রাবিতে সকল দুর্নীতির তদন্ত ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন


Published: 2020-01-26 16:19:56 BdST, Updated: 2020-02-17 11:04:13 BdST

রাবি লাইভঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) গত প্রশাসন প্রফেসর ড. মিজানউদ্দিনের আমলে শহীদ বুদ্ধিজীবি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা ও দুর্নীতি, ঢাকাস্থ অতিথিভবন ক্রয়ে ১০ কোটি টাকার দুর্নীতসহ সকল প্রকার দুর্নীতির তদন্ত ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে।

রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের ব্যানারে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুল্যবোধে বিশ্বাসী শিক্ষক সমাজের আহবায়ক প্রফেসর ড. মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের প্রফেসর কাজী জাহিদুর রহমান বলেন, গত প্রশাসনের আমলে বুদ্ধিজীবি স্মৃতিফলক নির্মাণ, কফিশপ নির্মাণ, ঢাকাস্থ অতিথি ভবন নির্মাণে ভয়াবহ দুর্নীতি করলেও যাদের বিচার করতে পারিনি, ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারিনি তারাই আজকে একটি সুশৃঙ্খল একাডেমিক পরিবেশ নষ্ট করার উদ্দেশ্যে প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলছে। এই দুর্নীতিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নজীর স্থাপন করার দাবি করেন তিনি।

শাহ মখদুম হলের প্রাধ্যক্ষ প্রফেসর আরিফুর রহমান বলেন, বরাবরই বাহু শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে দুর্নীতিপরায়ন কিছু শিক্ষক নিজেদের দুর্নীতি ঢাকতে এই প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে। এর আগে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনেও তারা বাধা দেয়। আর গ্রামের হাটবারের মতো সপ্তাহে দুইদিন দাড়িয়ে ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার পায়তারা করছে।

শিক্ষকরা বলেন, গত প্রশাসনের আমলে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার নাম করে কোটি কোটি টাকা নাই হয়ে গেছে। আজ পর্যন্ত স্মার্টকার্ডের কোনোরকম ব্যবহার ও উপকারিতা পাইনি শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। আর আজকে যিনি দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষকদের ব্যানারে প্রধান তার নামেও ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপে প্রায় পৌনে এক কোটি টাকা অনিয়মের অভিযো আছে। সেটিও তদন্তাধীন।

ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর হাসিবুল আলম প্রধান বলেন, প্রধানমন্ত্রী খোজ খবর নিয়েই বর্তমান ভিসিকে দ্বিতীয়বারের মতো ভিসি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবেই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত কিছু মহল।

মানববন্ধনে সমাজকর্ম বিভাগের প্রফেসর রবিউল ইসলাম, বাংলা বিভাগের প্রফেসর সুজিত সরকার, সুমাইয়া খানম, ইতিহাস বিভাগের প্রফেসর চিত্তরঞ্জন মিশ্র, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর তারেক নূর প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. লুৎফর রহমান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বাবুল ইসলাম, জনসংযোগ প্রশাসক প্রফেসর ড. প্রভাষ কুমার কর্মকার, প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সদস্য সচিব প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে সঞ্চালনা করেন প্রফেসর আব্দুল গণি। মানববন্ধনে প্রায় দুই শত শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে সকালে ক্রপ সায়েন্স বিভাগের নিয়োগ বোর্ড অবৈধ দাবি করে ভিসি বাসভবনের সামনে প্লাকার্ড হাতে অবস্থান নেন দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষক সমাজের কয়েকজন শিক্ষক।

ঢাকা, ২৬ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।