রাবি: '১১ হাজার টাকায় কলম ক্রয়ের ঘটনা কাল্পনিক'


Published: 2020-01-09 00:10:30 BdST, Updated: 2020-08-14 10:33:01 BdST

রাবি লাইভঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের উন্নয়ন প্রকল্পে ১১ হাজার টাকায় দুটি কলম ক্রয়ের বিষয়টি কাল্পনিক বলে দাবি করেছেন অভিযোগ ওঠা প্রফেসর ড. সফিকুন্নবী সামাদী। বুধবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ দাবি করেন।

প্রফেসর সামাদী প্রকল্পের টাকায় গ্রন্থাগারের উন্নয়নে অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন এমন সংবাদ গতকাল মঙ্গলবার বেশকিছু গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়। তবে সংবাদ সম্মেলনে প্রফেসর সামাদী দাবি করেন, ‘গ্রন্থাগারের উন্নয়ন প্রকল্পে ১১ হাজার টাকায় যে দু’টি কলম ক্রয়ের একটি কাল্পনিক গল্প বলা হয়েছে। এ ধরনের কোনো কলম ক্রয় করা হয়নি। তাই এর খরচ দেখানোর কোনো প্রশ্নই আসে না।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই প্রফেসর বলেন, ‘প্রকল্পের কাজে যেসব বলপেন ক্রয় করা হয়েছে সেগুলোর দাম সর্বোচ্চ দশ থেকে বিশ টাকা। আর মাঝেমধ্যে যেসব জেলপেন ক্রয় করা হয়েছে সেগুলোও প্রতিটি সর্বোচ্চ পঞ্চাশ টাকা মূল্যের।’

প্রফেসর সামাদী বলেন, ভিসি দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্বে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে যোগ্যতা কমিয়ে নিজের মেয়ে ও জামাতাকে নিয়োগ দিয়েছেন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ অপচয় করেছেন, সম্প্রতি প্রো-ভিসি চৌধুরী মো. জাকারিয়ার নিয়োগ বাণিজ্যের অডিও ফাঁস হয়েছে।

এসব অনিয়মের প্রতিবাদে শিক্ষকদের একাংশ বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। এই আন্দোলনে আমিও যুক্ত। সম্প্রতি আমরা ভিসির দুর্নীতির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও দুদকে অভিযোগ পাঠিয়েছি। তাই ভিসি প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে আমার বিরুদ্ধে এরকম ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, গ্রন্থাগারের সকল কার্যক্রম ও সেবার উন্নয়নের লক্ষ্যে হেকেপ’র (হায়ার এডুকেশন কোয়ালিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট) অর্থায়নে ২০১৪ সালের ১ জুলাই ‘অটোমেশন অ্যান্ড ডিজিটালাইজেশন অব রাজশাহী ইউনিভার্সিটি সেন্ট্রাল লাইব্রেরি’ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ওই সময় গ্রন্থাগারের প্রশাসকের দায়িত্বে ছিলেন প্রফেসর সামাদী। তবে ২০১৭ সালের ১৪ জুন প্রফেসর সামাদী গ্রন্থাগার প্রশাসকের দায়িত্ব ছেড়ে দেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রফেসর সামাদী বলেন, গ্রন্থাগারের প্রশাসক হিসেবে ওই সময়ে আমি প্রকল্পটির সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজারের দায়িত্ব গ্রহণ করি। প্রকল্পটি সফলভাবে সম্পন্নও হয়। কিন্তু বর্তমান ভিসি প্রফেসর আব্দুস সোবহান দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই আমাকে প্রশাসক থেকে পদত্যাগে বাধ্য করেন এবং সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার থেকে পদত্যাগের মৌখিক নির্দেশ দেন।

ওই সময় দু’টি স্থানীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে ভিসি ২০১৭ সালের ১৭ জুন সিন্ডিকেটের ৪৭১তম সভায় আমার বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। পরে হেকেপ থেকেও ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রকল্পের যাবতীয় কাগজপত্র তদন্ত করেন। প্রকল্পের কাজে কোনো আর্থিক বা প্রক্রিয়াগত অনিয়ম হয়নি বলে প্রতিনিধি দল তাদের রিপোর্টে উল্লেখ করেন।

এরপরও বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠিত কমিটি তাদের তদন্ত চালিয়ে যায়। এই কমিটি গত বছরের ৫ মে ৪৯০তম সিন্ডিকেট সভায় ভিসির কাছে তাদের রিপোর্ট উত্থাপন করেন। কিন্তু রিপোর্টটি ভিসির মনপুত না হওয়ায় ভিসি ওই সভাতেই আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। যেখানে হেকেপ কোনো অনিয়ম পায়নি সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কমিটি দিয়ে তদন্ত চালানো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক।

এই প্রফেসর আরো বলেন, গ্রন্থাগারের সেবা উন্নয়নে ট্রান্সটাইল গেইট, সেল্ফ চেক মেশিন, বুক ড্রপ মেশিন, জেনারেটরসহ যাবতীয় যন্ত্রপাতি স্থাপনের পর তা ভিসির প্রতিনিধি দলের কাছে চালু করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর যেই প্রজেক্ট কমপ্লিশন রিপোর্ট তৈরি করি সেটাও ভিসি অনুমোদন করে হেকেপে প্রেরণ করেন।

কিন্তু ভিসি আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশে এসব যন্ত্রাংশ এখনও চালু করছেন না।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে সুলতান-উল-ইসলাম, এসএম এক্রাম উল্যাহ, মিজানুর রহমান, মোস্তফা তারিকুল আহসান, বিশ্বজিৎ চন্দ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা, ০৮ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।