণ করায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশ ও কার্যত লকডাউনে রয়েছে। সকলেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সতর্কতা অবলম্বনপূর্বক নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছেন।

এমতাবস্থায় জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রমে নিয়োজিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের একটি বিষয় আজ আমার নিকট মনোবেদনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক ও বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জরুরি চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হয়।

জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের ক্যাম্পাসের বাইরে সরকারি মেডিকেল কলেজ বা বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে জরুরির ভিত্তিতে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য রয়েছে জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা। বর্তমানে শিক্ষার্থীগণ করোনা সতর্কতা জনিত জরুরি ছুটির কারণে নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করায় মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসকদের ওপর কোনো চাপ নেই বললেই চলে।

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, আজ ১১ এপ্রিল ২০২০ (শনিবার) সকাল ১০.০০ টায় আমাদের একজন সহকর্মী (শিক্ষক) বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে জরুরি ভিত্তিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবার জন্য ফোন করেন।

উল্লেখ থাকে যে, তার সহধর্মীনী সন্তান সম্ভবা এবং গর্ভকালীন অবস্থার ৯ মাস চলছে। এমতাবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার জটিলতা জনিত কারণে ক্যাম্পাসের বাইরে গাইনি ডাক্তারের কাছে জরুরি ভিত্তিতে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন অনুভূত হয়।

উল্লেখ প্রয়োজন যে, উক্ত সহকর্মীর বর্তমান আবাস বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটকের অনতিদূরে প্রধান সড়কের ওপারে, কাজলা এলাকায়। জরুরি ভিত্তিতে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ফোন করা হলে দায়িত্বরত মেডিকেল কর্মকর্তা অ্যাম্বুলেন্স পাঠাতে অসম্মতি জ্ঞাপন করেন।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে বার বার ফোন করা হলে তিনি অসহযোগিতামূলক কথা বলেন। তিনি বলেন, করোনা জনিত কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থানরত কাউকে সেবা দেবে না।

পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ার কারণে মাননীয় প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. লুৎফর রহমানের মাধ্যমে প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তাকে ফোনে বিষয়টি জানানো হয়। প্রক্টর স্যার উক্ত সহকর্মীকে আশ্বস্ত করেন যে কিছুক্ষণের মধ্যেই অ্যাম্বুলেন্স যাবে। রাস্তায় অপেক্ষমান উক্ত সহকর্মী বিষয়টি পুণরায় দায়িত্বরত মেডিকেল কর্মকর্তাকে জানিয়ে জরুরি ভিত্তিতে অ্যাম্বুলেন্সটি পাঠাতে অনুরোধ করেন।

উক্ত কর্মকর্তা তখন তাকে বলেন, রোগীকে নিয়ে আগে মেডিকেল সেন্টারে আসুন, তারপর যদি প্রেফার করার মতো হয় তবে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস দেব। এই বলে তিনি লাইনটি কেঁটে দেন। বিষয়টি প্রক্টর স্যারকে পুণরায় অবহিত করলে তিনি বিব্রত ও অসহায়তাবোধ করেন। প্রশ্ন হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের সাথে চিকিৎসা কর্মকর্তার এহেন অযৌক্তিক আচরণ কি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক অনুমোদিত?

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কনক পুরকায়েস্থ এর স্ট্যাটাস

 

করোনা সমস্যার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক কি এমন বিশেষ কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে? করোনা পরিস্থির কারণে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থানরত বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের কোনো সদস্য কি জরুরি চিকিৎসা সেবা পাবেন না?

বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক মাননীয় উপাচার্য এবং মাননীয় উপ-উপাচার্য মহোদয় দ্বয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

ঢাকা, ১২ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।