শাক দিয়ে মাছ ঢাকতেই আন্দোলন, ভর্তায় বড়শি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত


Published: 2019-10-07 23:44:08 BdST, Updated: 2019-12-16 00:24:22 BdST

রাশেদ রাজনঃ ডাইনিংয়ের মাছ ভর্তায় ‘মাছ ধরা বড়শি পাওয়ার অভিযোগে’ গত ২০ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) দুপুরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আব্দুল লতিফ হলের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে আন্দোলন করেছিলেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনের এক পর্যায়ে হল অভ্যন্তরে চেয়ার, সিসিটিভি ক্যামেরা, বেসিন ও ডাইনিং ভাঙচুর করে আন্দোলনকারী। হল কতৃপক্ষের দাবি এতে প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। অনুসন্ধান ও তদন্ত প্রতিবেদন বলছে, ভর্তায় ‘মাছ ধরা বড়শি পাওয়ার অভিযোগে’ আন্দোলনটি পুরোটি সাজানো।

তবে কেন তাদের এই আন্দোলন? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁতে গিয়ে দেখা যায়, গত ৭ আগস্ট হল বন্ধের আগের দিন লতিফ হলের পশ্চিম-উত্তর ব্লকের পশ্চিমের জানালার গ্রিলসহ ২ ইঞ্চির ২০ ফিট লম্বা ৪টি লোহার পাইপ চুরি হয় যার বাজার মূল্যে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা,

কোটি টাকার কন্সট্রাকশনের কাজের ঠিকাদারদের কাছ থেকে ভাগ না পাওয়া, অবৈধ সিট বাণিজ্যের সুযোগ না পাওয়া, শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপ চুরিগুলোকে আড়াল করতেই মূলত তাদের এই সাজানো আন্দোলন। এযেন শাক দিয়ে মাছ ঢাকা এমনটাই মনে করছে হল সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে ভর্তায় ‘মাছে ধরা বড়শির’ বিষয়ে হলের আবাসিক শিক্ষক, সাইফুর রহমানকে আহ্বায়ক, ড. আব্দুল হালিম এবং ড. ছালেকুজ্জামান খান কে সদস্য করে একটি তদন্ত কমিটি করে দিয়েছিলেন প্রক্টর প্রফেসর ড. লুৎফর রহমান। এই কমিটির প্রতিবেদন বলছে,

ঘটনায় অভিযোগকারী শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন তদন্ত কমিটির কাছে দাবি করেছেন বড়শিটি ভর্তার মধ্যে ছিল। তা দিয়ে খাওয়ার সময় ৩য় লোকমায় তার মুখে চলে আসে। তদন্ত কমিটিকে তিনি জানিয়েছেন এতে তার মুখে কোন ধরনের আঘাত বা ক্ষত হয়নি।

এদিকে মাছ ভর্তা করার সাথে জড়িত কর্মচারীদের তদন্ত কমিটিকে দেয়া ভাষ্য বলছে ভিন্ন কথা। তদন্ত কমিটির ভাষ্য মতে ১.১ ইঞ্চির বড় একটি বড়শি ভর্তাতে (হাত দিয়ে মাছ টুকরো করা, পরিষ্কার করা, তেলে ভাজা এবং শিল-পাটায় পেস্ট করা) এই প্রক্রিয়ায় দেখা যাওয়ার কথা।

অথবা হাত দিয়ে মিশ্রণ করা, পরিবেশনের জন্য গোলাকার পিছ করার সময় হাতে বেধে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু তা হয়নি। এমনকি তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে সে বড়শি কোনভাবে বিকৃতও হয়নি। সার্বিক বিশ্লেষণে তদন্ত কমিটি মনে করে মাছ ভর্তায় বড়শি পাওয়ার ঘটনা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভর্তায় বড়শি পাওয়ার অভিযোগ তুলেন মো. ইমরান হোসেন আর আন্দোলনে যাদের নেতৃত্বে দিতে দেখা যায়, ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র শাহরিয়ার সজল (সিট বাণিজ্যের সাথে জড়িত) ও মাসুম, বোটানির আব্দুল্লাহ আল মামুন নির্ঝর (সিসি ক্যামেরা ভাঙ্গার সাথে জড়িত), লোক প্রশাসনের মাস্টাসের শিক্ষার্থী আবু বকর খান, গণিতের অমিত মন্ডল, রাজিব। এর সকলেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত।

লতিফ হলের প্রভোস্ট অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর ড. একরাম হোসেন বলেন, এবিষয়ে আন্দোলনকারীরা যে দাবিগুলো জানিয়েছিল সেগুলো আমি দায়িত্ব নেয়ার পরেদিন থেকে কাজ শুরু করেছি।

এর মধ্যে হলের ১২-১৩টি প্রজেক্টের কাজ এখনো চলমান। মূলত আমার এই কাজগুলোকে বাঁধাগ্রস্ত করতেই এই আন্দোলন।

হলে গিয়ে দেখা যায়, দ্রুত গতির ইন্টারনেট সংযোযন করা হয়েছে (১২ টি অ্যাকসেস পাওয়ার পয়েন্ট), বাতরুমের দরজা-জানালা সংস্কার, বিভিন্ন রুমের নতুন-দরজা লাগানো, ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে যেটা এর আগে কখনো হলে ছিল না, গভীর নলকুপ (সাবমারসিবল পাম্প) বসানো হয়েছে।

তাছাড়া চলমান রয়েছে, তৃতীয় তলার উত্তর ব্লকের নতুন ছাদ তৈরীর কাজ, ১৯ টি বাথরুমে টাইলস বসানো, আধুনিক অতিথি কক্ষ তৈরী, প্রভোস্ট রুম-ওজু খানায় টাইলস বসানো, বঙ্গবন্ধু পাঠাগার তৈরীর কাজ। প্রস্তাবিত কাজের মধ্যে রয়েছে রিডিং রুম তৈরী, হলের অডিটোরিয়াম আধুনীকরণ, মসজিদ সংস্কার, পুরো হল রং করা, তৃতীয় তলার পূর্ব ব্লকের নতুন ছাদ তৈরীর কাজ।

সাধারণ শিক্ষার্থীর কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, স্যার আসার পর থেকে হলে ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে। বিগত দুই প্রভোস্ট হলের দায়িত্ব পালন করলেও তারা নূন্যতম কোন কাজ করেনি। কিন্তু স্যার দায়িত্ব নেয়ার একমাসের মাথায় দ্রুত গতির ইন্টারনেট সংযোযন করাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূল কাজ হাতে নিয়েছে। যার মাধ্যমে হল পুরনো ঐতিহ্য ফিরে পাবে বলে আমরা আশাবাদী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন আবসিক শিক্ষার্থী জানান, কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতার কারণে হলের উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। এই নেতাদের মধ্যে নির্ঝর, শাহরিয়ার সজল ছিট বাণিজ্য, চাঁদাবাজির সাথে জড়িত।

লতিফ হল ছাত্রলীগের নেতা শাহরিয়ার সজল ও নির্ঝর দাবি করেন, হল প্রভোস্ট নিজের গাফিলতি এবং আরো অনেক গাফিলতি ঢাকার জন্য এমন শিক্ষকদের দিয়ে এমন তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করিয়েছেন।

ঢাকা, ০৭ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।