রাবির সমাবর্তনে অংশ নিচ্ছে না অর্ধেকের বেশি গ্র্যাজুয়েট


Published: 2019-09-17 17:08:05 BdST, Updated: 2019-10-14 15:07:12 BdST

রাবি লাইভ: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) অনুষ্ঠেয় একাদশ সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করছেন না অর্ধেকেরও বেশি গ্রাজুয়েটরা। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে পিএইচডি, এমফিল, স্নাতকোত্তর, এমবিবিএস, বিডিএস ও ডিভিএম ডিগ্রি অর্জনকারী আট হাজার ৮১৪জন এবারের সমাবর্তনে অংশ নেয়ার সুযোগ পেলেও নিবন্ধন করেছেন মাত্র তিন হাজার ৪৩৮ জন গ্র্যাজুয়েট।

ব্যক্তিগত সমস্যার কারণেই অংশ নিতে পারছেন না বলে জানান গ্র্যাজুয়েটরা। তবে কেউ কেউ দাবি করেন, নিবন্ধন ফি অতিরিক্ত হওয়ার কারণে তারা সমাবর্তনে অংশ নিতে পারছেন না। নিবন্ধন ফি কমালে ও নিবন্ধনের সময় বৃদ্ধি করলে সমাবর্তনে অংশ নিতে আগ্রহী বলেও জানান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩০ নভেম্বর একাদশ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে। যাতে সভাপতিত্ব করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ। এবারের সমাবর্তনে ২০১৫ ও ২০১৬ সালে পিএইচডি, এমফিল, স্নাতকোত্তর, এমবিবিএস, বিডিএস ও ডিভিএম ডিগ্রি অর্জনকারীরা অংশ নিতে পারবেন। সমাবর্তনে অংশ নেয়ার জন্য গ্র্যাজুয়েটদের গত ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তিন হাজার ৫৭০টাকা দিয়ে অনলাইনে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এম এ বারী জানান, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে সালে পিএইচডি, এমফিল, স্নাতকোত্তর, এমবিবিএস, বিডিএস ও ডিভিএম ডিগ্রি অর্জনকারীরা গ্র্যাজুয়েটের সংখ্যা আট হাজার ৮১৪জন। এর মধ্যে কলা অনুষদে ১৪০২ জন, আইন অনুষদে ১৬১, বিজ্ঞান অনুষদে ৬৮৫ জন, বিজনেজ স্ট্যাডিজ অনুষদে ৭৭৬, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে ৬২২, জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদে ৬১০, কৃষি অনুষদে ১১৫, প্রকৌশল অনুষদে ২৪৬ জন, চিকিৎসা থেকে ৩৫৯৭ জন পিএইচডি, এমফিল, স্নাতকোত্তর, এমবিবিএস, বিডিএস ও ডিভিএম ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকার জানান, এবারের সমাবর্তনে তিন হাজার ৪৩৮ জন গ্র্যাজুয়েট নিবন্ধন করেছেন। শিক্ষকরা অনলাইন ও অফলাইনে নিবন্ধন করেছে। মঙ্গলবার শিক্ষকদের মোট নিবন্ধন সংখ্যা পাওয়া যাবে।
যারা সমাবর্তনের জন্য নিবন্ধন করেননি তারা কারণ হিসেবে ব্যক্তিগত সমস্যা, নিবন্ধন ফি ‘অতিরিক্ত’সহ বেশ কিছু বিষয় উল্লেখ করেন।

২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী রোকনুজ্জামান রোকন বলেন, ব্যস্ততার কারণে সমাবর্তনের নিবন্ধন করতে পারিনি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি এখন নিবন্ধনের সময় বৃদ্ধি করে তাহলে সমাবর্তনে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবো।

২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সৈকত রহিম জানান, তিনি কোনো এক প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণে অংশ নেয়ায় সমাবর্তনে অংশ নিতে পারছেন না।

২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘পড়াশুনা শেষে এখনো চাকরিতে যোগদান করার সুযোগ হয়নি। যার ফলে নিবন্ধন বাবদ এতো টাকা খরচ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। প্রশাসন থেকে যদি নিবন্ধন ফি কমানো হয় এবং নিবন্ধনের সময় বাড়ানো হয় তাহলে সমাবর্তনে অংশ নেয়া সম্ভব হবে।’

ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।